-->
ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

ANALYSING THE WORLD

গত ২৭ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল হোতা মুহসিন ফখরিজাদেহকে আবসার্দ শহরের একটি রাস্তায় সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয়। হামলার ধরণ ছিল সেই আগের মতোই। প্রথমে গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, অতঃপর মেশিনগানের গুলিবর্ষণ। উল্লেখ্য যে, ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার এই চোরাগুপ্তা হামলার নীতি ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই অনুসরণ করে আসছে।

ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

আশির দশকে ইসলামি বিপ্লব ঘটিয়ে ইজরায়েলি দোসর রেজা শাহ পাহলভিকে উৎখাতের মাধ্যমে বর্তমান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার ইরানকে ইজরায়েলের শত্রুর আসনে বসায়। ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধর্মীয় সরকার ঘোষণা করলো, ইসলামে পরমাণু কর্মসূচির কোন বৈধতা নেই, ফলে সব চুল্লি ধ্বংস করা হল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই তথা ১৯৮০ সালে ইরান ইরাকের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। এই যুদ্ধে সাদ্দাম হোসাইন ইরানিদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ করে এবং এর বিপরীতে তুলনামূলক অপ্রচলিত অস্ত্রগুলো ইরানের বিপদ ডেকে আনে। যুদ্ধের পর প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজস্ব অস্ত্র তৈরি ও উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহে জোর দেন। তার পরপরই সরকারি এবং ধর্মীয় নেতাদের ফতোয়া পাল্টে যায়! তারা ভোল পাল্টে বলেন, "আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে।"
.
.
এরপর ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসেবে একটি মিটিঙের কথা জানা যায়। ১৯৮৭ সালে দুবাই শহরে ইরান একটি মিটিং আয়োজন করে, যেখানে আট জন সদস্যের মধ্যে তিনজন ছিলেন ইরানি, দুইজন পাকিস্তানি এবং তিন জন ইউরোপীয়। ধারণা করা হয়, এর সবাই পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন এবং দুইজন পাকিস্তানির মধ্যে একজন ছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক ড• আবদুল কাদির খান।
.
.
পরবর্তীতে ভগ্ন সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র এবং যন্ত্রাংশ বিক্রির সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইরান তার পরমাণু স্থাপনা গড়ে তুলে। এই সম্পর্কে ইজরায়েল প্রথম তথ্য পায় ১৯৯৮ সালের ৮ জুন ইরানের স্বপক্ষত্যাগী একজন বিজ্ঞানী ড• ইফতেখার খানের এফবিআইকে দেয়া তথ্যের মাধ্যমে। এর যাচাই বাছাই চলাকালীন সময়ে চার বছর পর ২০০২ সালে ইরানের বিরোধী দলীয় আন্ডারগ্রাউন্ড এক নেতা সিআইএকে একটি লেপটপ দেয়, যা পরমাণু কেন্দ্রের তথ্যে পরিপূর্ণ ছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিশ্ব সমালোচনার মুখে পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী পরমাণু ফর্মুলা বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জনের কথা স্বীকার করেন একটি টিভি চ্যানেলে।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চবি শাখার "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চবি শাখার "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল

ANALYSING THE WORLD

আজ ২৭ নভেম্বর রাত আট ঘটিকায় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা।


অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং গুণী লেখক আলীউর রহমান এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদিকা লেখিকা নিগার সুলতানা সুপ্তি


নেজাম উদ্দীনের চমৎকার সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আরমান শেখ। তিনি পাঁচটি ধাপে তাঁর বক্তব্যকে ভাগ করে নবীন লেখকদের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং  বুদ্ধিজীবী হয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে সকলকে উৎসাহিত করেন।


অতঃপর বিশেষ অতিথির ভূমিকায় নিগার সুলতানা সুপ্তি লেখালেখির জগতের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে নবীন লেখকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানের পাশাপাশি সেসম্পর্কে বাস্তব কিছু উদাহরণ পেশ করে চমৎকার কিছু দিকনির্দেশনা দেন।


পরিশেষে বক্তব্য প্রদান করেন, প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে হুমায়ুন আহমেদ, আহমদ ছফা থেকে শুরু করে দস্তভয়েস্কির উদাহরণ টেনে নবীন লেখকদের সামনে এটাই উপস্থাপন করেন যে, লিখা প্রকাশ নাহলে কখনো হতাশ হওয়া যাবেনা। হুমায়ুন আহমেদের প্রথম বইটি তিন বছর প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরার পর পরিশেষে প্রকাশিত হয়েছিল প্রকাশকদের প্রতি আহমদ ছফার নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকির মাধ্যমেই। একইভাবেই হতাশায় যেদিন দস্তভয়েস্কি আত্মহত্যা করতে যাবেন, সেদিনই প্রথম তিনি তাঁর লেখা খুঁজে পান পত্রিকায়। এভাবে একের পর এক দুর্দান্ত উদাহরণ টেনে নবীন লেখকদের উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি লেখকদের যাবতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর দেন এই গুণী সাংবাদিক।
 পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?

পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?

ANALYSING THE WORLD

আগামী বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সাড়া জাগানো মমতার পশ্চিমবঙ্গ দখলে এখন থেকেই ভারতীয় রাজনৈতিক মাঠ বেশ সরগরম। পরপর দুইবার নির্বাচিত হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে মমতার একটি শক্তিশালী অবস্থান, আর এই অবস্থানের ভিত্তিতেই বিভিন্ন সময়ে তাকে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের গলার কাঁটা হয়ে আবির্ভাব হতে। ফলে এই রাজ্য থেকে মমতাকে হঠাতে বিজেপি সরকার কয়েক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করেছে, যার কারণে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই রাজনীতির উষ্ণ হওয়া বইছে সেখানে।

 পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?


পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গেঁড়ে দিল্লির দিকে হাত বাড়ানো অগ্ননিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বশেষ আন্দোলনে রাজপথে দেখা যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) পাশের পর। এই আন্দোলনে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান ও নৈতিক ভিত্তি অন্যান্য রাজ্যকেও আন্দোলনের পথে টেনে এনেছিল, যার কারণে আরো কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এনআরসি'র বাস্তবায়নে অসম্মতি জানায়। এই আন্দোলন ট্রেন এবং সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগানোর মত ভয়াবহ রূপ ধারণ করার পর স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেয়ার মত হুমকিও মমতা বিজেপি সরকারকে দিতে বিলম্ব করেননি। এভাবেই দিন দিন ধর্মনিরপেক্ষাতা এবং ইসলামিক সন্তুষ সাথে নিয়ে বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় যখন মমতা বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছেন, তখন বিজেপির ছলে বলে কলে কৌশলে মমতাকে আটকাতে আট-ঘাট বেঁধে বছরের শুরু থেকে নেমে পড়া ছাড়া কোন উপায় আর থাকে না।



পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা ফলপ্রসু তা আমরা বিগত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। যেখানে অতীতে বিজেপি দুইটির বেশি আসন কখনো পায়নি, সেখানে ১৮ টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত দল হিসেবে বাজিমাত করেছে তারা। তবে এর ইঙ্গিত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখনকার বিজেপির এই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনধারী হওয়ার ব্যাপারটা তৃণমূল পাত্তা না দেয়াতেই লোকসভায় এই ধাক্কা খেতে হল তাদের। এর থেকে বোঝা যায় যে, ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৯৪ টি আসনে মাত্র তিনটি আসন পেয়ে ভরাডুবি হওয়া সেই বিজেপি আর এখন নেই।
এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য  অভ্যুত্থান (আরসিইপি)

এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য অভ্যুত্থান (আরসিইপি)

ANALYSING THE WORLD
সম্প্রতি বিশ্ববাণিজ্যের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিন ১৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হল রিজিয়োনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ(আরসিইপি) চুক্তি। চীনের নেতৃত্বে স্বাক্ষরীত এই চুক্তিতে থাকছে আসিয়ানভুক্ত দশটি দেশ ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক শক্তিগুলো

এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য অভ্যুত্থান

আরসিইপি চুক্তির আলোচনা ২০১২ সালে চীনের প্রস্তাবনায় যখন শুরু হয়, তখন থেকেই এর আওতাভুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। কিন্তু ট্রাম্প সরকার ২০১৭ সালে এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগের বছর তথা ২০১৬ সালে এশিয়ার দশটি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ(টিপিপি) থেকেও বেরিয়ে যান ট্রাম্প। ট্রাম্পের হঠকারী এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে চীন আরসিইপি আলোচনা জোরদার করে, যার ফলশ্রুতিতে আজ ইতিহাস সৃষ্টি করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠল।
.
.
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়েও বৃহৎ এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের মোট জিডিপি বিশ্ব জিডিপির উনত্রিশ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট উৎপাদিত পণ্যের এক তৃতিয়াংশ এই অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়। ফলে এর প্রভাব পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যেও খানিকটা পড়বে। চুক্তির কারণে এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো পাশ্চাত্য নির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাক্ষরিত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের দিকেই মনোযোগ দিবে।
.
.
আরসিইপি এমন একটি সময়ে স্বাক্ষরিত হল, যখন চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করে ভৌগলিক আধিপত্য বিস্তার প্রতিযোগিতা পর্যন্ত গড়িয়েছে। তদুপরি মার্কিন নতুন বিচক্ষণ কর্ণধার নিতে যাচ্ছেন উপর্যুপরী চীন বিরোধী নীতি। এমতস্থায় চীনের নেতৃত্বে এশীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে সর্ববৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে চীনকে অনেক শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে তাদেরই শক্তিশালী মিত্র দেশগুলোতে চীনের প্রভাব বিস্তার ও সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হল।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

ANALYSING THE WORLD

গতকাল ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় জুম অ্যাপের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠান যথারীতি রাত আট ঘটিকায় সঞ্চালক নেজাম উদ্দীনের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অতিথিবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীগণের প্রবেশের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

সাইফুল ইসলামে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর সভাপতি আরমান শেখ নবীন তরুণ লেখকদের সংগঠনের শপথ বাক্য পাঠ করান। অতঃপর বক্তব্য প্রদান করেন বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহানুর ইসলাম।

বিশেষ অতিথির মূল্যবান বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তরের কলামিস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড• মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তাঁর বক্তব্য শুরুর পরে তরুণ লেখকগণ মোহিত হয়ে শুনতে থাকেন দীর্ঘ লেখালেখির জগতের বিবিধ অভিজ্ঞতা।
আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

ANALYSING THE WORLD
মধ্যপ্রাচ্যের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ককেশাস অঞ্চলে তেলসমৃদ্ধ আজারবাইজানের সাথে আর্মেনিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেড় মাস গড়িয়ে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে স্থির হল গত ১০ নভেম্বর। পুতিনের বৈরি আচরণ এবং মার্কিনিদের তুখোড় রাজনৈতিক চালে রাশিয়ার প্রতিবেশি বন্ধুরাষ্ট্রের সংখ্যা এখন খুবই কম, এর মাঝেই যদি পার্শবর্তী বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের যুদ্ধের মাধ্যমে বহিঃশক্তিগুলোকে ককেশাস অঞ্চলে দাওয়াত দেয়া হয়, ওবে রাশিয়ার ঘুম হারাম হবারই কথা।

 আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

দেড় মাসের যুদ্ধে তিন তিন বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মত ঘটনার জন্ম দিয়ে যেখানে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছিল, সেখানে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রবেশের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবেই, বিশেষ করে যখন এর মধ্যকার একটি দেশ তেলসমৃদ্ধ হয়। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন মুল্লুকে এসেছে নতুন বিচক্ষণ রুশবিরোধী কর্ণধার, তাই পুতিন অনন্য নজির স্থাপন করে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিশ্চিত করলেন চমৎকার একটি শান্তিচুক্তি। এবং ঐ চুক্তিকে টেকসই করতে তিনি উক্ত অঞ্চলে রাশিয়ান সেনা মোতায়েনও আবশ্যক করে দিয়েছেন। এতে শুধু চুক্তিই টেকসই হবেনা, বরং দুই দেশের উপর রাশিয়ান প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং মাঠ পর্যায়ে রাশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হবে।



এখন আসি দশ নভেম্বর স্বাক্ষরিত আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে। উল্লেখ্য যে, এই চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও এর সময়সীমা শেষের ছয় মাস আগে কোন পক্ষ আপত্তি না তুললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি আরো পাঁচ বছরের জন্য বর্ধিত হওয়ার বিধান এতে উল্লেখ রয়েছে। নয় দফার এই চুক্তির মূলভাব হলো আজারবাইজান তার নতুন অধিকৃত ৫ টি সিটি, ৪ টি শহর এবং ২৪০ টি গ্রামের পাশাপাশি আরো নতুন কিছু অঞ্চলের দখল পাবে যেগুলো তারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেনি। তবে এই চুক্তির অন্যতম একটি বিষয় হলো, আজারবাইজান থেকে সম্পূর্ণ পৃথক আর্মেনিয়ার আরেকপাশে অবস্থিত আজারবাইজানের ছিটমহল নকশিভানের সাথে আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে স্থল যোগাযোগ তৈরি। আর্মিনিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া এই আজারি স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা করে দিতে হবে আর্মেনিয়াকেই এবং এর তদারকিতে থাকবে রাশিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং এফএসবি। ফলে আজারবাইজানের জন্য নকশিভানের যোগাযোগ ব্যায় এবং পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ অনেকটা কমে আসবে। এছাড়াও আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে যাতায়াতের সুযোগে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনারও একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে আজারিদের জন্য।
বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?

বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন প্রার্থীর বিজয় বিশ্বনেতৃত্বে সৃষ্টি করেছে একাধারে আশার আলো, অস্বস্তি এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। মার্কিন মুল্লুকের নতুন কর্ণধারের আচরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বিশ্ব মিডিয়াগুলো এখন সরগরম। এর অন্যতম কারণ হল বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সংকট এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?


বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাঠ তথা মধ্যপ্রাচ্যের উদিয়মান শক্তি ইরান এবং তুরষ্কের প্রতি বাইডেন কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন তা এখন অনেকেরই চিন্তার বিষয়। এতদিনের সকল জল্পনা-কল্পনার পর সম্প্রতি সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন দূত জেমস জেফরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে-কে সিরিয়া থেকে সরিয়ে নেবে তুরষ্কের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে। সন্ত্রাসিদের সাথে সম্পৃক্ততার অজুহাত দেখিয়ে গেরিলা গোষ্ঠীটির সমর্থন বন্ধ করার কারণ স্বরূপ তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার করণে তুরষ্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যা পুনরোদ্ধার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।


বাইডেনের ক্ষমতায় আসার পরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত মার্কিনিদের নতুন তুরষ্কনীতির ইঙ্গিতই বটে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা যায় সিরিয়ায় তুরষ্কের সহায়তা নিয়ে মার্কিনিদের নতুনভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি এবং রাশিয়াকে চাপে ফেলা। আর এই উদ্দেশ্য পাকাপোক্ত করতে মধ্যপ্রাচ্যের অপর শক্তি ইরানকেও শান্ত রাখতে পরমাণু চুক্তি নবায়নের চিন্তা করছেন বাইডেন।


ইতোমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি বিষয়ক বিশ্লষক ড্যানিয়েল প্লেটকাসহ অনেকেই বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি ইরানঘেঁষা এবং সৌদি বিমুখ হতে পারে বলে মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি দেখা গেছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র হলেও প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পর বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। [রয়টার্স]


তবে ইরানঘেঁষানীতি গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতে ইজরায়েলের অভিবাসন মন্ত্রী হানেগোভি তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, বাইডেনের ইরানঘেঁষানীতি ইরান-ইজরায়েলকে সহিংতার দিকে ঠেলে দেবে।
কিন্তু ইজরায়েলি ফরেন এফেয়ার্স এন্ড ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান জোভেভি বলেন, "ওবামার সময় বাইডেনকে দেখেছি, তিনি ইজরায়েলের একজন পরীক্ষিত বন্ধু। যদি পরমাণু চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হয় তাহলে তা আগের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী হবে।"
উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বে দিন দিন যেভাবে কট্টরপন্থা, উগ্রবাদ বা মৌলবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বিশ্ব থেকে শান্তির নিশানা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক দেশেই কট্টরপন্থা জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং এর সমর্থনে সরকারও নির্বাচিত হচ্ছে, যা খুবই আশ্চর্যজনক এবং নির্মম সত্য। এবং দুঃখজনকভাবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে, যা বিশ্বকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে দিন দিন।

উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

বিশ্বে দিন দিন যেভাবে কট্টরপন্থা, উগ্রবাদ বা মৌলবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বিশ্ব থেকে শান্তির নিশানা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক দেশেই কট্টরপন্থা জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং এর সমর্থনে সরকারও নির্বাচিত হচ্ছে, যা খুবই আশ্চর্যজনক এবং নির্মম সত্য। এবং দুঃখজনকভাবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে, যা বিশ্বকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে দিন দিন।


বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে আমরা এখন দেখি কট্টরপন্থার সমর্থন করছে রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের সমর্থন দিচ্ছে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই "উগ্র জাতীয়তাবাদ"-এ বিশ্বাসি। এই তত্ত্বটি প্রথম দিকে অধিক সমালোচিত হলেও বর্তমানে মানুষের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত।