-->
আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

ANALYSING THE WORLD
মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে, যেখানে দ্রুত বড় শক্তিগুলোর প্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই রাশিয়া, ইরান, তুরষ্ক এবং ইজরায়েল নিজেদের সমর্থন স্পষ্ট করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। তবে যার দলই ভারী হোক, কেউ সত্যিকার অর্থে এখানে বিজয়ী হতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

সাধারণত যুদ্ধে সৈন্যরা জীবন বাজি রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাতে লড়ে যায়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ বা সেনা নায়ক একটি ইস্যু তৈরি করেন। আর এই ইস্যু সৈন্যদের কাছে যুদ্ধের নৈতিকতা স্পষ্ট করে বলেই সেনারা সর্বাত্মক যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। যেমনটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে হয়েছিল•••


প্রথমে পাক আর্মিদের বাঙালিরা হিন্দুদের মদদপুষ্ট পাকিস্তানের শত্রু বলে গণহত্যা চালাতে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছিল পাক সরকার। পরবর্তীতে কয়েক মাস পর থেকে সেনা সদস্যরা বুঝতে পারে তারা নিরস্ত্র একটি নির্দোষ জাতির উপরে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, ফলে নৈতিকভাবে নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। অপরদিকে দেশের জন্যে মুক্তিবাহিনী প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শুরু করে।


ঠিক একইভাবে আজারবাইজান গতকাল প্রথমে হামলা চালালেও তারা প্রচার করে আর্মেনিয়াই প্রথম হামলা চালিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে। তবে এই যুদ্ধে আজারবাইজান আগে থেকেই নৈতিক অবস্থানে আছে আর্মেনিয়ার বিভিন্ন উস্কানিমূলক হামলার কারণে। আর এর প্রমাণ হলো আজারবাইজানের নাগরিকদের যুদ্ধের দাবিতে কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও, এমনকি সরকারকে ভীতু বলে তাদের পদত্যাগের আহবান। এর থেকে বোঝা যায় দেশটির অভ্যন্তরেই যুদ্ধের যথেষ্ট যৌক্তিক ভিত্তি সৃষ্টি হয়েছে।
আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?

আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?

ANALYSING THE WORLD

সম্প্রতি ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া আফগান-তালেবান সংঘর্ষ এবং মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম  যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতারের রাজধানী দোহায় ঐতিহাসিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনাকে ঘিরে যেমন তৈরি হয়েছে শান্তির আকাঙ্ক্ষা, তেমনি তৈরি হয়েছে ভীতিও।

আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?  

আফগান সরকার ও তালেবান, উভয় পক্ষের রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রা যা আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে দুই পক্ষই সচেষ্ট। তালেবানের অন্যতম দাবি বিদেশি হস্তক্ষেপ বিহীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা। অপরদিকে আফগান সরকারের দাবি নিরাপদ দেশ গঠন এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাসহ সকলের অধিকার অক্ষুন্য রেখে পারস্পরিক অংশিদারীত্ব নিশ্চিতকরণ। ইতোমধ্যেই আল-জাজিরার সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তালেবান-আফগান আলোচনায় আফগান নারীরা নিজেদের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিসর্জন দেয়ার আশঙ্কা করছেন।


উল্লেখ্য যে, এই চুক্তির প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হয়েছিল এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনার মাধ্যমে। এতে তালেবানের প্রধান শর্ত ছিল আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এই শর্তে রাজি হয়ে ধাপে ধাপে কয়েক বছরের মধ্যে সব সেনা সরিয়ে নেয়ার শর্তেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে বর্তমানে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে ৫,০০০ বন্দির মুক্তি দাবি করে সংগঠনটি। দীর্ঘদিনের দর কষাকষির পর, সর্বশেষ গত মাসে কিছু ভয়ানক হামলার আসামিকেও মুক্তি দিয়ে যাবতীয় শর্ত পূরণের মাধ্যমে আফগান সরকার চলমান আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে, যার ফলস্বরূপ দুই পক্ষ এখন কাতারে সামনা সামনি বসেছে। বলা বাহূল্য যে, তালেবান আগে কখনো ক্ষমতাসীন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং মার্কিন মদদপুষ্ট পুতুল সরকার বলে আখ্যা দিয়ে সরকার প্রদত্ত সব ধরনের আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ভারতের ভুল কূটনীতি

ভারতের ভুল কূটনীতি

ANALYSING THE WORLD
সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিনিয়োগ, সাফল্য, যুদ্ধ তেমন বেশি চেতনা সৃষ্টি করতে না পারলেও ভারতের পেঁয়াজ আমাদের মতো হুজুগে বাঙালিদের আড়মোড়া ভেঙ্গে বাজারে ছুটিয়েছে ঠিকই। সম্প্রতি হঠাৎ BSF এর বৈঠক বাতিল এবং পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে ভারত নিজের অসন্তুষ্টির কথাই জানান দিয়েছে নিশ্চিতভাবে। 

