-->

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আসছে তুরষ্ক | দ্বিতীয় সিরিয়ায় পরিণত হতে যাচ্ছে লিবিয়া

ইরান রাশিয়ার সাথে টেক্কা দিয়ে নতুন সম্রাজ্যবাদী শক্তি তুরষ্ক দ্বিতীয় সিরিয়ায় পরিণত করতে যাচ্ছে লিবিয়াকে।

ইরান রাশিয়ার সাথে টেক্কা দিয়ে নতুন সম্রাজ্যবাদী শক্তি তুরষ্ক দ্বিতীয় সিরিয়ায় পরিণত করতে যাচ্ছে লিবিয়াকে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আসছে তুরষ্ক


সিরিয়ার সাথে তিন দিনের ছোট যুদ্ধে নিজেদের ড্রোন প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য এবং বিশ্ব অস্ত্র বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়ার পর তুরষ্ক মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আসার যে নতুন স্বপ্ন দেখছে তা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে এরদোগান।

প্রথমেই বলে রাখি যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পরাজিত শক্তি এবং লোকসানে আছে যুক্তরাষ্ট্র আর বিপরীতে সুদূরপ্রসারী অবস্থান নিশ্চিত করেছে ইরান এবং রাশিয়া। কাশেম সোলাইমানি মৃত্যুর পর "মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে দেয়া হবে (বিশেষ করে ইরাক থেকে)" বলে ইরান যে হুমকি দিয়েছিল এবং কয়েকদিন আগেও দিয়েছে,তাই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থানের ধারণা দেয়। এটা শুধু হুমকি নয়,তারা প্রভাব খাটিয়ে ইরাকের পার্লামেন্টে মার্কিন সেনা বের করে দেয়ার আইন পাশ করায়,কিছুদিন পরপর দফায় দফায় সর্বাধিক সিকিউরড মার্কিন দূতাবাসে অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিনিদের অতিষ্ট করে তুলেছে,এছাড়াও আরো অনেক ঘটনা আছে।সর্বশেষ তথ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,যা ইরানের হুমকির বাস্তবায়ন বলা যায়।

এতে ইরাকে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ঘটবে,সিরিয়ায়ও এখনো তারা বিজয়ী শক্তি,এছাড়া ইয়েমেন,লেবাননেও আছে অগণিত ইরানি শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনী।আর উল্লিখিত দেশগুলোর অনেকগুলোর সফলতায় ইরানের অংশীদার রাশিয়া,সুতরাং এই পরিস্থিতিতে তুরষ্ক নেতৃত্বে আসতে চাইলে রাশিয়া ইরানের সাথে বিরোধ হবেই,যত ভাল সম্পর্কই থাকুক না কেন।


সিরিয়ায় বিশাল এলাকায় দখল স্থাপনের পর এবার তুরষ্কের মনোযোগ নতুন উদীয়মান সুযোগ লিবিয়ায়।লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে জেনারেল হাফতার বাহিনীর যুদ্ধে এতদিন যথেষ্ট সফলতা এসেছিল রাশিয়া এবং আরব আমিরাতের সহায়তায়,তবে কিছুদিন আগে থেকে হঠাৎ সরকার পক্ষের হয়ে তুরষ্কের আবির্ভাবে খেলা নতুন দিকে মোড় নেয় আকস্মাৎ!


মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আসছে তুরষ্ক
মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আসছে তুরষ্ক

তুরষ্কের অত্যাধুনিক ড্রোন এবং বিমান সহায়তায় নতুন মাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে সরকারী বাহিনী,একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদ্রোহীদের থেকে ছিনিয়ে আনে তারা,এতে নিজের পাতানো খেলায় বিপর্যয় দেখে রাশিয়া এবং আরব লীগ বিচলিত হয়ে উঠে।

এছাড়াও ইরাকেও গত কয়েকদিন আগে কুর্দিস্থানে হামলার অজুহাতে হঠাৎ তুরষ্কের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো একসাথে আশিটির বেশি স্থানে হামলা চালায়।একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে হঠাৎ অবৈধভাবে এত বড় অভিযান পরিচালনা প্রচ্ছন্ন হুমকিরই নামান্তর।ভবিষ্যতে ইরাকেও তুরষ্কের দাদাগিরি দেখানোর ইঙ্গিত বলে মনে করা যায় এটি।

