-->

আরব বসন্তের এক দশক ও চাওয়া-পাওয়া

আজ এক দশক পাড়ি দেয়ার পর এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা যে বসন্ত প্রকৃতিতে সুবাস ছড়ায়না, সে বসন্তকে আশীর্বাদ আখ্যা দিয়ে

তিউনিসিয়ার ফল বিক্রেতা বুআজিজির গায়ে দেয়া আগুনে পুরো আরব বিশ্বের কর্তৃত্ববাদি সিংহাসনগুলোতে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তা ইতিহাসে আরব বসন্ত নামে একটি অধ্যায় সৃষ্টি করেছে এবং গত ১৭ই ডিসেম্বর তার এক দশক পূর্ণ হল। অন্যায়-অত্যাচারে অতিষ্ট হওয়ার প্রতিবাদ স্বরূপ একজন ফল বিক্রেতা নিজ গায়ে আগুন জ্বালানোর মাধ্যমে পাপাচার-দুর্নীতির যে অন্ধকার দূর করতে চেয়েছিলেন, তা কি আদৌ সম্ভব হয়েছে? আজ এক দশক পাড়ি দেয়ার পর এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা যে বসন্ত প্রকৃতিতে সুবাস ছড়ায়না, সে বসন্তকে আশীর্বাদ আখ্যা দিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগাটা বিশ্ব মানবতাকে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করবে।

আরব বসন্তের এক দশক ও চাওয়া-পাওয়া

তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট আরব বসন্তের বেগ এবং এর পেছনের সমর্থন এত বেশি ছিল যে, তা মাত্র পৌনে দুই বছরের মধ্যে একাধারে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া,বাহরাইন ও ইয়েমেনে জাগরণ সৃষ্টি করে। এই বসন্ত আরব দেশগুলোতে এত দ্রুত প্রভাব বিস্তারের প্রথম কারণ ছিল দেশগুলোতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিদ্যমান এক নায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ও দারিদ্রতা। দ্বিতীয়ত, এর পেছনে সর্বাধিক শক্তি জুগিয়েছিল স্বার্থান্বেষী পশ্চিমা ও ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত শক্তিগুলো। আরব বসন্তের হাওয়ায় ঝলসে যাওয়া দেশগুলোর দিকে তাকালেই আমরা দেখব, অধিকাংশ দেশের শাসকই ছিল পশ্চিমা স্বার্থবিরোধী এবং শক্তিশালী ভিতের।



যদি আরব বসন্তের আশা আকাঙ্ক্ষার দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি, তাহলে দেখি এর পেছনে ছিল আরবীয়দের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন, ছিল দমন-পিড়ন থেকে নিস্তার লাভের আকুতি। কিন্তু আজ আরব বসন্তের এক দশকে এসে আরবীয়রা যেন এই বসন্ত থেকে মুক্তি পেলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারে, এমন অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে। একটি স্বাধীনতার স্বপ্ন কেন আজ ধ্বংসলীলা বা যুদ্ধাবস্থায় পরিণত হল তার কারণ খুঁজতে আমাদেরকে বিগত দশ বছরের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।
আরব বসন্তের শিকার নেতৃবৃন্দ
আরব বসন্তের শিকার নেতৃবৃন্দ


তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি যে গণতন্ত্র এবং দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন নিয়ে বেন আলি সরকারের পতন ঘটানো হয়, তা দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরেও নতুন তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিপ্লবের চার বছরের মাথায় ২০১৪ সালে তাদের জাতিয় পরিসংখ্যান কার্যালয় জানায়, তিউনিসিয়ায় বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশ। ফলে দারিদ্র্য, আর্থিক বঞ্চনা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের তাড়নায় তরুণেরা যোগ দিচ্ছে আইএসের মত উগ্রবাদী গোষ্ঠিগুলোয়।



তিউনিসিয়ায় সরকার পতনের মাত্র এগার দিনের মাথায় সর্বপ্রথম বিদেশে তথা মিশরে এই বিপ্লবের প্রভাবে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ২৫ জানুয়ারীর পর মাত্র ১৮ দিনে ত্রিশ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সামরিক শাসক হুসনি মোবারকের শাসনাবসান ঘটায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, এই আন্দোলনে হুসনির দমন পিড়নে ৮০০ এর অধিক মানুষ মারা যায় এবং ৬,০০০ এর অধিক আহত হয়। মূলত আন্দোলনের শেষ দিকে সেনাবাহীনি হুসনির পক্ষ ছেড়ে জনগণের সমর্থনে আসাতেই দ্রুত সরকার পরিবর্তন সম্ভব হয়। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতৃত্বের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলের কয়েক বছর না যেতেই পুনরায় সেনা সমর্থনে ক্ষমতা দখল করেন বর্তমান স্বৈরশাসক আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি। এরপর পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধিতে ব্রাদারহুড ও বিরোধীমত দমন শুরু হয় দেশটিতে। হাজারো রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়
! সিসি ইজরায়েল এবং পশ্চিমাঘেঁষা নীতি নিয়ে স্বৈরশাসন এখন পর্যন্ত জারি রেখেছেন। পশ্চিমা মিত্র পাশে থাকায় গত বছর এবং এই বছর মিশরে কয়েকবার যে বৃহৎ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, সিসি তা নির্মমভাবে দমন করলেও বাক স্বাধীনতার মুখোশধারী পশ্চিমারা নিরব থেকে এর সমর্থন জুগিয়েছে।



