-->

ইয়েমেনের কান্নায় কর্ণপাত নেই কেন

চারপাশে পেটফোলা হাজার হাজার জীবন্ত কঙ্কালের বিস্ফারিত চোখ দেখে মনে হয় যেন, এখানে এসে মানবসভ্যতার পতন ঘটেছে। এক কাপ দুধ আর একটি রুটি পাওয়াকে বিলাসিতা..

জীবন যেখানে নির্জন, দরিদ্র, কদর্য, বর্বর এবং সংক্ষিপ্ত, সেখানে 'প্রকৃতির রাজ্য' বিরাজ করে। টমাস হবসের সেই প্রকৃতির রাজ্য‌ই যেন গড়ে ওঠেছে ইয়েমেনে। সার্বক্ষণিক দ্বন্দ্ব-কলহ, ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা এখানে মানব বিবেককে করে দিয়েছে স্তব্ধ। নেই কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কাঠামো, ফলে তৈরি হয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ঘটেছে আইনের বিলুপ্তি। সভ্য সমাজের অসভ্যতার নিদর্শন সৃষ্টিকারী এই দুর্ভাগ্যের শুরু এক দশক আগে।
.

ইয়েমেনের কান্নায় কর্ণপাত নেই কেন

আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ অপারেশন ডিসিসিভ স্টর্ম'র মাধ্যমে ইয়েমেনিদের আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রারম্ভ হয় ২০১১ সালের আরব বসন্ত হতে। দীর্ঘ বারো মাস সংগ্রামের পর ২০১২ সালে যবনিকাপাত ঘটে ৩২ বছরের স্বৈরশাসনের। অতঃপর গঠিত হয় পুরনো ধাঁচের নতুন সরকার। ক্ষমতার পালাবদল এবং পুরনো ব্যক্তিদের নতুন মুখোশ পরিধানের সুযোগে বৃদ্ধি পায় বিশৃঙ্খলা। নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে নব্বইয়ের দশকের হুথি আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। ঘাঁটি গাড়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস ও আল-কায়েদা। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আনসার আলীর নেতৃত্বে হুথিরা নতুনভাবে মাথাচাড়া দেয় ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠির ইন্ধন ও ইরানি সমর্থনে। ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ পেয়ে হুথিরা যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরবর্তীতে সমঝোতায় উভয় পক্ষের যৌথ রাষ্ট্রপরিচালনার সিদ্ধান্ত হলেও তা বেশিদিন টিকেনি। ২০১৫ সালে সৌদি জোটের অংশগ্রহণে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ ধ্বংসাত্বক যুদ্ধ।
ইয়েমেনে সৌদি আক্রমন ও শোষণের কাটুন
ইয়েমেনে সৌদি আক্রমন ও শোষণের কাটুন

স্বৈরতন্ত্রের পতনের পরের মাত্রাতিরিক্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বারংবার গৃহযুদ্ধ সংঘটনের পেছনে রয়েছে কিছু কারণ। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসনের অধীনে থাকায় ইয়েমেনে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। তাই বসন্তের হাওয়ায় আকস্মিক পরিবর্তিত গণতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো রক্ষায় সেখানে ছিল না যোগ্য নেতৃত্ব এবং আদর্শিক ভাবধারা। ছিল না সুশীল সমাজের অবস্থান। আব্দুল্লাহ সালেহের পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসন গ্রহণ করে তারই সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদী। এ যেন নতুন খোলসে পুরনো শামুক। বিশৃংখল পরিস্থিতি সামাল দিতে হাদি সরকার যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই সৌদি আরব ইয়েমেনে ধাপে ধাপে ফেরত পাঠায় প্রায় ৪ লক্ষ অভিবাসী। অর্থনৈতিক দৈন্য, আইসিস-আলকায়েদার আধিপত্য বিস্তার, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনৈক্যের ফাঁকে আটকে যায় ইয়েমেনিদের গণতন্ত্রের স্বপ্ন।
.
গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত ইয়েমেনিরা
গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত ইয়েমেনিরা

