-->

ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

বিভিন্ন মিডিয়ায় যখন বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে খবর প্রকাশ হয়, এরপর থেকে ভারত বাংলাদেশের সাথে নতুন উদ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সম্প্রতি যেসকল পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সম্পর্ক মজবুত করণে কতটুকু ভূমিকা রাখবে সে বিষয়ে বিশ্লেষক মহলে সৃষ্টি হয়েছে যথেষ্ট সংশয়।

ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার এসে পৌঁছানোর পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কী ধরনের গতি আসতে যাচ্ছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এর আগে বিভা গাঙ্গুলীকে ভারত সরকার সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোন উন্নতি করতে না পারার ব্যর্থতার দায়ে। বিভিন্ন মিডিয়ায় যখন বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে খবর প্রকাশ হয়, এরপর থেকে ভারত বাংলাদেশের সাথে নতুন উদ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে।


দেখা যায়, হঠাৎ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা কোন ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহলে কিছু বৈঠক করেন। এরপর সম্প্রতি ভারত তিস্তার মেগা প্রকল্প থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখতে তিস্তা চুক্তিসহ আরো ছয়টি নদীর পানিবন্টন চুক্তি শীঘ্রই করবে বলে ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক মহলসহ বাংলাদেশের মিডিয়ায় যখন সীমান্ত হত্যাকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বাঁধা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের বৈঠকে ঢাকায় সীমান্ত হত্যাকে শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে বলে ঘোষণা দেন বিএসএফ প্রধান। তবে এই আশ্বাস ভারত দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে দিয়ে আসছে, যা কখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।


সর্বশেষ বাংলাদেশ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলার নিকট রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পাশে দাড়ানোর আহবান জানায়। উল্লেখ্য যে, গত এক মাস আগেই ভারত-চীন উত্তেজনাকালীন সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর নিজ থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে তখন থেকে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে। তবে সর্বদা ভারতের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভাসমান অবস্থান বাংলাদেশের জন্য কখনো ভাল কিছু বয়ে আনেনি।
ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ
ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও ভারত রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে ভারতের অবস্থান আরো পরিষ্কার হয় গত রবিবার অনুষ্ঠিত ভারত-মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকে। মিয়ানমারের সাথে ভারতের নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হলেও শ্রীংলা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলেননি বলে জানা যায়, যা বাংলাদেশের নিকট ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত।


এদিকে কয়েকদিন আগে ইকনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির নিকট চীন কর্তৃক প্রেরিত অস্ত্রের বড় একটি চালানের খবর ফাঁস হয়েছে। তারা বলেছে, এই খবরের যথেষ্ট প্রমাণ এবং তথ্য তাদের কাছে আছে, এবং এসব তথ্য দিয়েছে স্বয়ং অস্ত্র চালানের সাথে জড়িত ব্যক্তিরাই। ধারণা করা হয়, মিয়ানমারের প্রায় সাতটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে চীন অস্ত্র সরবরাহ করে। এই বিষয়টি দুই মাস আগে খোদ মিয়ানমার আর্মির উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন তার বক্তব্যে। এসব কারণেই চীন থেকে ধীরে ধীরে মিয়িনমার দূরে সরে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। তবে এই সরে আসাটা কতটা সম্ভব এবং চীনের জাল থেকে বের হতে মিয়ানমারের কত বছর লাগবে তা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা। এই পরিস্থিতিতে ভারত ধীরে ধীরে মিয়ানমারে ঢুকতে চেষ্টা করবে এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি করে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধি করবে যা বর্তমানে সফররত ভারতের প্রতিনিধিগণের কার্যকলাপে স্পষ্ট। অপরদিকে চীনও বাংলাদেশের প্রতি জোর দেবে দীর্ঘস্থায়ী টেকসই সম্পর্ক সৃষ্টিতে। কারণ এই অবরোধপূর্ণ চ্যালেঞ্জিং মূহুর্তে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ হাতছাড়া হলে তাল সামলাতে পারবে না তারা।


অপরদিকে পেঁয়াজ বন্ধ থেকে শুরু করে সীমান্ত হত্যাসহ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশে থেকে দূরে থাকায় বাংলাদশ ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়বে এবং ভারতের সাথে দূরত্ব বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যেই সীমান্তে পেঁয়াজ ধরে রেখে কিছুদিন পর পেঁয়াজের জুস বানিয়ে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কতটা খুশি করতে পেরেছে ভারত, তা ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেই বোঝা যাচ্ছে। আর তাদের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকারও এইবার পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন প্রদানে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। 


কিন্তু ভারত চাইছে বাংলাদেশ আর বার্মা, দুটোকেই হাতে রেখে এই অঞ্চলে নিজের অর্থনৈতিক এবং সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করতে। দেখা যাক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্ত কিভাবে এর প্রতিক্রিয়া দেখায়•••

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.