২০১১ সালের একই সময়ে ফেব্রুয়রী মাসে ঐতিহাসিকভাবে গরুত্বপূর্ণ অপর আরব রাষ্ট্র ইয়েমেনে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা আবদুল্লাহ আবু সালেহ'র বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। বিচক্ষণ সালেহ সৌদি ও পশ্চিমা গংদের সাথে দ্রুত বৈঠক করে এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিছু বছর ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধীপক্ষ হুথিদের হাতে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। সালেহ'র পর তড়িঘড়ি করে সৌদি জোট নতুন করে মনসুর হাদিকে দায়িত্ব দেয় যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আরো উস্কে দেয়। এখন পর্যন্ত ইরান, সৌদি এবং আমিরাতের তৃপক্ষীয় যুদ্ধের ময়দান হিসেবে ইয়েমেন পরিচিতি পাচ্ছে। ফলে এক দশক ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ জন্ম দিয়েছে বিশ্বের স্মরণকালের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত আট দশকের মধ্যে সর্বাধিক ভয়ানক দুর্ভিক্ষাক্রান্ত দেশ। ইউনিসেফের মতে, ইয়েমেনের শতকরা আশি ভাগ শিশু পুষ্টিহীনতা ও নানা রোগে ভুগছে এবং মোট জনসংখ্যার ষাট ভাগেরও বেশি মানুষের মুখে দুই বেলা খাবার জুটে দাতা সংস্থাগুলোর ত্রাণের মাধ্যমে। সম্প্রতি ইরানের সামরিক উন্নয়নের প্রভাবে ইয়েমেনের শিয়া বিদ্রোহীদের সমরঞ্জামে এসেছে নতুন আলোড়ন। অত্যাধুনিক ড্রোন এবং রকেটের মাধ্যমে সৌদি জোটের বিরুদ্ধে শক্ত হচ্ছে শিয়া হুথিদের অবস্থান। অপরদিকে আমিরাতও আধিপত্য বিস্তারে ভিন্ন বিদ্রোহি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়, যা সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রকাশ্যে উঠে আসে। এমতাবস্থায় ইয়েমেনের এই ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং আচলাবস্থা নিরসধের কোন চিহ্ন বা সদিচ্ছা কারো মাঝেই দেখা যাচ্ছে না, যা দিন দিন পুরো ইয়েমেনকে ধ্বংসস্তুপের পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
মিশর বিপ্লব
মিশর বিপ্লব

ইয়েমেনের সমসাময়িক অপর বিপ্লবের সম্মুখীন দেশ হল লিবিয়া, যেখানে দীর্ঘ ৪২ বছরের শাসনাবসান ঘটানোর মাধ্যমে আরব বসন্তের হাওয়া প্রবাহিত হয়। সামরিক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় মার্কিনিরা, যার ফলে বিপ্লব গড়ায় গৃহযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর গাদ্দাফির মৃত্যুর মাধ্যমে একটি স্বল্প সময়ের স্থিতাবস্থা দেখতে পায় লিবিয়াবাসী। এর পরপরই শুরু হয় পুনরায় জেনারেল হাফতার এবং ক্ষমতাসীন সরকারের ভয়ানক লড়াই, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুধু পার্থক্য হল, নতুন লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন স্বীকৃত সরকারের পক্ষে তুরষ্কের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে উক্ত অঞ্চলে, যার ফলে হাফতারের আধিপত্য বিস্তার বন্ধ হয়ে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থাসহ সবকিছু ভেঙে পড়েছে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্তত ২৫ লাখ মানুষের ভাগ্যে এমনটা ঘটেছে বলে দাবি অ্যামনেস্টির। কিন্তু এখনও কেউ জানেনা এই গৃহযুদ্ধের শেষ কোথায় কিভাবে হবে।



