-->
বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কে অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কে অপার সম্ভাবনা

ANALYSING THE WORLD

বর্তমানে করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ, জাতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি লড়াই করছে। বাংলাদেশও এই লড়াইয়ের অংশীদার। মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কৌশল এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে গৃহীত হচ্ছে এসব পরিকল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচ্ছল করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু প্রণোদনা এবং ঋণ সুবিধাই ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবে না। প্রয়োজন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ।

.

বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্কে অপার সম্ভাবনা

.
অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ক্ষতি প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর গত ২৯ জুনের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে, ২০১১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক সতের'শ কোটি ডলার। মহামারী চলাকালীন এ সময়ে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেরও রপ্তানির প্রত্যেকটি খাতে ছিল ঋণাত্মক সূচক। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল নিম্নগামী। এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া বেগবান করেছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসনীয়। এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হলো বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়ন।দ্বিপাক্ষিক এ সম্পর্ক জোরদারে  উভয়েরই রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধনের সুযোগ। 
 রাফছান ও আকিজের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে চবি লেখক ফোরাম

রাফছান ও আকিজের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে চবি লেখক ফোরাম

ANALYSING THE WORLD

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাংগঠনিক নতুন কার্যবর্ষে বিদ্যমান প্রতিটি শাখায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবিকতায় আজ ৭ই আগস্ট রোজ শনিবার সংগঠনের কার্যদিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

.

 রাফছান ও আকিজের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে চবি লেখক ফোরাম

.
চবি শাখার নতুন নেতৃত্বে সভাপতি পদে মোঃ রাফছান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আকিজ মাহমুদ নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে সাবেক সভাপতি আরমান শেখ বলেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখালেখির জগতে বিপ্লব আনয়ন এবং লেখক তৈরির আঁতুড় ঘর তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নতুন নেতৃত্ব। তাঁদের মেধা এবং দক্ষতার প্রমাণ গত এক কার্যবর্ষব্যাপী সবাই পেয়েছে। এরই স্বীকৃতি ও প্রতিদান স্বরূপ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁদের যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্টাতা সভাপতি হিসেবে নয়, বরঞ্চ একজন সাধারণ লেখক এবং ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে এই পবিত্র পথে আমার সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহতি থাকবে'।
বিশ্বরাজনীতিতে নজরদারি প্রযুক্তির প্রভাব

বিশ্বরাজনীতিতে নজরদারি প্রযুক্তির প্রভাব

ANALYSING THE WORLD
আন্তর্জাতিক রাজনীতি চলে তার আপন গতিতে, নির্ভর করে একেক সময় একেক বিষয়ের উপর, জন্ম দেয় নিত্য নতুন ঘটনার। মানব সভ্যতা এখন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের শীর্ষে অবস্থান করছে। তাই মানব রাজনীতিতে প্রযুক্তির প্রভাব ও বিচরণ দিন দিন বাড়ছে। এর প্রভাবে কোন দেশে নতুন সরকার আসছে, তো আবার কোন দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটছে। এভাবেই প্রযুক্তির অভিগম্যতা প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করছে মানব সভ্যতার ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ, সকল প্রত্যয়-প্রপঞ্চকে। ফলস্বরূপ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রযুক্তি নামক ডিজিটাল ঘোড়ার চতুর সওয়ারী হয়ে স্বদেশ-বৈদেশে ছড়ি ঘুরানোর খেলায় মেতেছে বিশ্ব নেতৃত্ব। খেলাটি একসময় অতি গোপন থাকলেও এখন প্রযুক্তিরই কল্যাণে তা প্রকাশিত হচ্ছে সময়ে-অসময়ে, বেকায়দায় ফেলে দিচ্ছে মুখোশধারী গুপ্ত খেলোয়াড়দের।
.

বিশ্বরাজনীতিতে নজরদারি প্রযুক্তির প্রভাব

.
আধুনিক বিশ্বে মানুষের উপর কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করতে ক্ষমতাবানদের সবচেয়ে প্রিয় ও মোক্ষম হাতিয়ার হলো আড়ি পাতার প্রযুক্তি। এখন কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রবেশ ও অস্তিত্ব রয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। করোনা আমাদের দেখিয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে ঘর থেকে সবকিছু পরিচালনা করা যায়, আর এর বিচ্ছিন্নতা কীভাবে আমাদের বিশ্বব্যবস্থা থেকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাই বাধ্য হয়ে মানুষ ঘরে ঘরে প্রযুক্তিগত ডিভাইসগুলো স্থাপন করছে, আর এগুলোই এখন হয়ে উঠছে ক্ষমতাবানদের মনুষ্য জাতি নিয়ন্ত্রণের গোপন অস্ত্র। এর মাধ্যমে উপর মহল প্রত্যেকটি মানুষের গোপনীয়, ব্যক্তিগত সব ধরনের বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারছে; এমনকি কখনো কখনো তা নিয়ন্ত্রণও করছে। এভাবে জনসাধারণকে ঘর থেকে সর্বাধিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করা যায় বলেই হয়তো এই নজরদারি প্রযুক্তিকে বিশ্ব বিখ্যাত গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট "সামরিক অস্ত্র" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
লিবিয়ার এক দশক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

লিবিয়ার এক দশক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ANALYSING THE WORLD
বিগত এক দশক ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে জর্জরিত আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি রাষ্ট্র লিবিয়া। আরব বসন্তের মোহে মাতাল হওয়া আজকের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি দশ বছর আগেও সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ছিল। কিন্তু সেই তেল সমৃদ্ধ দেশে আজ হাঁটতে গেলেই পায়ের নিচে পড়ে বোমা-মাইন। মাঝে মাঝে শোনা যায় রাশান ভাড়াটে সেনাদের ফেলে যাওয়া মাইন ফোটার বিকট শব্দ। বর্তমানের বসবাস অযোগ্য যুদ্ধ প্রবণ এ রাষ্ট্রটিতে ১৯৫০ সালে খনিজ তেল আবিষ্কার হয়। এরপর থেকে লিবিয়া আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
.

