-->

দ্রুত পরিবর্তন আসছে বিশ্ব রাজনীতিতে

শীঘ্রই চীন-ভারত উত্তেজনার সমীকরণ পাল্টানোর সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে পুরো বিশ্বের পররাষ্ট্রনীতি।সবাই মনে করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে থাকবে যুদ্ধে,কিন্তু এখন ধীরে ধীরে গুহার সাপ বেরিয়ে আসছে যেন।

শীঘ্রই চীন-ভারত উত্তেজনার সমীকরণ পাল্টানোর সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে পুরো বিশ্বের পররাষ্ট্রনীতি।সবাই মনে করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে থাকবে যুদ্ধে,কিন্তু এখন ধীরে ধীরে গুহার সাপ বেরিয়ে আসছে যেন

দ্রুত পরিবর্তন আসছে বিশ্ব রাজনীতিতে


প্রথমত বর্তমান বিশ্ব-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিরিখ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বকে সামনে রেখেই অগ্রসর হতে হবে।এক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে ট্রাম্প চীনের উপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে যা দরকার সবই করছে ঠিক ইরানের মতোই।চীনের বিরুদ্ধে ডলার সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অর্থনীতিকে অচল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।এই ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার হওয়া অনেক রাষ্ট্রের নামই আমরা জানি,যার মধ্যে ইরান,উত্তর কোরিয়া,ভেনিজুয়েলা অন্যতম।এছাড়াও চীনের দূরদর্শীতাপূর্ণ আঞ্চলিক আধিপত্যের স্বপ্নকে বাঁধাগ্রস্ত করতে প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোকেও যথাযথভাবে উস্কে দিতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।


চীন-ভারত উত্তেজনার শেষ পরিস্থিতি যতটুকু জানি,সর্বশেষ উভয় পক্ষের সেনারা দুই কিলোমিটার করে পিছু হঠেছে,তবে কিছু চীনা ছাউনি এখনো স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে।চীন দুই দফায় ভুখন্ড দখল করেছিল বলে জানি আমরা,প্রথমে একবার, এরপর সীমান্তে সংঘর্ষে বিশ জন হত্যার কয়েক দিন পরেই আরেক ধাপে নতুন ভুখন্ড দখল করেছে বলে ভারতীয় মিডিয়াগুলোই জানিয়েছিল।তাহলে আমার প্রশ্ন,চীন ভারতের ভুখন্ড দখল করেছে,এখন পিছু হঠলে দুই দলই কেন পিছু হঠছে?ভারত কেন নিজ ভুখন্ডে পিছু হঠছে?এটাকে আবার অনেক ভারতীয় বিজয় বলে আখ্যা দিতে শুনছি।


সে যাইহোক,এই উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে চীনের মুনাফার অঙ্কটা অনেক কমে গেছে,যদিও বিশেষজ্ঞরা ভারত নিজ অর্থনীতির স্বার্থেই বেশিদিন এসব নিষেধাজ্ঞা রাখবে না বলে ধারণা করছেন।কারণ ভারতের অর্থনীতিতে নামে বেনামে চীনের যে পরিমাণ টাকা ঢুকেছে,তা ভারত চাইলে পাঁচ/ছয় বছরেও বাদ দিতে পারবে না।


এদিকে জাপানও চীন থেকে ব্যাপক হারে শিল্প প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিচ্ছে যার কিছু বাংলাদেশেও আসছে,এছাড়া হংকং নিয়ে ইউরোপের সাথে শুরু হয়েছে চীনের নতুন টানাপোড়েন,মোটকথা চীন মোটামোটি বেকায়দায়- পড়েছে।এই বেসামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে অপশন হিসেবে দেখছে চীন,কিন্তু তারপরেও পুরো বিশ্বের লসের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং ভবাষ্যতের পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন নতুন চাল দিয়েছে দাবার বোর্ডে।


বিশ্বে মার্কিন সন্ত্রাসের স্বীকার এবং প্রযুক্তিতে অগ্রগামী উদিয়মান শক্তি ইরানের সাথে চীন 25 বছরের এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সম্প্রতি।এটাকে বিশ্বে চুক্তি বলা হলেও ইরান বলছে এটি চুক্তির চেয়েও বড়,এটি একটি রোডম্যাপ, যার প্রশস্ততা ব্যাপক; চুক্তির মতো সীমাবদ্ধ বা নির্ধারিত নয়।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এই চুক্তির ভিতরে আছে ইরান-চীনের সামরিক,অর্থনৈতিক,প্রযুক্তিগত সহায়তা,গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং একসাথে আঞ্চলিক সামরিক মহড়া প্রদানের মতো ব্যাপক সহযোগিতা।