এমতাবস্থায় আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ইরান সহযোগিতা করে হুতি বিদ্রোহীদের। গোপনে অংশ নেয় চীন এবং রাশিয়া।উদ্দেশ্য বিশ্বে সহজ বাণিজ্যের জন্য খ্যাত কৌশলগত এডেন বন্দরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য। ইরানের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পেয়ে সৌদি আরব দ্রুত জোট গঠন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সচেষ্ট হয়। নয়টি আরব দেশের সমন্বিত সেনাবাহিনী ব্যাপক হামলা শুরু করে। পরিকল্পনা ছিল সপ্তাহ খানেকের তীব্র আক্রমণে হুথিদের পরাজিত করা।
.
.
সেই কয়েক সপ্তাহের পরিকল্পিত যুদ্ধ আজ অর্ধ‌যুগে গড়ালো। শেষ হওয়ার কোন ইঙ্গিত নেই। দশকব্যাপী প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ মারা গেলেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখানে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এসম্পর্কে গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানে অক্সফাম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানায়, সৌদির নিকট ব্রিটেনের অস্ত্র রপ্তানিই ইয়েমেনের যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। মূলত গণতন্ত্রের কথিত ঠিকাদার যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা সবুজ সঙ্কেতেই সৌদি প্রথম হামলা চালায়। ধারণা করা হয়, শাসনামলের শেষে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ওবামা প্রশাসন হামলায় সম্মতি দেয়। কিন্তু সৌদি জোটের বাছ-বিচারহীন বিমান হামলার প্রথম চার সপ্তাহেই ব্যাপক বেসামরিক মৃত্যু হয়। জাতিসংঘের তথ্য মতে, এতে ৬৮০০ ইয়েমেনি নিহত এবং ১০৭০০ এর বেশি আহত হয় এতে, যার অধিকাংশই বেসামরিক। এরপর শুরু হয় 'অপারেশন রিস্টোরিং হোপ'। বিশ্বব্যাপী এসব হামলা ব্যাপক সমালোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সর্বপ্রথম ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সৌদির উপর অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আইন পাশ হয়। পরিস্থিতির চাপে সৌদি মার্কিন সামরিক লেনদেনে ভাটা পড়ে। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় পুরোদমে অস্ত্র রপ্তানি শুরু করে।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনের পতাকা
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাইডেন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর সৌদিতে অস্ত্র বিক্রির আংশিক নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যে আশার সৃষ্টি করেছিল। ব্রিটেন পার্লামেন্টেও অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থায়ীভাবে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করে ইতালি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ অর্থবছরে অস্ত্র বিক্রির তথ্য প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, বিগত বছরের তুলনায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রফতানি কমেছে ২১ শতাংশ, লোকসান হয়েছে ১৩৮ বিলিয়ন ডলার [রয়টার্স]। এই প্রতিবেদনের ঠিক দু'মাস পরই বাইডেন সরকার সৌদির বড় একটি অস্ত্রের চালানের অনুমোদন দেয়। মার্কিনীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে Destroying Yemen গ্রন্থে ইসা ব্লুমি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই সৌদি সামরিক তৎপরতার প্রধান ও কেন্দ্রীয় কারক। লক্ষ্য হতদরিদ্র ইয়েমেনিদের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করে তাদের তেল-গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্দরের দখল নেওয়া।
.
.
ইয়েমেন আক্রমণ ছিল মোহাম্মদ বিন সালমানের(এমবিএস) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বড় পদক্ষেপ। এমবিএস এই অভিযানে অনুপ্রাণিত হন দাদা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ হতে। আবদুল আজিজ বেশ কয়েকবার ইয়েমেনে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন কয়েকটি শহর। এছাড়া চলমান অভিযানের সফলতার সাথে এমবিএসের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠাও জড়িয়ে আছে। ফলে দীর্ঘ ছয় বছরেও এই যুবরাজ যুদ্ধ শেষ করতে না পারলেও পরাজয় বরণ করতে নারাজ। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধে জোটে দেখা দিয়েছে ফাটল। আমিরাত চলছে নিজস্ব পথে।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইয়েমেন রক্ষার আকুতি
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইয়েমেন রক্ষার আকুতি