লিবিয়ার এক দশক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

.
১৯৫১ সালের ২৪শে ডিসেম্বর দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে একটি স্বাধীন রাজতন্ত্রে পরিণত হয়। এরপর ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার সাধারণ জনগণের সমর্থন নিয়ে কর্নেল গাদ্দাফি এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনুসি আদিবাসী গোষ্ঠীর রাজা ইদ্রিসকে সরিয়ে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গাদ্দাফি দেশে বিরাজমান গোষ্ঠী বিভেদ সমাধানে দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি বারগা আদিবাসী গোষ্ঠীর এক নারীকে বিয়ে করে বিবিধ গোষ্ঠীতে বিভক্ত পুরো জাতিকে একত্রিত করতে সক্ষম হন। এই তরুণ শাসক তাঁর সমাজতন্ত্র ও আরব জাতীয়তাবাদের তত্ত্ব অনুযায়ী এক নতুন লিবিয়া গঠন করেন। এরই বাস্তবায়নে গাদ্দাফি লিবিয়ার তেল সম্পদ হতে প্রাপ্ত মুনাফা জনগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। এই সামাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ছিল পশ্চিমদের বিরাগভাজন হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে গাদ্দাফির সময়োপযোগী শাসন ব্যবস্থার ফলে লিবিয়ার বেকারত্ব শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ জিডিপির দেশে পরিণত হয় লিবিয়া। কিন্তু সময়ের আবর্তনে গণতান্ত্রিক শাসনটি বহির্বিশ্বে সামরিক একনায়কতন্ত্র হিসেবেই বেশি পরিচিতি লাভ করে। আর এই পরিচিতি দেয়ার পেছনে সর্বাধিক ভূমিকা ছিল স্বার্থান্বেষী পশ্চিমা মহলের।
মিশর-তুরস্ক সম্পর্কে নতুন যুগের শুরু

মিশর-তুরস্ক সম্পর্কে নতুন যুগের শুরু

ANALYSING THE WORLD
পৃথিবীতে পশ্চিমা মদদপুষ্ট জান্তা সরকার যে কয়টি দেশে ক্ষমতায় রয়েছে, তন্মধ্যে মিশর অন্যতম। আরব বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় এই দেশটি ভৌগলিক এবং ভূরাজনৈতিক দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিখ্যাত গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার সংস্থার ২০২১ সালের সমরাঙ্গন র্যাংকিঙে আরব ও আফ্রিকান সকল দেশের শীর্ষে অবস্থানকারী দেশটিতে বর্তমান সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে ২০১৩ সালে। মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ ও শতবর্ষী যে ব্রাদারহুড সরকারকে সরিয়ে আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি ক্ষমতা দখল করেন, তাদের অন্যতম সমর্থক ছিল তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি। সামরিক এই অভ্যুত্থানের পর থেকে মিশর-তুরস্ক সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে এবং 'চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স' পর্যায়ে নেমে আসে।

মিশর-তুরস্ক সম্পর্কে নতুন যুগের শুরু

দুই বছর আগে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত তুরস্ক-লিবিয়ার অর্থনৈতিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠে। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে তুরস্কের দক্ষিণ উপকুল থেকে লিবিয়ার উত্তর-পূর্ব তীর পর্যন্ত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে  গ্রীসের 'ক্রিটি' দ্বীপকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ফলে গ্রীস ক্ষিপ্ত হয়। ভূমধ্যসাগরে আধিপত্য হ্রাসের আশঙ্কায় মিশরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এতে।
 ইসরাইল এবং গ্রীস এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার শরণাপন্ন হলে শুরু হয় অত্র অঞ্চলে তুরস্কবিরোধী তৎপরতা। তুর্কি চুক্তির বিপরীতে যুতসই পদক্ষেপ হিসেবে গত বছরের আগস্টে গ্রীস-মিশর একটি নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যেখানে তুর্কি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অস্বীকার করা হয়। ফলে ভূমধ্যসাগরব্যাপী উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার আগেই  বিচক্ষণ এরদোয়ান 'ব্যাক ডোর ডিপ্লোম্যাসি' পরিচালনা করে সিসিকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, গ্রীসের সাথে চুক্তির বিপরীতে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করলে ভূমধ্যসাগরে মিশরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিমাণ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বেড়ে যাবে। কায়রো এতে 'সবুজ সংকেত' দেয়। শুরু হয় দু'পক্ষের গোপন চিঠি চালাচালি। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মিশর ভূমধ্যসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের যে টেন্ডার দেয়, তাতে তুরস্ক ঘোষিত অঞ্চলকে মেনে নিয়ে তা নিজের জলসীমায় দেখায়নি।
ইস্তাম্বুল খালে এরদোগানের তুর্কি সাম্রাজ্যের স্বপ্ন

ইস্তাম্বুল খালে এরদোগানের তুর্কি সাম্রাজ্যের স্বপ্ন

ANALYSING THE WORLD
পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন স্থাপনা এবং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনেক দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার নজীর রয়েছে। ঠিক তেমনি চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রকল্প হলো তুরস্কের 'ইস্তাম্বুল খাল'। বর্তমান তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজ দেশে "নির্মাণ পাগল" নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ, বসফরাস টানেল ও অত্যাধুনিক ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর নির্মাণের পর এবার ইস্তাম্বুল খাল প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। এই খাল তৈরির পরিকল্পনা তুর্কি রাষ্ট্রনেতা ও জনগণের মাঝে নতুন নয়। বিগত পাঁচ'শ বছরে দশ বার এই খালের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। উসমানীয় সম্রাজ্যের দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সুলতান সুলেমান কর্তৃক এর ধারণা প্রবর্তিত হওয়ার পর সর্বশেষ অপর দূরদর্শী শাসক এরদোগানের ২০১১ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে আলোচনায় আসে।
.

ইস্তাম্বুল খালে এরদোগানের তুর্কি সাম্রাজ্যের স্বপ্ন

.
যুক্তির খাতিরে এরদোগান অর্থনৈতিক লাভ-লোকসানের হিসেব পেশ করলেও সবাই জানে এর পেছনে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার। বিগত ঊনিশ বছরের শাসনামলে দেখা যায়, তিনি তাঁর কথাবার্তা, কার্যক্রম এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অটোমান থেকে আতাতুর্ক যুগের শুরু পর্যন্ত সাময়কার ধ্যান-ধারণাকে প্রধান্য দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে পূর্বের সেই তুর্কি সম্রাজ্য ফিরিয়ে আনতে এরদোগান যে কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছেন, তার অন্যতম বড় অংশ হলো ইস্তাম্বুল খাল প্রকল্প। তাঁর মতে, পানামাকে যেভাবে পানামা খাল এবং মিসরকে যেভাবে সুয়েজ খাল বৃহৎ ফায়দা দিচ্ছে, তেমনি ইস্তাম্বুল খালও তুরস্কের সার্বিক রূপ পাল্টে দেবে।
আফগানিস্তানের নতুন অধ্যায় কেমন হবে

আফগানিস্তানের নতুন অধ্যায় কেমন হবে

ANALYSING THE WORLD
মার্কিন ইতিহাসে দীর্ঘতম যুদ্ধের রেকর্ড সৃষ্টিকারী আফগান যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র পরিপূর্ণরূপে নিজিকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে গত ১৪ এপ্রিল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও হিসেব-নিকেশ। ব্রিটিশ ও রুশ সম্রাজ্যের পর এখন মার্কিনিরাও এই অঞ্চল থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায় যেন।

.

