-->

ভারতকে উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশ! | ভারত-চীন যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান

বিশ্বের সপ্তম দ্রুত উন্নয়নশীল দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে চীন-ভারতের তীক্ষ্ম নজর।দুই দেশই করোনা পরবর্তী অর্থনৈক ধাক্কা মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে বাংলাদেশকে কাছে টানতে সদা নিয়োজিত।তবে তাদের কাছে টানার ধরনটা ভিন্ন।

বিশ্বের সপ্তম দ্রুত উন্নয়নশীল দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে চীন-ভারতের তীক্ষ্ম নজর।দুই দেশই করোনা পরবর্তী অর্থনৈক ধাক্কা মোকাবেলা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে বাংলাদেশকে কাছে টানতে সদা নিয়োজিত।তবে তাদের কাছে টানার ধরনটা ভিন্ন।


ভারতকে উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশ!

চীন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে আকৃষ্ট করছে,অপরদিকে ভারত পরোক্ষ হুমকি ঠাট্টার মাধ্যণেই যেন কাছে টানতে আগ্রহী।প্রথমে চীনের সুবিধাকে বাংলাদেশের প্রতি খয়রাত আখ্যা দেয়ার পর যখন বাংলাদেশি এবং কতিপয় ভারতীয় অর্থনীতিবিদ আঙুল দিয়ে খয়রাত কাকে বলে এবং ভারতের অর্থনীতির কত অংশ এই খয়রাতের মাধ্যমে স্থিতিশীল তা দেখিয়ে দিলেন, তখন ক্ষমা চেয়ে পরবর্তীতে মৃদু স্বরে হুমকিই দিলো ভারত। তারা নিউজ ছাপালো বাংলাদেশ ভারতকে উস্কানি দিয়ে এখন চীন থেকে অস্ত্র কিনছে।


ভারতীয় মিডিয়া এশিয়ান নিউজ হাবের খবরে বলা হয়েছে, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তাদের সেনাবাহিনীকে মডার্ন গিয়ার যেমন; নাইট ভিশন গগলস, ব্যালেস্টিক হেলমেট, আই প্রটেক্টেড গিয়ার, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, ব্যক্তি যোগাযোগের ব্যবস্থা, পাল্মটপ, জিপিএস ডিভাইস, বিডি-০৮ এসল্ট রাইফেল সাথে কলিমেটর সাইট ইত্যাদি দিয়ে সজ্জিত করছে। ২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ৬৫০ টি বিটিআর-৮০ আর্মড পারসনেল ক্যারিয়ার, ৫০ টি অটোকার কোবরা এবং ৫০ টি অটোকার কোবরা এবং BOV M11 আর্মড রিকনিসেন্স ভেহিকেল সংগ্রহ করেছে।

ভারত-চীন
ভারত-চীন

চীন থেকে বাংলাদেশের সামরিক অস্ত্র কেনাকে ভারতকে উস্কানি দেয়া হিসেবে দেখছে তারা।ভারত যে বিষয়টাকে এভাবেই দেখে তা অনেক আগে থেকেই আমাদের জানা।বাংলাদেশ যখন সাবমেরিনের যুগে প্রবেশ করলো,যুদ্ধ জাহাজ কিনলো,ভরত মাথা খারাপ করে বিভিন্ন টকশো তে যা বলেছে এবং প্রতিটা পদক্ষেপের পরেই মায়ানমারকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়ার ঘোষণার মাধ্যমেই বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সমর উন্নতি তারা চায়না।


খবরটিতে বলা হয়েছেবাংলাদেশ ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে চীন থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এখানে বলে রাখি যে, ফোর্সেস গোল ২০৩০ হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহীনিকে সর্বাধিক উচ্চ পর্যায়ের ট্রেনিং এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যম যেকোন হুমকি মোকাবেলায় শক্তিশালীরূপে গড়ে তোলা।বলাবাহুল্য যে এর আন্ডারে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান,ফাইটার জেট,সাবমেরিন,ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা,যার অনেকটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্রয় করেছে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত।