বিশ্ব রাজনীতি
বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এই চুক্তি দুই দেশের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার উপর চপেটাঘাত স্বরূপ! তাছাড়া বিশ্বে মার্কিনিদের পরিচালিত ডলার সন্ত্রাসের লাগাম টানতে অনেক দিন ধরে প্রতিবাদরত ইরানের স্বপ্নটিও কিছুটা পূরণ হতে যাচ্ছে এর মাধ্যমে।দুই দেশ যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের আর্থিক লেনদেনের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে নিজস্ব মুদ্রা।যার ফলে ডলার নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই চুক্তিতে কোন প্রভাব ফেলতে পার্বেনা মার্কিনিরা।এছাড়া বিশ্বব্যাপী ডলারের মাধ্যমে বাণিজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়াসহ অনেক দেশই কাজ করছে,এমতাবস্থায় এই চুক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।তাছাড়া ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারও বাড়ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে,এসব কিছুই যেন মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের পতনের অশনি সংকেত।


এদিকে মার্কিন সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন বলেছেন, চীন-ভারত যুদ্ধে সত্যিকার অর্থে যুক্তরাষ্ট্র কোন পক্ষ নেবে তা নিশ্চিত নয়।কারণ আগামী নির্বাচনই ট্রাম্পের রেড লাইন,আর এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে এই সময়ে মোক্ষম চাল দিতে ব্যাকুল ট্রাম্প।মার্কিন অর্থনীতিকে গতিশীল রেখে কিভাবে চীন-ইরানের উপর লাগাম লাগানো যায় সেটাই ভাবছেন তিনি।মুখে চীন বিরোধীতা করলেও ট্রাম্প চীনের সাথে চুক্তির উপায় খুঁজছে গোপনে।এছাড়া এমতাবস্থায় ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সাথেও বৈঠকে বসতে মরিয়া এখন ট্রাম্প।এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ নিয়ে মার্কিনিরা সম্মুখ যুদ্ধে কখনো নামবে না বলেই ধারণা•••


অপরদিকে ভারতও ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা জারিকৃত দেশ ভেনিজুয়েলা থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল আনার ঘোষণা দিয়েছে সম্প্রতি,যা ট্রাম্পের প্রতি ভাল বার্তা নয়।কারণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা ব্যবসা করবে,তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ছিন্ন করবে বলেছে।


ভারতও হয়ত বুঝেছে মার্কিন সাপোর্টে নির্ভর করাটা কত নির্বুদ্ধিতা হবে,তাই চীনের 97 টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের পর প্রতিবেশি বাংলাদেশকে কাছে টানতে ভারতও নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি।এবার তারাও বাংলাদেশের পণ্য সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অবাধে বিক্রির একটি ঘোষণা দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে,এছাড়াও সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের বেসামাল অবস্থার নিরব দর্শক ভারত এবার বাংলাদেশের পক্ষে আছে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পর্যাপ্ত সহায়তা দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।


তবে এই অবস্থান কি শুধু বাংলাদেশের প্রতি সম্পৃতি, নাকি আরাকান রাজ্য নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কোন চাল তা নিয়ে বেঁচে থাকলে পরে এক দিন আলোচনা করব।শুধু জেনে রাখুন কাশ্মীরের মত আরাকান নিয়েও নতুন খেলা শুরু হতে যাচ্ছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটাকে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা হিসেবেই ধরে নেই আমরা•••


বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে আপনি চাইলে তুরুপের তাস মনে করতে পারেন,যদি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।ইতোমধ্যেই বিশ্ব ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের অনেক উপরে রয়েছে।


তবে সব পক্ষের সাথে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুক্ষ্মভাবে যদি উপমহাদেশীয় অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে চায়, তাহলে প্রথমত দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে সব দল-মতকে এক থাকতে হবে।আর এই দায়িত্ব আমাদের(জনগণের) উপরই বর্তায়,জানিনা পালন করতে পারব কিনা•••
দেখা যাক করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা কয়টা সুযোগ কাজে লাগাতে পারি••

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.