আফগানিস্তানের নতুন অধ্যায় কেমন হবে

.
ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে মার্কিন ইতিহাসে ভিয়েতনামের পর দ্বিতীয় অবস্থান দখলকারী আফগান যুদ্ধে মার্কিন বিনিয়োগ শুরু হয় মূলত ১৯৭৯ সাল থেকেই। ১৯৭৮ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বামপন্থী সোভিয়েত মতাদর্শিক সরকার ক্ষমতায় আসার বিরুদ্ধে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো বিদ্রোহ শুরু করে। সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ১৯৭৮ এর ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানস্তান আক্রমণ করে। পরবর্তীতে তারা একটি সমঝোতার মাধ্যমে বাম দলের একজন মধ্যমপন্থীকে নেতাকে ক্ষমতায় বসিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইলেও রক্ষণশীলরা রুশ দখলদারিত্বমূলক উপস্থিতি মেনে না নিয়ে গেরিলা হামলা অব্যাহত রাখে। এর সুযোগে সেই রক্ষণশীল মুজাহিদিনদের পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সার্বিক সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সোভিয়েত-মুজাহিদিন যুদ্ধ এক দশক চলার পর ১৯৮৯ সালে এই সীমাহীন যুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। সৈন্য প্রত্যাহারের পর মুজাহিদিনদের আক্রমণে ১৯৯২ সালে বাম সরকারের পতন হলেও শান্তির মুখ দেখেনি আফগানরা। সরকার পতনের পর মুজিহিদিনদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর মাঝে মুজাহিদিনদের একটি গ্রুপ মৌলবাদী একটি দল গঠন করে এবং ১৯৯৬ সালে আফাগানিস্তানের সর্ববৃহৎ কাবুল শহর দখল করে নেয়, যাদেরকে বর্তমানে পুরো বিশ্ব তালেবান বলে চিনে। এদেরই ১৯৭৯-৮৯ সময়ে সোভিয়েতের আফগান দখল ঠেকাতে সামরিক সহযোগিতা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র 'অপারেশন সাইক্লোন' পরিচালনা করেছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নেতৃত্বে। পরে এই অপারেশনের ফল বুমেরাং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই আঘাত করে ২০০১ সালে, যার প্রেক্ষিতে মার্কিনিরা আফগান আগ্রাসন শুরু করে। ‘সন্ত্রাস দমন’ স্লোগান নিয়ে ন্যাটো আফগানিস্তানে ঢুকে রাশিয়া, ইরান ও চীন সীমান্তের কাছাকাছি পাঁচটি বড় সামরিক ঘাঁটি হাজির করে ভূরাজনৈতিকভাবে সাময়িক সফলতা লাভের পর তালেবানদের হারিয়ে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ দখলের স্বপ্নও দেখেছিল সেসময়, যা এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে যুদ্ধ সম্ভাবনা

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে যুদ্ধ সম্ভাবনা

ANALYSING THE WORLD
সমৃদ্ধ ইউরোপে যুদ্ধের ঘন্টাধ্বনি সৃষ্টিকারী চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শুরু হয় সাত বছর আগের ক্রিমিয়া দখল নিয়ে। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত দিক থেকে ক্রিমিয়া "রুশ অঞ্চল" হলেও ১৯৫৪ সালের ২৫ জানুয়ারী সোভিয়েত সরকার ইউক্রেনকে ভৌগলিক সংযুক্তির অজুহাতে অনেকটা 'উপহার' স্বরূপ ক্রিমিয়া দিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে, ভৌলিকভাবে ক্রিমিয়া রাশিয়া থেকে কৃষ্ণ ও আজোভ সাগর সংযুক্তকারী ক্রেচ প্রণালীর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন।

.

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে যুদ্ধ সম্ভাবনা

.
সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘রুটির ঝুড়ি' খ্যাত বর্তমান ইউক্রেনের উত্তর অংশ ৯ম শতক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব স্লাভীয় রাষ্ট্র কিয়েভান রুশের অংশ ছিল, ১৩শ শতকে মোঙ্গল আক্রমণে যার পতন ঘটে। এরপর ১৪৪১ সালে বৃহত্তর তুর্কি জাতির অন্তর্গত তাতাররা ক্রিমিয়ায় বসতি স্থাপন করে এবং চেঙ্গিস খানের একজন বংশধরের নেতৃত্বে 'ক্রিমিয়ান খানাত' প্রতিষ্ঠা করে। ১৪৭৫ সালে খানাতটি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও রাষ্ট্রটির যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল। ১৭৬৮–৭৪ সালের রুশ–ওসমানীয় যুদ্ধের পর রাষ্ট্রটি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করলেও কার্যত রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। পরিশেষে ১৭৮৩ সালে রাশিয়া সরাসরি ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং তখন থেকেই অঞ্চলটি রাশিয়ার অংশ হয়ে যায়।
সিরিয়া সংকটের এক দশক ও চাওয়া পাওয়া

সিরিয়া সংকটের এক দশক ও চাওয়া পাওয়া

ANALYSING THE WORLD
আপনি যখন এই লিখাটি পড়ছেন, তখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সিরিয়ার কোথাও না কোথাও কোন শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আরব বসন্তের হাওয়ায় গণতন্ত্রের আমেজ বয়ে আনার উদ্দেশ্যে ২০১১ সালের ১৫ মার্চ সিরিয়রা যে আন্দোলন সংগঠিত করেছিল, তা বিগত দশ বছরে মৃত্যু ভয় আর পনের লক্ষ বিকলাঙ্গের আর্তনাদের মাধ্যমে সিরিয়ার বাতাসকে ভারী করে তুলেছে প্রতিনিয়ত। স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট সৃষ্টিকারী সিরিয়ার এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে তিন লাখ ছিয়াশি হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক তথা প্রায় ১২ মিলিয়ন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় বাস্তুচ্যুতি আর দেখেনি বিশ্ব। ১৪ টি প্রদেশের সমন্বয়ে ৭২ হাজার বর্গমাইল জুড়ে অবস্থিত সিরিয়া ১৯৮৬ সালে ফরাসিদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনো পর্যন্ত প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি এর বাসিন্দারা। চলমান গৃহযুদ্ধের এক দশক পূর্ণ হলো গত ১৫ মার্চ, কিন্তু এখনো যুদ্ধ থামার কিংবা শান্তি প্রতিষ্ঠার কোন লক্ষণই সেখানে নেই, বরঞ্চ নতুনভাবে যুদ্ধ শুরুর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মাঝে।
.