চীন থেকে অস্ত্র ক্রয়ের অভিযোগের এমন পরোক্ষ হুমকির জবাবটা বাংলাদেশও দিল যথাযথভাবে এবং পরোক্ষভাবেই।বাংলাদেশ ঘোষণা দিল শীঘ্রই তুরষ্ক থেকে মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আসছে বাংলাদেশে!
তুরষ্কের রকেটসানের  T-300 নামের এই মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমটি স্টেন্ডার্ড ফরমেশন অনুসারে ছয়টি ন্যাটো ফরমেশন বা নয়টি তুর্কি লঞ্চার নিয়ে একটি ব্যাটারি আকারে সাজানো হয়ে থাকে।এবং প্রতিটি ব্যাটারি একসাথে 48 টি ক্ষেপণাস্ত্র বহন ফায়ারিঙে সক্ষম।এই ধরনের মোট ১৯ টি সিস্টেম বাংলাদেশে আসতে যাচ্ছে।


ইতোমধ্যেই এই হেভিওয়েট গাইডেড আর্টিলারি পরিচালনা রপ্ত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল তুরষ্কে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং এর একটি স্যাম্পল বাংলাদেশে টেস্টিং এর জন্যে পাঠানো হয়েছে।

উপর্যুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি এটাও জানান দিলো যে প্রয়োজন অনুসারে বাংলাদেশ যে কারো থেকেই অস্ত্র কিনতে পারে।এখন আসি হঠাৎ বাংলাদেশ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম কিনছে কেন?এছাড়াও আপনারা অনেকেই খেয়াল করেছেন এখন আকাশে মাঝে মাঝে,বিশেষ করে চট্টগ্রামের পোর্ট সাইটে যুদ্ধ বিমান উড়ছে যা কখনো আগে দেখা যায়নি তেমন।দিনে না হয় প্রশিক্ষণের জন্য উড়ছে(যদিও এটা ট্রেনিং রেঞ্জে পড়ে না),রাতে বা সন্ধায়ও কেন উড়ছে?আর্মি হেলিকপ্টারও আজকাল দিনে কয়েকবার দেখছি•••


আপনারা জানেন যে,চীন-ভারত উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তান হঠাৎ কাশ্মীর উত্তপ্ত করছে এবং বর্ডারে বিপুল সংখ্যাক সেনা নিয়ে এসেছে।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ভারত আর্মিও অধিকৃত কাশ্মীরের ১৬ টি স্কুল খালি করে আর্মি ক্যাম্প স্থাপন করছে এবং সেখানকার নাগরিকদের দুই মাসের জন্য গ্যাস মজুদ করতে আদেশ জারি করেছে।বলা যায় পুরোপুরি যুদ্ধ প্রস্তুতি•••


১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতি চীনের অনুরোধ ছিল এই সুযোগে যাতে তারা কাশ্মীর দখল করে নেয়।তখন কাশ্মীর দখল না করে পাকিস্তান এখন যে পর্যন্ত অনুশোচনায় ভুগছে,তা তাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।এবার হয়তো সেই ভুল শোধরাতে প্রস্তুত তারা।তা আরো স্পষ্ট হয়ে যায়,যখন দেখি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চীন স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থায়ী ঘাটি গেঁড়ে চল্লিশটিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করে ভারতকে দুই দিক থেকে একত্রে আক্রমণের পরিকল্পনা করে।


আমরা যতই মজা নিইনা কেন ভারত-চীন যুদ্ধ নিয়ে,তা কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সুখকর হবে না।প্রতিবেশি বড় দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হলে তার ছিটে ফোটা ছোট এই দেশটাতেও আসবে।বাংলাদেশ এই যুদ্ধে কারো পক্ষ না নিলেও যুদ্ধের সুযোগে বাংলাদেশ যাতে বাজার ধরতে না পারে,বাংলাদেশকেও অস্থিতিশীল করতে ভারত মিয়ানমারকে লেলিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশের পেছনে।যার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী নেয়া শুরু করেছে।কিছু ফাইটার জেট কক্সবাজার ঘাঁটিতে নতুন করে স্থানান্তর করা হয়েছে,মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজে লেগেছে আর্মি।


সুতরাং ভারত-চীন যুদ্ধ সৃষ্টি করতে পারে দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত বৃদ্ধি বা ভুখন্ড দখলের এক নয়া খেলা!
নেপাল দখল করে নেবে তাদের নতুন ঘোষিত তিনটা এলাকা বাদে বিহারের আরো নতুন এলাকা,পাকিস্তান দখলে নেবে কাশ্মীর যাতে সর্বোচ্চ সহায়তা থাকবে কাশ্মীরি জনগণের।তবে মিয়ানমার বাংলাদেশে আগাতে চাইলেই বাংলাদেশ মিয়ানমারে ঢুকে তাদের অঞ্চল দখল করে নেয়ার মত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেই তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশের মিসাইল সিস্টেম ইম্পোর্ট•••


ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.