রাশিয়া সরাসরি তুরষ্ককে কিছু বলতে পারছে না ভাল সম্পর্ক থাকার কারণে,তাছাড়া তুরষ্ক রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এস-400 এর ক্রেতা দেশ।তবে সিরিয়ার পর লিবিয়াতেও তুরষ্ক কর্তৃক বাঁধা সহ্য করে রাশিয়া কতদিন নিরবে এই ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে দেখা যাক•••

ইতোমধ্যেই মিসর হুংকার ছেড়েছে তারা লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করবে সরাসরি যদি তুরষ্ক কার্যক্রম বন্ধ না করে।আরব লীগের এক জন মুখপাত্রও বলেছেন, তুরষ্ক বর্তমানে আরব লীগের সবচেয়ে বড় শত্রু,পাল্টা হুংকার দিতে দেরি করেনি লিবিয়া সরকার এবং তুরষ্ক।ইয়েমেনেও মিসর সেনা মোতায়েন করেছিল,কিন্তু তাদের সবকিছু বৃথা হয় এবং পুনরায় নিজ দেশে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হয়,লিবিয়াতেও সেই অভিজ্ঞতা তাদের পুনরায় দেবে বলেছে লিবিয়ার সরকারী বাহিনী।

তবে এই হুমকি ধমকি যদি বাস্তবে গড়ায় তাহলে লিবিয়া আরো কয়েক দশকের জন্যে নরকে পরিণত হবে।এমনিতেই গাদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকে শান্তি চলে গেছে লিবিয়ার জনগণের,আর সেই শান্তি আরো স্থায়ী হবে যদি তুরষ্ক এবং রাশিয়া আরব লীগের পরোক্ষ যুদ্ধ শুরু হয়।তবে এক্ষেত্রে ইরান থাকবে না হয়তো,আর এখানে ইরান নেই বলেই তুরষ্ক দেশটিকে বেছে নিয়েছে।

এক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হলো লিবিয়ার জনগণের সক্রিয় ভূমিকা।তারা যদি বাজয়ী শক্তিকে সাপোর্ট দেয়,তবে দেশে তুলনামূলক দ্রুত শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে এবং আরেকটি দীর্ঘ স্থায়ী যুদ্ধ থেকে বাঁচতে পারবে; একই সমাধান সিরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।কিছুদিন ধরে বিজয়ী শক্তি সিরিয়া সরকারের ভিতরে আবার নানা অসন্তুষ দেখা দিচ্ছে,এটাকে দ্রুত দমন করতে না পারলে মার্কিনিরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে মরণ কামড় বসাতে পারে শেষবারের মতো•••

সর্বেশেষে বলে রাখি যে, মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী তুরষ্কের প্রভাব বিস্তার সেই ঐত্যবাহী বিশাল তুর্কি সম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন বাস্তবায়নেরই অংশস্বরূপ,যা সফল করতে সব ধরনের ছল-চাতুরীই করছে তারা।একদিকে বলছে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা,অপরদিকে ইসরায়েলের সাথে বন্ধুত্ব।আমেরিকার নতুন করে প্রভাব বিস্তারের স্বপ্নের ঠিকাদার সেজে তাদের থেকেও নিচ্ছে সুবিধা,আবার রাশিয়ার সাথেও বন্ধুত্ব,তবে নিজ স্বার্থের প্রশ্নে এখনো কোথাও কাউকে ছাড় দিতে দেখা যায়নি তাদের।

আপনি খেয়াল করবেন এরদোগান কথা বলার সময় ইসলামি বিশ্ব নিয়ে কথা বলে,কিছুদিন আগেই এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, "বর্তমান সংকটময় বিশ্বের এই অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করতে পারে এক মাত্র ইসলামিক অর্থনীতি, আর মুসলিম বিশ্বে ইসলামিক অর্থনীতি বাস্তবায়ন এবং এর প্রাণকেন্দ্র হবে ইস্তাম্বুল!"
কথাটা সাধারণ মনে হলেও এটি সুদূরপ্রসারী পরিল্পনারই ইঙ্গিত বহন করে•••

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.