সিরিয়া সংকটের এক দশক ও চাওয়া পাওয়া

.
২০১১ সালের মার্চে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর জুলাইয়ে সিরিয়া সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত এক কর্নেল তুরস্কের সহায়তায় ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ) গঠন করেন।১৯৮২ সালে বাশারের বাবা হাফিজ আল আসাদ মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর সামরিক অভিযানের আদেশ দিয়ে হাজারো মানুষকে হত্যা করার জেরে ব্রাদারহুডের কর্মীরাও ফ্রি সিরিয়ান আর্মিতে যোগ দেয়। এরপরই তারা সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে দখলে নেয় আলেপ্পো ও হোমস শহরের বেশকিছু এলাকা।
.
.
২০১২ সালে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করে আসাদ সরকার। ওই বছরের জুলাইয়ে এফএসএ যোদ্ধারা দামেস্ক দখলে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আসাদ সরকার রাজধানী দখলে রাখতে পারলেও বিদ্রোহীরা শহরতলির অংশবিশেষের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ২০১৩ সালের আগস্টে দামেস্কের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকায় রাসায়নিক হামলা চালানো হয়, এতে মারা যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। ওই বছরই ইরানের মদদপুষ্ট লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানায়, তারা সিরীয় সরকারকে সহায়তায় যোদ্ধা মোতায়েন করেছে। ইরানও আসাদের প্রতি সমর্থনের কথা জানায়। এরপর ২০১৪ সালের জুনে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের (আইএস) ওই অঞ্চলে খেলাফত ঘোষণা, সেপ্টেম্বরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আইএসের বিরুদ্ধে হামলা এবং ২০১৫ সালে অবরুদ্ধ আসাদ বাহিনীর সহায়তায় রাশিয়ার বিমান হামলা চূড়ান্তভাবে সিরিয়াকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে।
ইরাকে শান্তি ফিরবে কবে?

ইরাকে শান্তি ফিরবে কবে?

ANALYSING THE WORLD
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাকের ঐতিহাসিক নৃশংতার শিকার হওয়ার ১৮ বছর পূর্ণ হলো গত ১৯ মার্চ। এই দীর্ঘ আঠারো বছরের কালো ইতিহাস তৈরি হয়েছে দশ লক্ষ শহিদ ও তার দ্বিগুণ বিকলাঙ্গের রক্ত ও আর্তনাদের মাধ্যমে। যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে মার্কিনিরা আঠারো বছর আগে একটি সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা কতটা সফল এবং কার্যকর হয়েছে বিশ্ব মানবতাকে আজ খতিয়ে দেখতে হবে।
.

ইরাকে শান্তি ফিরবে কবে?

.
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদী সাদ্দাম হোসেনকে হটিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক পুতুল হরকার বসানোর মাধ্যমে ইরানে প্রভাব বিস্তার করা। কিন্ত যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধপরবর্তী মার্কিন হঠকারী সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য শাপে বর হয়ে দাড়িয়েছে। সাদ্দাম হোসেন ইরানের যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আরব বিশ্ব ও পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট ছিলেন বৈকি, কিন্তু তার সম্প্রসারণবাদি নীতি ও সমরাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে আমলে নিয়ে তুলনামূলক আরো যোগ্য ব্যক্তিকে ইরাকের মসনদে বসাতে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন জোট। এই উদ্দেশ্য উপলব্ধি করেই ইরাক হামলায় ইরান যথেষ্ট ভীত এবং সংবেদনশীল ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল বাগদাদের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পরবর্তী টার্গেট হবে তেহরান। এর প্রক্ষিতেই সাদ্দামের পতনের পর ইরানের মিনিস্ট্রি অফ ইন্টেলিজেন্স, কুদস ফোর্স ও অভিজাত আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগ ইরাকে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়, যার ফলস্বরূপ আজ ইরাকের সমস্ত রাষ্ট্রীয় সংগঠনে ইরানি মদদপুষ্টদের জয়জয়কার দেখছে বিশ্ব।
.
.
যুদ্ধের মাধ্যমে ইরাকের সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে তা পুনর্গঠনের দায়িত্ব একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে প্রথম ও বড় ভুলটি করে। সাদ্দামের পতনের পর ইরাকে 'ভাইসরয়' নিয়োগ করা হয় হেনরি কিসিঞ্জারের অনুজ ডানপন্থী লেফেটেনেন্ট পল ব্রেমারকে, যিনি কূটনীতিবিদ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে কখনো এর আগে আসেননি এবং ইরাকি রাজনীতি সম্পর্কে ছিলেন অনভিজ্ঞ। ফলে তার প্রথম পদক্ষেপ হয়, সাদ্দামের বাথ পার্টিকে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সাথে তুলনা করে তাদের নির্মূল করা। এই 'ডিবাথিফিকেশন' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরাকের সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়। এই পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী পরলোকগত সাংবাদিক অ্যান্থনি শাদিদ ইরাক যুদ্ধের উপর রচিত তাঁর বই 'Night Draws Near'-এ লিখেছিলেন, "ব্রেমারের এই সিদ্ধান্তের যে ফলাফল ছিল, তা সাড়ে তিন লাখ ইরাকি অফিসার এবং সৈন্যকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়। এই লোকগুলোর প্রত্যেকের কিছু না কিছু সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল। ফলে, মুহূর্তের মধ্যে গেরিলা যুদ্ধের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর এক বিশাল ভাণ্ডার তৈরি হয়ে যায়। (তাদের দখলে এবং নাগালের মধ্যে ছিল প্রায় এক মিলিয়ন টন অস্ত্র এবং সবধরনের গোলাবারুদ।)" সে সময় নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, "সে সপ্তাহেই আমরা ইরাকের মাটিতে সাড়ে চার লাখ নতুন শত্রু সৃষ্টি করেছিলাম।"
ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তান জোট কোন পথে?

ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তান জোট কোন পথে?

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বে উদিয়মান শক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক চাবি হিসেবে যে কয়টি রাষ্ট্র বিবেচিত হয়, তন্মধ্যে তুরষ্ক, ইরান ও পাকিস্তান অন্যতম। উন্নয়ন ও প্রভাব বিস্তারের পথে থাকা বাঁধা-বিপত্তি দূর করতে সম্প্রতি এই তিনটি রাষ্ট্র একত্রে কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে। এসব কৌশলের মধ্যে অন্যতম হলো ইউরেশীয় সংস্থা ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাজাইশেন (ইকো) সক্রিয় করার মাধ্যমে শক্তিশালী আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
.

ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তান জোট কোন পথে?


ইকো'র মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরির ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বরে সংস্থাটির পরিবহন ও যোগাযোগ বিভাগের ১০তম বৈঠকে সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটারব্যাপী রেল চলাচলের একটি সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে ত্রিশক্তি। পৃথিবীর মোট পরিধির এক ষষ্ঠাংশ বিস্তৃত এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা স্বপ্নের মত মনে হলেও শীঘ্রই তা বাস্তবে পরিণত করার ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। গত ৪ মার্চ ইকো'র ১৪তম সামিটে ত্রিশক্তি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র সমূহের বক্তব্যের মাধ্যমে একটি বৃহৎ নেটোয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সামিটে তুরষ্ক ইকো ট্রেড এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে জোর দেয়ার পাশাপাশি ইকো ব্যাংকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাশিম জোমার্ট ২০১৮ সালে সৃষ্ট ট্রান্স-কাস্পিয়ান আন্তর্জাতিক পরিবহন রুট সচল করার তাগিদ দেন, যা একাধারে চীন, কাজাখস্তান, জর্জিয়া ও আজারবাইজানকে সংযুক্ত করেছে।
মুসলিম নির্যাতনে চীন অগ্রসরমান

মুসলিম নির্যাতনে চীন অগ্রসরমান

ANALYSING THE WORLD
সাম্প্রতিক বিশ্বে জাতিগত নির্যাতনের যেসব জলন্ত উদাহরণ বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত হয়েছে, তন্মধ্যে সর্বাধিক সমালোচিত ও জাগরণ সৃষ্টিকারী উদাহরণ হলো চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু নির্যাতন। চীন সরকারের ৩৬টি জনগোষ্ঠীর উপর চালানো গোয়েন্দা কার্যক্রম ও দমন-পীড়নের সর্বাধিক শিকার হলো চার হাজার বছরের ইতিহাসধারী উইঘুর সম্প্রদায়। মধ্যযুগে তাং সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ার পর বর্তমানের শিনজিয়াং নামকরণকৃত পূর্ব তুর্কিস্তানে ইসলাম ও আরবীয় প্রভাব বৃদ্ধি পেলে এই উইঘুর জাতিগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে।

মুসলিম নির্যাতনে চীন অগ্রসরমান


১৯১১ সালে বাংলাদেশের চেয়ে বার গুণ বড় পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনা শাসন চালু হলেও স্বাধীনচেতা উইঘুরদের শাসক গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এই সময়কালে তথা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রাচীন এই গোষ্ঠী বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। বহির্বিশ্বে নিজেদের একক সত্তা তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানে এক সম্মেলনের পর উইঘুররা এই পুরনো পরিচয় ফিরে পায়। এর প্রভাবে তারা ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে চীনা শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে অনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুরদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিনজিয়াং প্রদেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নামমাত্র স্বায়ত্তশাসন জারি করে। এরপর থেকে শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দমন-পীড়নের নির্মম অধ্যায়।


পূর্ব তুর্কিস্তান তথা বর্তমান শিনজিয়াঙে উইঘুর বিলুপ্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সেখানে সরকারিভাবে ব্যাপক হারে হান চীনাদের পুনর্বাসন শুরু করা হয়। এই পুনর্বাসনের হার এতই বেশি ছিল যে, ১৯৪৯ সালে উক্ত অঞ্চলে যেখানে ৯৫ শতাংশ উইঘুর ছিল, সেখানে ১৯৮০ সালের মধ্যেই তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০১৬ সালে "ফ্যামিলি মেকিং" নামে একটি উদ্যোগ চালু করে ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। এই আইনের আওতায় প্রতি দুইমাসে কমপক্ষে পাঁচ দিন উইঘুর পরিবারগুলোতে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের অতিথি হিসেবে থাকতে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ পার্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের সম্ভ্রমহানী ও শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। এছাড়াও সেখানে চলছে বৌদ্ধ নারীদের সাথে মুসলিম যুবক ও মুসলিম নারীদের সাথে বৌদ্ধ পুরুষদের জোরপূর্বক বিবাহ প্রদানর মত কার্যক্রম। এহেন ঘৃণ্য প্রক্রিয়ার দরুন বর্তমানে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের সংখ্যা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। সিআইএর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকের তথ্য মতে, বর্তমানে শিনজিয়াঙে মোট ১ কোটি ২০ লাখ উইঘুর বসবাস করছেন। জেনজের প্রতিবেদন অনুসারে উইঘুরদের এই হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কারণ হলো উইঘুর নারীদের জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো, বন্ধ্যাকরণ, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি, স্টেরিলাইজেশন সার্জারি, জন্মনিয়ন্ত্রক ইনজেকশন ও ওষুধ সেবন করানো ইত্যাদি।
সামরিকতাবাদ ও উন্নয়ন সম্পর্ক

সামরিকতাবাদ ও উন্নয়ন সম্পর্ক

ANALYSING THE WORLD
সামরিকতাবাদ হল এমন একটি বিশ্বাস, যা জাতির স্বার্থকে প্রসারিত করতে একটি শক্তিশালী সামরিক বিকাশ বজায় রাখা এবং ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করে। সাধারণত একটি সামরিকতাবাদী দেশের বৃহৎ প্রতিরক্ষা বাহিনী থাকে, যা তাদের আয়ের একটি অনুপাতহীন অংশ ব্যয় করে। একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্র তার সমাজ ও অন্যান্য সমস্ত জাতীয় স্বার্থকে, এমনকি কখনও কখনও অপর রাষ্ট্রকেও অধীনস্থ করে থাকে। সামরিকতাবাদে সরকার সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনের উপাদানগুলিকে নির্দেশ দেয়


সামরিকতাবাদ ও উন্নয়ন সম্পর্ক


সামরিকতাবাদ ও উন্নয়ন
সামরিকতাবাদ ও উন্নয়ন

সামরিকতাবাদ সমরাস্ত্রের উন্নয়ন ও যুদ্ধপ্রবণতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষ হত্যার যে সংস্কৃতি দেশগুলোর মাঝে ছড়িয়ে দেয়, তাকে জর্জ বার্নার্ড শ "মৃত্যুর শিল্পকলা" বলে অবিহিত করেছেন। এই শাসনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হল ষোড়শ শতকে ইউরোপে উৎপত্তি হওয়া পুঁজিবাদ, যা আঠার'শ শতাব্দীতে অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমান  বিশ্বে সর্বাধিক শক্তিধর শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আধিকাংশ বিশ্লেষকই ঐকমত্য হয়েছেন যে, জাতীয়তাবাদ এবং পুঁজিবাদই হল সামরিকতাবাদের মূল ভিত্তি, যা বর্তমান বিশ্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একইসাথে প্রভাব বিস্তার করছে একে অপরের সহায়ক হিসেবে।


পুঁজিবাদের অন্যতম ফল উপনিবেশবাদ ও নব্য-উপনিবেশবাদ অটুট রাখার প্রয়োজনে বর্তমানে বিশ্বের পুঁজিবাদী শক্তিগুলো "মৃত্যুর শিল্পকলার" অভাবনীয় সমৃদ্ধি ঘটিয়ে চলছে। এভাবেই পুঁজিবাদ সরাসরি সামরিকতাবাদের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখছে প্রতিনিয়ত।


এই পর্যন্ত সংঘটিত বিশ্বের দুটি বৃহৎ হত্যাযজ্ঞ তথা বিশ্বযুদ্ধের কারণ হিসেবে সামরিকতাবাদকে উল্লেখ করা হয়। পাঁচটি প্রধান ইউরোপীয় অর্থনৈতিক শক্তি - জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং গ্রেট ব্রিটেন - তাদের সম্পদ তৈরির জন্য সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভর করেছিল। তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকাতে যে দেশগুলি জয় করেছিল তাদের থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করেছিল। যখন তাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী এই উপনিবেশগুলো গ্রহণ করেছিল তখন তারা হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। একই সময়ে, পোল্যান্ডের মতো দেশ যারা তাদের স্বাধীনতা চেয়েছিল তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ বাড়ছিল, যখন শান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার মতো কোন সংঘটন ছিল না । ফলস্বরূপ দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিসমূহের উপর নির্ভর করেছিল যা প্রায়শই অন্যান্য চুক্তিগুলোর সাথে বিরোধী হয়। এর প্রেক্ষিতে এই শক্তিগুলো অনুভব করেছিল যে তাদের একমাত্র সুরক্ষা হল শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।
পুঁজিবাদ ও আমলাতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক

পুঁজিবাদ ও আমলাতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক

ANALYSING THE WORLD

সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত বিশ্বের পশ্চাৎপদ গরিব দেশগুলোতে গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ শত্রু হিসেবে পুঁজিবাদ, মৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং আমলাতন্ত্রের সক্রিয়তা রয়েছে বর্তমানে। এসবের মধ্যে পুঁজিবাদ ও আমলাতন্ত্র একে অপরের সহযোগি হিসেবে ভূমিকা রেখে বিশ্ব সভ্যতার সর্বাধিক ক্ষতি সাধন করছে। তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই দুটি প্রপঞ্চ সম্পর্কযুক্ত। মূলত শ্রেণিসমাজের দীর্ঘদিনের সৃষ্ট এই আমলাতন্ত্রকে পুঁজিবাদই শক্তিশালী করেছে।

পুঁজিবাদ ও আমলাতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক


আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Bureaucracy এর মূল উৎপত্তি ফ্রেঞ্চ শব্দ থেকে। ফরাসী Bureau শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস, আর গ্রিক শব্দ ক্র্যাটোস অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক শক্তি। প্রশাসকবর্গকে অথবা প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে ও প্রশাসনিক কার্যবিধি বোঝাতে প্রত্যয়টি ব্যবহার হয়ে থাকে।


শাস্ত্রগতভাবে বলতে গেলে, আমলাতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা, যাতে স্থায়ী সরকারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব বিভাজনের মাধ্যমে সরকারের সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। এসব কর্মকর্তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় জনগণের ভোটে সরকার পরিবর্তিত হলেও এরা স্বপদে সমাসীন থাকেন।


আমলাতন্ত্র শুরু থেকেই গণতন্ত্র বিরোধী বলে আমলারা কখনোই গণতন্ত্র কামনা করেনা। আমলাতন্ত্র জনগণকে জিম্মি করে শোষণ ও নির্যাতন করার মাধ্যমে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করে সুবিধাভোগী শ্রেণিতে পরিণত হয়। গরীব দেশগুলোর আমলারা জনগণকে পরাধীন করে রেখে জনগণের শ্রমফল ভোগ করে, জনগণকে বিপদে ফেলে দুর্নীতি করে দেশীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করে।

প্রতীকী আমলাতন্ত্র
প্রতীকী আমলাতন্ত্র

সাধারণত পশ্চাৎপদ তথা তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশই আমলা নির্ভর। যে দেশ যত পিছিয়ে পড়া, সে দেশের আমলা সংখ্যা ও তাদের ক্ষমতা তত বেশি থাকে। এই শাসনব্যবস্থায় আমলারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে বিরোধিতা করে। উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ না করেই রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে আসীন হওয়ার লিপ্সা এবং বেতন বাড়ানোর চিন্তায় থাকে এরা।


আমলাতন্ত্রের আওতাধীন দেশে জনগণকে আমলাদের কাছে যেতে হয় নিজ অধিকার আদায় করতে, কেননা কখনো বিপ্লব বা ভোটের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতায় গেলেও তারা জানেনা কিভাবে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতে হয়। ফলে অধিকাংশ পশ্চাৎপদ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে শাসনকার্যের অপরিপক্বতার দরুণ জনগণের সরকার আমলা নির্ভর হয়ে পড়ে। আর এই নির্ভরশীলতার কারণে গণতন্ত্র সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়না, বরঞ্চ আমলাদের দাপটে প্রহসনে পরিণত হয়।