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আরেকটি কারণ হলো ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান। সৌদি আরবের তেলভিত্তিক অর্থনীতির বিকল্প শ্বাসনালী হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালী। ইরান-আমিরাতের তীর ঘেঁষা প্রচলিত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে রয়েছে ইরানের শক্ত প্রতিরক্ষা বেষ্টনী, যার উপর নির্ভরশীল সৌদি তেল অর্থনীতি। যেকোন সময় ইরান উক্ত প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করলে একমাত্র খোলা পথ হবে মান্দেব প্রণালী। এটি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় থাকা সৌদির সর্ববৃহৎ তেল ক্রেতাদের নিকট তেল রপ্তানি সম্ভব। ফলে এর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সৌদির জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যবহ। । অপরদিকে ইরান চাইছে ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি অর্থনীতিকে ঘিরে ফেলতে। তাই ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক রাজনীতিতে ধারণার চেয়েও বেশি অর্থবহ। ফলস্বরূপ দুই অসুরের এই সীমাহীন প্রতিযোগিতার মাঝে ভুগতে হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জনপদ ইয়েমেনকে।
.
.
সৌদি জোটের সর্বাত্মক অবরোধে ইয়েমেনে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্য সংকট, পুষ্টিহীনতা। ফলে ২০১৭ সালে কলেরার প্রকোপ ইতিহাসের পূর্বের সব সীমা-পরিসীমা ছাড়িয়ে যায়। এরপর শুরু হওয়া করোনার প্রকোপ। দুর্ভিক্ষকে করে তোলে নির্মমতম। টিকার দুর্লভ্যতা পরিস্থিতিকে করে তোলে সঙ্গীন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশকব্যাপী চলা এই সংঘাতে নিহত হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ। গড়ে এক'শ শিশু প্রাণ হারাচ্ছে প্রতিদিন। আহত-নিহতের এক-চতুর্থাংশই অনূর্ধ্ব ১৮। ধ্বংস হয়ে গেছে স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো। অর্ধেকের বেশি শিশু ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। কঙ্কালসার মৃতদেহগুলোতে নেই কোন মাংসের অস্তিত্ব। স্পার্টান এক ক্লিনিকে ১১ বছরের একটি বাচ্চার মৃত্যুকালীন ওজন ছিল মাত্র সাড়ে ৫ পাউন্ড। প্রতি পাঁচ জনের একজন ইয়েমেনি রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। আজ প্রায় দুই কোটি ইয়েমেনির নেই পরবর্তী বেলার খাবারের নিশ্চয়তা। চারপাশে পেটফোলা হাজার হাজার জীবন্ত কঙ্কালের বিস্ফারিত চোখ দেখে মনে হয় যেন, এখানে এসে মানবসভ্যতার পতন ঘটেছে। বর্তমানে ইয়েমেনে এক কাপ দুধ আর একটি রুটি পাওয়াকে বিলাসিতা হিসেবা বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক জিয়র্ট কাপপেলারি এই অবস্থাকে ‘জীবন্ত নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দুর্ভিক্ষে ধুঁকছে শিশুরা
দুর্ভিক্ষে ধুঁকছে শিশুরা

বর্তমান পৃথিবীর সর্বাধিক ভয়াবহ মানবিক সংকটের নিরসনে জাতিসংঘ এবং ওমান কয়েকবার শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করলেও তা বিফলে গেছে। এই বিফলতার পেছনে রয়েছে সৌদি জোট, ইরান, রাশিয়া এবং পশ্চিমাদের আন্তরিকতার অভাব। ফলস্বরূপ দিন দিন পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান ভয়াবহতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। হুথি আন্দোলন পূর্বের তুলনায় এখন অনেকটা শক্তিশালী। ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম সৌদির অভ্যন্তরে বৃহৎ হামলার মাধ্যমে নিজ শক্তির জানান দেয় হুথিরা। দু'টি তেল ক্ষেত্রে করা আঘাত সৌদির তেল উৎপাদন ৫০ শতাংশ হ্রাস করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করে ১৮ শতাংশ। বিগত ১৯ আগস্ট পুনরায় সৌদির ১২০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে বৃহৎ হামলা চালায় হুথিরা। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তেল স্থাপনায় করা এই হামলা বিশ্ব তেল বাজারে কম্পন সৃষ্টি করে। ২৩ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি জোটের মুখপাত্র জানায়, "সৌদি আরবের ভূখণ্ডে গত ৬ বছরে ৪৩০টি মিসাইল ছুঁড়েছে হুথিরা। এ সময়ে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে সাড়ে আটশোরও বেশি"। বিপরীতে সৌদি জোটও এপর্যন্ত প্রায় ২০০০০ বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ৫০ শতাংশই হয়েছে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপর। এভাবেই এখানে নির্মম ইতিহাসের বিস্তৃতি ঘটছে প্রতিনিয়ত।
অধিকাংশ শিশু ভুগছে পুষ্টিহীনতাসহ নান রোগে
অধিকাংশ শিশু ভুগছে পুষ্টিহীনতাসহ নান রোগে

কথায় আছে, "বাচ্চা না কাঁদলে স্বয়ং মাও খাবার দেয় না"। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই আনতে হবে, পাশ্চাত্য এনে দেবে না। আরব বসন্তের দাবদাহ তিউনিসিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়ায় স্তিমিত হলেও ইয়েমেনে এখনো জ্বলছে। পুড়ছে মানুষ। ইতি টানতে হবে এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের। নির্বাচনী ইস্যুতে চিরশত্রু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বৈঠক করতে পারলে, বাণিজ্য নিয়ে ইরান-সৌদি ফোনালাপ হলে ইয়েমেন ইস্যুতেও এক টেবিলে বসা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতার। মধ্যস্থতা করতে পারে ইরাক, ওমান কিংবা জাতিসংঘ। অন্যথায় সীমাহীন এই যুদ্ধে কেউই প্রকৃত লাভবান হবে না, বরঞ্চ কলঙ্কময় ইতিহাসের অংশিদার হতে হবে সবাইকে।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.