-->

বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কে অপার সম্ভাবনা

এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হলো বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন।দ্বিপাক্ষিক এ সম্পর্ক জোরদারে উভয়েরই রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধনের...

বর্তমানে করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ, জাতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি লড়াই করছে। বাংলাদেশও এই লড়াইয়ের অংশীদার। মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কৌশল এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে গৃহীত হচ্ছে এসব পরিকল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচ্ছল করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু প্রণোদনা এবং ঋণ সুবিধাই ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবে না। প্রয়োজন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ।

.

বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কে অপার সম্ভাবনা

.
অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ক্ষতি প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর গত ২৯ জুনের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে, ২০১১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক সতের'শ কোটি ডলার। মহামারী চলাকালীন এ সময়ে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেরও রপ্তানির প্রত্যেকটি খাতে ছিল ঋণাত্মক সূচক। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল নিম্নগামী। এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া বেগবান করেছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসনীয়। এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হলো বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন।দ্বিপাক্ষিক এ সম্পর্ক জোরদারে  উভয়েরই রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধনের সুযোগ। 
বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্ক
বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্ক

সম্ভাবনাময় খাতঃ

ফাস্ট ফরওয়ার্ড এর ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বে তুলা আমদানিতে প্রথম এবং পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয়। এ দেশে রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। সারাবিশ্বে বিপুল পরিমাণে গার্মেন্টস  রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের রয়েছে সুতা এবং তুলার ব্যাপক চাহিদা। অপরদিকে উজবেকিস্তান বিশ্বে সর্বাধিক উন্নত মানের তুলা ও সুতা উৎপাদন এবং রপ্তানিকারী একটি দেশ। চাহিদা পূরণে যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারত ও আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানি করে তাতে রয়েছে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, ওজনে কম, শিপমেন্ট সিডিউল ব্রেকিংসহ নানাবিধ সমস্যা। সুতরাং এই খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয়েরই উপকৃত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
.
.
উজবেকিস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতেরও একটি সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে উজবেকিস্তানের ইন্টার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে ৮৮৮ জন বাঙালি শ্রমিক নেওয়ার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই ভিত্তিতে প্রথম ধাপে বাংলাদেশ থেকে ২৩৯ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে, যাদের বেতন ৫০-৬০ হাজার টাকা। কোভিডের কারণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশের শ্রমবাজার এখনো বন্ধ হয়ে আছে। এমতাবস্থায় উজবেকিস্তান হতে পারে মানব সম্পদ রপ্তানির অন্যতম গন্তব্য।
.
.
সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত দেশ উজবেকিস্তান মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকলেও তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেকটা পশ্চাদগামী। ভূমির রক্ষণশীলতার দরুন ইন্টারনেট সুবিধা সাধারণ মানুষের নিকট সহজলভ্য না হওয়ায় দেশটির প্রশাসনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে জটিল বা সনাতন পদ্ধতির। বিপরীতে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটিরও বেশি। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ করার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাঙ্গালীদের প্রযুক্তিগত অভিগম্যতা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে নেপালে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য খাতের 'ডিজিটাল মেন্টেইনেন্স সিস্টেম' সরবরাহ করেছে। উজবেকিস্তানও এই ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে ইতোমধ্যে।
.
.
আইটি ছাড়াও পর্যটন, টেক্সটাইল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, পর্যটন নগরী পার্বত্য চট্টগ্রাম, ধর্মীয় সুফি সাধকদের মাজার ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। বিপরীতে উজবেকিস্তানের রয়েছে ধর্মীয় বিখ্যাত এবং প্রাচীন দর্শনীয় স্থান, রয়েছে প্রখ্যাত সাহাবী রাসূল (সা:)-এর চাচাত ভাই কুসাম ইবনে আব্বাস (রা:) সহ ইমাম বুখারি, তিরমিজি ও নকশবন্দ সিলসিলার প্রতিষ্ঠাতা বাহাউদ্দিন নকশবন্দীর মাজার। ১৪ শতকের সুফি সাধক নকশবন্দের বিশ্বজুড়ে দশ কোটিরও বেশি অনুসারী রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত প্রতিবছর ২৮ লক্ষ লোক জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভারতে যায়। উজবেকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সমরখন্দ বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি যা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় উজবেকিস্তানের জাদুঘরগুলোতে রয়েছে  ৭০০০ বছর ধরে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী ২০ লক্ষ প্রত্নবস্তু। ফলে বলা যায়, উজবেকিস্তান বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য একটি নতুন দ্বার হিসেবে উন্মোচিত হবে।
.
.
চা উজবেকিস্তানের একটি অন্যতম ঐতিহ্য। গ্রিন টি সেখানে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমাণে চা রয়েছে, যা আমরা রপ্তানি করতে পারি সহজেই। এছাড়া চিংড়ি, মৌসুমী ফল, সিরামিক, শুটকি ও মেলামাইনসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উজবেকিস্তানে রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের পতাকা
বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের পতাকা