উন্নত দেশগুলোতে তৃতীয় বিশ্বের ন্যায় আমলাদের দাপট না থাকলেও তারা যথেষ্ট ক্ষমতার অধিকারী হয়। এরাই রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করে, যুদ্ধ বাঁধায়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে হত্যা করে দরিদ্র দেশগুলো দখলে প্ররোচনা দেয়ার মাধ্যমে সম্রাজ্যবাদকে উস্কে দেয়, সৃষ্টি হয় উগ্র পুঁজিবাদের।


পুঁজিবাদ হল এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন যন্ত্রের ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান এবং শুধুমাত্র লাভের আশায় পণ্য তৈরি করা হয়; জনগণের সেবা কিংবা চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে নয়। এখানে সর্বদা ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ব্যবসায়িরা ব্যক্তিগতভাবে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকেনা। পুঁজিবাদে জনগণ যদি না খেয়েও মারা যায়, তাতেও পুঁজিপতিরা নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেনা।
যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জোটের তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জোটের তৎপরতা

ANALYSING THE WORLD
দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকে নেতৃত্বদানকারী শ্রেষ্ঠ পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিযোগি তথা উদীয়মান শক্তিগুলোকে দমন করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব অদূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে তৈরি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিশালী জোট। বিশ্বে মার্কিন আগ্রাসি তৎপরতার শিকার রাষ্ট্রের সংখ্যা অনেকগুলো হলেও ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা কিছু উদীয়মান শক্তি মার্কিনবিরোধী এক শক্তিশালী জোট তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জোটের তৎপরতা


গত মাসে অনুষ্ঠিত তুরষ্কের ইস্তাম্বুলে ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো) এর পরিবহন ও যোগাযোগ বিভাগের ১০তম বৈঠকে তুরষ্ক-ইরান-পাকিস্তানে সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটারব্যাপী রেল চলাচলের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। ইরানে ২৬০০, তুরষ্কে ১৯৫০ ও পাকিস্তানে ১৯৯০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই রেল লাইন (টিআইটি) চীনের উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশ পর্যন্ত যাবে বলে খবর প্রকাশ করে জাপানি নিউজ ম্যাগাজিন নিক্কি এশিয়া'য়। তুরষ্ক থেকে ইসলামাদে পৌঁছতে যেখানে ২১ দিন সময় লাগত, সেখানে এই রেলপথের মাধ্যমে মাত্র ১০ দিনে পৌঁছা যাবে।
.
.
পৃথিবীর মোট পরিধির এক-ষষ্ঠাংশ বিস্তৃত এই রেলপথ চায়না পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোর (সিপেক) এর সর্ববৃহৎ প্রকল্প এমএল-১ এর সাথে সংযুক্ত হয়ে চীনের জিনজিয়াঙে প্রবেশ করবে বলে পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার উদীয়মান ত্রিশক্তির হঠাৎ ইকো সচলে তৎপর হওয়াকে পূর্ণ মাত্রায় কাজে লাগিয়ে চীন তার স্বপ্নের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পে যুক্ত করে নিচ্ছে উপযুক্ত সময়ে। উল্লেখ্য যে, রেলপথটিতে ২০০৯ সালেই ত্রিশক্তি পরীক্ষামূলক কন্টেইনার ট্রেন চালু করেছিল, ফলে এই রুট বাস্তবে রূপ পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বাংলাদেশ-তুরষ্ক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

বাংলাদেশ-তুরষ্ক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

ANALYSING THE WORLD
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, জাতিসংঘ এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও তুরষ্কের মাঝে সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাধীন ধর্মীয় বিশ্বাস, ইসলামি মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সহাবস্থান রয়েছে। তুর্কি-বাংলা ঐতহাসিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুলের আধুনিক তুরষ্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্কের সম্মানে লিখা "কামাল পাশা" কবিতার মাধ্যমে। এছাড়া খেলাফত আন্দোলনসহ তুর্কি স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অকুণ্ঠ সমর্থন ঐতিহাসিক সম্পর্কেরই স্মারক বটে।

বাংলাদেশ-তুরষ্ক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার


দুই দেশের সম্মিলিত বাণিজ্যিক উদ্যোগের বৃহৎ উদাহরণ হল ডেভেলপমেন্ট এইট (ডি-৮) সংগঠন। তুর্কি উদ্যোগে সৃষ্ট ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল আটটি দেশের মাঝে অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বাংলাদেশ।



তুরষ্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সর্বপ্রথম ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফর করেন এবং একই বছর তাঁর প্রধানমন্ত্রীও সফর করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তুরষ্ক সফরে যান। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ভালই ছিল, কিন্তু ২০১৩ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কার্যক্রমে তুরষ্ক অসন্তুষ্ট হওয়ায় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনা বার্তা পাঠানোর পর সম্পর্কে শিথিলতা আসতে থাকে। এই অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ান অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধিতে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এমতাবস্থায় ২০১৭ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করতে তুরষ্ক যান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সেই উসিলায় দুই রাষ্ট্রনায়কের মাঝে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা সংগঠিত হয়। এর ফল স্বরূপ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিকট ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন তুর্কি রাষ্ট্রপ্রতি ও ফার্স্ট লেডি। তারপর থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা রেখে আসছে তুরষ্ক, যা তাদের পুনরায় বাংলাদেশের কাছে নিয়ে এসেছে।



সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ সজাগ হলেও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তেমন বেশি সমর্থন আদায় করতে পারছে না বলে জানান বিশ্লেষকরা। তাঁরা এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের নিরবতা এবং মিয়ানমার ঘেঁষা নীতি। এরপর রয়েছে বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের বিরোধীতা। বাংলাদেশের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকার পরও নিরবতা এবং বিরোধীতা করার অন্যতম কারণ হতে পারে, তাদের নিকট বাংলাদেশের গুরুত্ব যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারা। কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশ যদি বন্ধুরাষ্ট্রগুলোকে নিজের গুরুত্ব ঠিকমত উপলব্ধি করাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ এই ইস্যুতে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে।
সোলেমানি হত্যার এক বছরে ইরানের অবস্থান