সর্বশেষ আরব বসন্তের অন্যতম ভয়াবহ ফল হল সিরিয়া। সেনা সমর্থক শাসক বাশার আল আসাদ সরকার পশ্চিমা ইন্ধনে সৃষ্ট আন্দোলনে অনমনীয় থাকলে অন্যান্য দেশগুলোর ন্যায় এখানেও মার্কিনিরা বিপুল পরিমাণে অস্ত্র সরবরাহ করে এবং একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী গড়ে তুলে। ফলশ্রুতিতে সিরিয়া পরিণত হয় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাময় এক যুদ্ধ ময়দান। রাশিয়া এবং ইরানের বহির্সমর্থন নিয়ে আসাদ আজ এক দশক যুদ্ধ চালিয়ে কিছুটা শক্ত অবস্থানে এসেছেন। অপরদিকে মার্কিনিরা সিরিয়াকে বানিয়েছে একটি ধ্বংসস্তুপ, যার তলায় চাপা পড়েছে সিরিয়ার শত শত বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, ঐতিহ্যবাহি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং তেলের খনি। দেশটির অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।এসসিপিআরের মতে, নিহত ৪ লাখ ৭০ হাজার লোকের মধ্যে প্রায় ৪ লাখই মারা গেছে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সহিংসতার শিকার হয়ে। বাকি ৭০ হাজার মারা গেছে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ঘাটতিতে, সংক্রামক ব্যাধিতে, খাবার ও পানির অভাবে। পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ও নিরাপদ থাকার স্থানের অভাবও মৃত্যুর অন্যতম কারণ।সিরিয়া যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক তেল লুটপাটের খবর কিছুদিন পরপরই আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে চাউর হচ্ছে। কখনো কখনো দেখা যাচ্ছে তেল চুরির সময় ইরানের রকেট হামলা কিংবা আল-জাজিরার ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়ে যাচ্ছে। এভাবেই সিরিয়া পরিণত হয়েছে লুটপাটের উন্মুক্ত এক ভূমিতে, যেখানে ইজরায়েল যখন ইচ্ছা তখন এসে বিমান হামলা চালিয়ে চলে যায়।



এখন পর্যন্ত আরব বসন্তের প্রভাবে ১০ দেশে বড় বিপ্লব এবং সাতটি দেশে ছোট আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে কোন দেশই পশ্চিমা সাংবাদিকদের চাপিয়ে দেয়া তথাকথিত আরব বসন্ত'র সেই কাঙ্ক্ষিত বসন্তের দেখা পায়নি বরং ৬৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় দেশগুলোর। তবে এমতাবস্থায়ও পশ্চিমা ইন্ধন এবং একটু শান্তির আশায় আরব বসন্তের হাওয়া গায়ে লাগাতে চায় ইরাক, ইরান, আমিরাত ও সৌদির মত দেশগুলোর বিপ্লবিরা। ইরাকে গত বছর ব্যাপক আন্দোলনের পরে নতুন সরকার আনয়নকারী বিপ্লবিরা আজ এক বছরের মাথায়ও যখন বেকারত্ব দূরিকরণ এবং দারিদ্র্য বিলোপের কোন নাম-নিশানা দেখতে পাচ্ছে না, তখন তারা পুনরায় আন্দোলনের চেষ্টা শুরু করেছে।
আরব বসন্তের পোস্টার
 আরব বসন্তের পোস্টার

আমরা জানি, বিপ্লব মানে পরিবর্তন, নতুন দিগন্তের উন্মোচন, মুক্তির পথে পথ চলা। কিন্তু এই বিপ্লবই যখন এতগুলো দেশের একটিতেও শান্তি আনতে পারে না, তখন তা অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে। আর এর থেকে শিক্ষা নিতে আমাদেরকে সর্বপ্রথম ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।


আরব বসন্তের ব্যর্থতার প্রধান কারণ হল এর পেছনের স্বার্থান্বেষী পশ্চিমা শক্তি। যে শক্তি বিপ্লবিদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে, সে শক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কিংবা শান্তি আনয়ন ছিলনা; যার কারণে বিপ্লব ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হওয়ার পরেও তা জিইয়ে রাখতে তারা দ্বিধা বোধ করেনি। দ্বিতীয়ত, এসবের অধিকাংশ আন্দোলন ছিল নেতৃত্বহীন এবং পরিকল্পনা বিহীন। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় মিশরের গণতান্ত্রিক সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি, বরং ক্ষমতা শেষে ফাঁসির সম্মুখে নিরবে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। তৃতীয়ত, বিপ্লবীরা ছিল মতাদর্শগতভাবে দ্বিধা বিভক্ত। যেসব সেক্যুলারপন্থী তরুণদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, সরকার পতনের পর তাদের সাথেই অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইসলামিক শাসনে বিশ্বাসীদের মত পার্থক্য তৈরি হয়, যা তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে দুর্বল করে পুনরায় অপর এক স্বৈরশাসকের উত্থানের পথ সুগম করে দেয়।


সুতরাং আরব বিশ্বে সত্যিকারের শান্তি এবং জনগণের স্বাধীনতা ও দারিদ্র্য মোচন করতে চাইলে আরব বসন্ত থেকে শিক্ষা নিয়েই আরবীয়দের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটা আন্দোলনের পেছনের নৈতিক কারণসহ সমর্থকদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতাদর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের উন্নতিকে সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে নিয়ে আন্দোলন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই প্রকৃত শান্তি স্থাপন সম্ভব হবে। আন্যথায় বিশ্ব শক্তিগুলোর ক্রিড়াস্থলে পরিণত হয়ে নিজেদের সবকিছুকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে ইতিহাসের অন্ধকারে জায়গা করে নিতে হবে।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.