সম্পর্কের শিথিলতাঃ

১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর দেশটিকে স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর প্রথম সারির একটি হলো বাংলাদেশ। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ পাঁচ দশকে দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার তিন বছর পরেই উজবেকিস্তানে দূতাবাস খুললেও এখন পর্যন্ত উজবেকিস্তান বাংলাদেশ একটি কনসাল অফিসও খুলেনি। তদুপরি ঢাকা-তাসখন্দ বিমান যোগাযোগ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে উজবেকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ৪৪২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৪.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে বাণিজ্য দু'দেশের বাণিজ্য তলানিতে এসে ঠেকে। এই অর্থবছরে বাংলাদেশ ১১.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য উজবেকিস্তানে রপ্তানি করে। বিপরীতে আমদানি করে ১৬.১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। বর্তমানের সীমিত বাণিজ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে পাট ও পাটজাত পণ্য, তামাক ও তামাকজাত পণ্য, সুতা এবং সুতার তৈরি জিনিসপত্র, নেটেড ফেব্রিক্স রেডিমেড গার্মেন্টস সামগ্রী এবং ওষুধ। আমদানি করে টেক্সটাইল সামগ্রী, সবজি এবং কেমিক্যাল।
.
.

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকঃ

সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টারে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিপাদ্য ছিল,  " বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান: আইসিটি সহযোগিতা প্রসারের সম্ভাবনা"। উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শনের পর উজবেকিস্তান বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং(বিপিও) এবং সফটওয়্যার নেয়ার কথা জানিয়েছে। এ সময় বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা তাসখন্দের হাইটেক পার্ক পরিদর্শন করেন। সভা শেষে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিস্মিত হন উজবেকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল টেকনোলজি বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, দু'দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। আশা করা যায়, এই মাসেই(অক্টোবর) উভয়পক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
.
.
এছাড়া গত ১৫ ও ১৬ জুলাই উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত "মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া : আঞ্চলিক সংযুক্তি, সংকট ও সম্ভাবনা"  শীর্ষক সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে উজবেকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ মন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ইতোমধ্যে দু'দেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি জয়েন ওয়ার্কিং কমিশন গঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে তাসখন্দ-ঢাকা বিমান চলাচল ও ঢাকায় উজবেকিস্তানের দূতাবাস চালুর কথাবার্তা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ।
.
.

বর্তমান কার্যক্রমঃ

চলমান প্রেক্ষাপটে উভয়পক্ষের আগ্রহ এবং কার্যক্রমের ফলস্বরূপ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। যেমন এই বছরের ৩০ জানুয়ারি উজবেকিস্তানের ফারগানা প্রদেশের গভর্নরের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গভর্নর বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্প কারখানা স্থাপনে বিনামূল্য ভূমি সুবিধা এবং ৫০ শতাংশ ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও দু'দেশের যৌথ মালিকানায় একটি জুস ফ্যাক্টরি স্থাপনে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে উজবেকিস্তানে জেনারেল মোটর ও গাড়ি অ্যাসেম্বলিং কারখানা স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা।
.

.
সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বঃ

এমতাবস্থায় করোনার অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে রূপকল্প-৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে উভয় দেশ শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে  লাভবান হবে এমন নয়; বরঞ্চ আঞ্চলিক রাজনীতিতেও উভয়ের অবস্থান পাকাপোক্ত হবে। বাংলাদেশ যেমন দক্ষিণ এশিয়ার 'অর্থনৈতিক ঘোড়া', তেমনি উজবেকিস্তানও মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এক 'দাবার ঘুঁটি'। তাদের সাথে কৌশলগত, সামরিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে একাধারে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের। এছাড়া পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যকে সংযুক্তকারী সিল্ক রোডের উপরেই এ দেশের অবস্থান। উল্লেখ্য, খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে অষ্টম পর্যন্ত দীর্ঘ ১০০০ বছরব্যাপী অত্র অঞ্চলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় মিথস্ক্রিয়া এবং সাংস্কৃতিক সংযুক্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটারব্যাপী এই বাণিজ্যিক পথ। পরবর্তীতে দশম শতকে এটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ২০১৪ সালে 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' নামে চীন পুনরায় এই সড়ক চালুর উদ্যোগ নেয়। এ পরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্বের ৬৮ টি দেশ, ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি।
.
.
সর্বোপরি বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান  সম্পর্কের উন্নয়ন উভয় দেশের জন্যেই কল্যাণ বয়ে আনবে বৈকি। ২০২৫ সালের মধ্যে আইটি খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলার করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে উজবেকিস্তান হতে পারে অন্যতম 'গন্তব্য'। তাছাড়া ফার্মাসিটিক্যাল এবং পর্যটন খাতেও ব্যাপক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, যা বাংলাদেশের উন্নত দেশে পরিণত হওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আর এই পদক্ষেপ সফল করতে আগামী বছরের শুরুতে হতে যাওয়া উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের পূর্বেই সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করতে হবে। এর মাধ্যমেই উক্ত সফরে কাঙ্খিত বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.