সোলেমানি হত্যার এক বছরে ইরানের অবস্থান

ANALYSING THE WORLD

সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি পাল্টে দেয়া ইরানি সমরবিদ কাশেম সোলেমানি হত্যার এক বছর পূর্ণ হল গত ৩ জানুয়ারি। সিরিয়া থেকে আইএস নির্মূলের এই মহানায়কের মৃত্যুর এক বছরে ইরান প্রতিশোধ স্বরূপ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা হিসেব করার সময় এসেছে। আর হিসেবের খাতা খোলা হবে বিধায়-ই এক বছরপূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী নিয়েছে সতর্কতা, পাঠিয়েছে অত্যাধুনিক বোমারু বিমান।

সোলেমানি হত্যার এক বছরে ইরানের অবস্থান

.
সোলেমানি হত্যার প্রধান বদলা হিসেবে ইরানের মূল ঘোষণা ছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিতাড়িত করা। এর প্রধান ভিত্তি হিসেবে ইরাকে মার্কিনিদের অবস্থান নড়বড়ে করতে গত বছর থেকে উঠেপড়ে লেগেছে ইরান। এরপর ইরান মদদপুষ্ট এমপিদের চাপে ইরাকের পার্লামেন্টে পাশ হয় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিল। আর মাঠ পর্যায়ে তথা মার্কিন দূতাবাসে শুরু হয় কিছুদিন অন্তর অন্তর মিসাইল হামলা। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে সি-র্যাম মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করে। উল্লেখ্য যে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বেষ্টিত দূতাবাসের নজির বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ এর নভেম্বর পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে মোট ৯০ টি রকেট হামলা হয়।[সূত্র:এএফপি]
এরপর সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর তিনটি রকেট দূতাবাস এলাকার অভ্যন্তরে এবং বাকিগুলো বাইরের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। আচমকা এসব হামলার কারণে ২০২০ এর সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্টরমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরাক থেকে মার্কিন দূতাবাস এবং সৈন্য সরিয়ে নেয়ার কথা বলেন। অপরদিকে সিরিয়ায়ও গত এক বছরে মার্কিন বাহিনী দিন দিন আরো কোণঠাসা হয়েছে, তাদের তেল চুরি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।
.
.
উপর্যুক্ত ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায় যে, সোলেমানির মৃত্যুর মাধ্যমে ইরানের মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং কার্যক্রমে যে ভাটা পড়বে বলে মার্কিনিরা আশা করেছিল, তা আদতে হয়নি; বরঞ্চ সোলেমানির মধ্যপ্রাচ্য নীতি যে সঠিক পথে আছে তা জেনে ইরান সেই নীতি প্রণয়নে আরো বেগবান হয়েছে। সোলেমানি সিরিয়া ইরাক ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারীদের যেভাবে শক্তাশালী করেছে, সেই ধারা এখন ইরান আরো বেগবান করেছে; বিশেষ করে যখন আরব রাষ্ট্রগুলো ইজরায়েলের সাথে হাত মেলাচ্ছে। গত মাসে আল-জাজিরাকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, "গত এক বছরে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং ইজরায়েলের প্রতিটি স্থান আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে।" এছাড়াও আরব রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে ফিলিস্তিনের সকল জিহাদি সংগঠন গত ২৯ ডিসেম্বর যৌথ সামরিক মহড়া দেয়, যেখানে দেখা যায় ইরানি মিসাইল ও ড্রোন।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি শাখার সাংগঠনিক পরিকল্পনা-২০২১ ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি শাখার সাংগঠনিক পরিকল্পনা-২০২১ ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল

ANALYSING THE WORLD

 নতুন বছরের প্রথম দিন জানুয়ারীর এক তারিখেই অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক পরিকল্পনা ঘোষণা অনুষ্ঠান। 

চবি শাখার সাংগঠনিক পরিকল্পনা-২০২১ ঘোষণা অনুষ্ঠান

২০২০ সালের প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশার হিসেব কষে সকলের দ্বারে কড়া নাড়ছে নতুন বছর। স্বাভাবিক সময়ে হয়তো নানাবিধ অনুষ্ঠান এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে নববর্ষকে উদযাপন করে নিতো সকলে, বিশেষ করে সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠন নববর্ষকে কেন্দ্র করে হাতে নেয় বিভিন্ন কর্মসূচি। তবে মহামারী করোনার প্রকোপে যেন সর্বত্র চলছে শিডিউল বিপর্যয়। কিন্তু নাহ্! গতিশীল ও সৃজনশীলতা চর্চাকারী সংগঠন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজন করেছে অনলাইন নববর্ষ অনুষ্ঠান এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনা-২০২১ ঘোষণা অনুষ্ঠান।


২০২১ সালের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ঘোষণার এই বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসাইন আজাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকীয় পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাসনিম হাসান আবির


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আরমান শেখ। গুণী সঞ্চলক নেজাম উদ্দীনের প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভাচ্ছা বক্তব্য পেশ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আরমান শেখ। তিনি শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের অনুষ্ঠানে স্বাগতম জানানোর পর আট দফা বিশিষ্ট সংগঠনের পরিকল্পনা-২০২১ সকলের সামনে তুলে ধরেন। পরিশেষে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবনা এবং পরামর্শ আহবান করে সভাপতি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


সভাপতির পর বক্তব্য দেন সংগঠনের পদস্থ সদস্যগণ। 'লেখালখি কেন করতে হবে' এর ব্যাখ্যা দিয়ে চমৎকার গঠনমূলক বক্তব্য পেশ করেন দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন; 'কেন আমাদের সংগঠন আলাদা' এই সম্পর্কে সকলের নিকট স্পষ্ট ধারণা পেশ করেন অর্থ সম্পাদক রাব্বি হাসান। সংগঠনের অদ্যাবধি কার্যক্রম এবং অগ্রযাত্রা  তুলে ধরেন প্রচার সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদৌস সায়মা। অতঃপর সার্বিক বিষয়ে গঠনমূলক বক্তব্য পেশ করেন শাখা সাধারণ সম্পাদক রাফসান আহমেদ।


অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি এবং প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আরো বক্তব্য দেন নবীন তরুণ লেখক আকিজ মাহমুদ এবং মুশফিকুর রহমান ইমন।

অনুষ্ঠান সকলের মাঝে উপভোগ্য করে তুলতে কোরআন তেলাওয়াত, কবিতা আবৃত্তি এবং গান পরিবেশন করেন সংগঠনের গুণী ব্যক্তিত্ব দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন।