-->

ভারতের ভুল কূটনীতি

সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিনিয়োগ, সাফল্য, যুদ্ধ তেমন বেশি চেতনা সৃষ্টি করতে না পারলেও ভারতের পেঁয়াজ আমাদের মতো হুজুগে বাঙালিদের আড়মোড়া ভেঙ্গে

সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিনিয়োগ, সাফল্য, যুদ্ধ তেমন বেশি চেতনা সৃষ্টি করতে না পারলেও ভারতের পেঁয়াজ আমাদের মতো হুজুগে বাঙালিদের আড়মোড়া ভেঙ্গে বাজারে ছুটিয়েছে ঠিকই। সম্প্রতি হঠাৎ BSF এর বৈঠক বাতিল এবং পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে ভারত নিজের অসন্তুষ্টির কথাই জানান দিয়েছে নিশ্চিতভাবে। 

ভারতের ভুল কূটনীতি

তবে অসন্তুষ জানান দেয়ার বিভিন্ন মাধ্যম থাকলেও সম্প্রতি ভারত কটুক্তি, মিডিয়া সমালোচনা এবং বৈরি আচরণের মাধ্যমেই জানান দিচ্ছে। "ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বন্ধু" তত্ত্বে বিশ্বাসী দুই দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের মাঝে এমন আচরণ একটু ব্যতিক্রমি বটে, যা আগে কখনো ঘটেনি। সাধারণত অতীতে বাংলাদেশের জন্য হাঁটু নামলে বাংলাদেশ গলা পর্যন্ত নেমে নিজের সর্বোচ্চ উদারতা প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী সরকার। আর সেই সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়েই ভারতের এমন আচরণ বাংলাদেশকে সবকিছু নতুনভাবে ভাবতে তাড়া দিচ্ছে।


কাঁচা বাজারের মতো জনসাধারণের সংবেদনশীল জায়গায় অকারণে অস্থিরতা সৃষ্টি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সফলতা এবং যাবতীয় আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী মনোভাবও বৃদ্ধি করবে। তাই গত বছর থেকেই সরকার পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই গবেষকগণ উচ্চফলনশীল বীজের উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছেন। বলা বাহুল্য যে,বাংলাদেশের বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ, বাকি এক লাখ মিশর, ভারত, পাকিস্তান থেকে আনা হয়, যা নিয়ে এত তোলপাড়••• 

ভারতের ভুল কূটনীতি
ভারতের ভুল কূটনীতি


আলোচ্য বিষয় পেঁয়াজের উৎপাদন নিয়ে নয়। পেঁয়াজে আগামী কয়েক বছরেই বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হয়ে যাবে, তবে ভারত কি বাংলাদেশের সাথে যে বৈরিতা সৃষ্টি করছে তা উপশম করতে পারবে? বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত যে ডোমিনেটিং ডিপ্লোমেসি বলবৎ করছে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আগত দূরত্বকে দ্রুততর করবে বৈকি। কারণ বাংলাদেশ আগের মতো উজার করে দেয়ার মনোভাব পোষণ করছে না এখন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।


ইতোমধ্যেই তুরষ্কের সাথে বাংলাদেশের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এরদোগানের বাংলাদেশ সফরে ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও আসন্ন D-8 সম্মেলনে ঢাকায় আসতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরো কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের এমন কিছু সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের জন্য সুখকর নাও হতে পারে•••

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.