ভারতের ভুল কূটনীতি

তবে অসন্তুষ জানান দেয়ার বিভিন্ন মাধ্যম থাকলেও সম্প্রতি ভারত কটুক্তি, মিডিয়া সমালোচনা এবং বৈরি আচরণের মাধ্যমেই জানান দিচ্ছে। "ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বন্ধু" তত্ত্বে বিশ্বাসী দুই দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের মাঝে এমন আচরণ একটু ব্যতিক্রমি বটে, যা আগে কখনো ঘটেনি। সাধারণত অতীতে বাংলাদেশের জন্য হাঁটু নামলে বাংলাদেশ গলা পর্যন্ত নেমে নিজের সর্বোচ্চ উদারতা প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী সরকার। আর সেই সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়েই ভারতের এমন আচরণ বাংলাদেশকে সবকিছু নতুনভাবে ভাবতে তাড়া দিচ্ছে।


কাঁচা বাজারের মতো জনসাধারণের সংবেদনশীল জায়গায় অকারণে অস্থিরতা সৃষ্টি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সফলতা এবং যাবতীয় আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী মনোভাবও বৃদ্ধি করবে। তাই গত বছর থেকেই সরকার পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই গবেষকগণ উচ্চফলনশীল বীজের উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছেন। বলা বাহুল্য যে,বাংলাদেশের বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ, বাকি এক লাখ মিশর, ভারত, পাকিস্তান থেকে আনা হয়, যা নিয়ে এত তোলপাড়••• 

ভারতের ভুল কূটনীতি
ভারতের ভুল কূটনীতি


আলোচ্য বিষয় পেঁয়াজের উৎপাদন নিয়ে নয়। পেঁয়াজে আগামী কয়েক বছরেই বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হয়ে যাবে, তবে ভারত কি বাংলাদেশের সাথে যে বৈরিতা সৃষ্টি করছে তা উপশম করতে পারবে? বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত যে ডোমিনেটিং ডিপ্লোমেসি বলবৎ করছে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আগত দূরত্বকে দ্রুততর করবে বৈকি। কারণ বাংলাদেশ আগের মতো উজার করে দেয়ার মনোভাব পোষণ করছে না এখন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।


ইতোমধ্যেই তুরষ্কের সাথে বাংলাদেশের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এরদোগানের বাংলাদেশ সফরে ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও আসন্ন D-8 সম্মেলনে ঢাকায় আসতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরো কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের এমন কিছু সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের জন্য সুখকর নাও হতে পারে•••
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

ANALYSING THE WORLD
বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিকভাবে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি হলো মার্কিন মদদপুষ্ট তাদের সমর্থকগোষ্ঠী, অপরটি মার্কিন বিরোধী। এই দ্বন্দ্বের অন্যতম আরেকটি শাখা হলো চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ, যা এখন সামরিক পর্যায়ে গড়াতে যাচ্ছে দক্ষীণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে। আর এই দক্ষিণ চীন সাগরের আধিপত্যের সাথে জড়িয়ে আছে ভারতসহ অনেকগুলো রাষ্ট্রের ভাগ্য।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ


চীন দক্ষীণ এশীয় অঞ্চলে প্রতিযোগী শক্তিগুলোর উপর প্রভাব বিস্তারের সূচনা করতে চায় ভারতকে দিয়ে, যার ফল হলো বিদ্যমান চীন-ভারত যুদ্ধ উত্তেজনা। কথায় আছে, "পৃথিবীর জলভাগের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, পৃথিবীর শাসনও তার হাতে থাকবে"। ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন মূলত লাদাখকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আইওয়াশের আড়ালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত স্থাপনা তৈরি করছে এবং সাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। চীনের এশীয় অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে মার্কিনিরাও তৈরি করেছে চীন বিরোধী আঞ্চলিক জোট, যেখানে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া অন্যতম।
তবে এখন সব দেশই বুঝে, যুদ্ধ করে স্থায়ী কোন স্বার্থ হাসিল করা যায়না। এখন চলছে নব্য উপনিবেশবাদের যুগ, যেখানে সেনাশক্তিছাড়াই একটি দেশকে অদৃশ্য শক্তি তথা অর্থনীতির মাধ্যমে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই চীন-ভারত উত্তেজনায় দুই দেশের যতটুকু তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তার দ্বিগুণ তৎপরতা অর্থনৈতিক খাতে অব্যাহত রেখেছে দুই দেশই। এক্ষেত্রে ভারত চীনের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে আছে।
চীন যখন আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির জন্য আট-ঘাট বেঁধে নেমেছিল, তখনই তারা ইরানের সাথে যুগান্তকারী চুক্তি, পাকিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক করিডোর ও সামরিক বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে পুরোদমে কাজ আরম্ভ এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও সামরিক সহায়তা প্রকল্প নিশ্চিত করেছিল। অথচ সেই তুলনায় দীর্ঘ কয়েক মাস পর নয়া দিল্লি ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ শুরু করেছে সম্প্রতি, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানেও কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করতে পারে তারা। এতদিন ভারত চীনের তৈরি ত্রিমুখী সীমান্ত চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিলো এবং বাংলাদেশের প্রতি অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে অতিমাত্রায় আশাবাদী ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
সাধারণতই দক্ষীণ এশিয়ার দেশ ও বিশ্বের সপ্তম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন সবার কাছেই চাষযোগ্য উর্বর ভূমির ন্যায়। তাই বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে সর্বাধিক তাড়া এখন চীন এবং ভারতের। রীতিমত প্রতিযোগীতায় থাকা দুই দেশকেই এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারসাম্য অবস্থায় রেখে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই ভরসাম্য কতদিন থাকবে? ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি কী?
পদ্মাসেতু, সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর, টেকনাফে অত্যাধুনিক সাবমেরিন টার্মিনালের পর সর্বশেষ তিস্তা অর্থনৈতিক মেগাপ্রকল্পের কাজ চীনের দিকে যাওয়ার পর অনেকটাই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। প্রথমে বিভিন্নভাবে মিডিয়ায় কটুক্তি এবং ব্যাঙ্গাত্মক খবর ছাপানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিল ভারত। খবরগুলো ভারতীয় মিডিয়া ছাপলেও তাদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের টুঁ শব্দটি দেখা যায়নি, যা সরকারী সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বৈকি। এরপর চীন-ভারত উত্তেজনাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সীমান্তে একের পর এক বিএসেফের পাখির মতো বাংলাদেশী হত্যা, করোনাকালীন সময়ে একতরফাভাবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করে দেয়া সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য নির্ভরযোগ্য কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি।
এছাড়াও চীন-ভারত উত্তেজনা পূর্ববর্তী সময়ে এনারসির মাধ্যমে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় বিশ লক্ষ ভারতীয়কে বাংলাদেশী পরিচয় দেয়া, উক্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎ বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে নিরব ছিল। এরপর হঠাৎ শুরু হয় বিএসেএফ কর্তৃক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাগল পুশ করা। ব্যাপারটি সর্বপ্রথম গ্রামবাসী কর্তৃক ফেইসবুকে আসার পর টিভি মিডিয়া এবং প্রেস মিডিয়া তদন্ত করে এটির সত্যতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে, পরবর্তীতে বিজিবি বিসেএফের সাথে এ নিয়ে পতাকা বৈঠক করে।
তাছাড়া চীন-ভারত পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পর এনারসি এবং সিএএ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে, শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো দক্ষীণ এশীয় অঞ্চলে যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি গবেষকগণ যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত ছিলো।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বরাজনীতির অনেকটাই পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো সর্বদা সচেষ্ট ছিল এবং থাকবে। তবে দিন দিন আমরা দেখতে পাচ্ছি এখানকার স্থানীয় দেশগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠায় পশ্চিমা পরোক্ষ কর্তৃত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর শক্তিশালী হওয়ার দৌড়ে যে কয়েকটি দেশ আছে তন্মধ্যে ইরান এবং তুরষ্ক প্রধান।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

সুতরাং প্রশ্ন এসেই যায়, ভবিষ্যৎ নেতা কে হবে? কারণ কথায় আছে, "এক বনে দুই রাজা থাকতে পারে না"। তাই আসুন দেখে নিই কার সম্ভাবনা কতটুকু••• ইরান এমন একটি দেশ, যার অতীতে রয়েছে মাটি কামড়ে বারংবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরমাণু শক্তি অর্জনে কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস। আমরা সম্প্রতি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বে তোলপাড় দেখলেও এই কর্মসূচি ইরান শুরু করেছে ১৯৮৭ সাল থেকে!

ইরানের স্বল্প পাল্লার পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই এখন একমত। যেমন গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি এক সমরবিদ বলেছিলেন, "ইরানের পরমাণু কার্যক্রম এখন আর ধরে রাখার মতো নেই, বরং ইসরায়েলকে প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।" এছাড়াও ইরান গত মাসে মাটির নিচের অস্ত্রের শহর থেকে ভূমধ্যসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, তা তাদের অনেক কিছুই প্রকাশ করে।