-->

তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি

সার্বিক সহায়তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করে তরুণদের প্রযুক্তিগত এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা ও নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।

সার্বিক সহায়তা সুযোগ বৃদ্ধি করে তরুণদের প্রযুক্তিগত এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।


তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি


আগামী দশ-বিশ বছর পর জনসাধারণের জীবন যতটা ডিজিটিলাইজড হতো,করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী কয়েক বছরেই আমাদের জীবনযাত্রা ততটা ডিজিটালাইজড হয়ে যাবে।পরিস্থিতি নিরাপত্তার কারণে মানুষ নিজের জীবনে প্রযুক্তিকরণ ঘটাতে বাধ্য হবে।বিশ্বব্যাপী অবশ্যম্ভাবী এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের উন্নতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তরুণ সমাজকে মানব সম্পদরূপে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।


ইতিহাস বলে,যে দেশের তরুণ সমাজ যত দক্ষ কর্মঠ ছিল,সে দেশ ততো উন্নত ছিল।তরুণ সমাজ দেশ জাতির প্রতিনিধি স্বরূপ কাজ করে সর্বদা।তাই তরুণদের থেকে হতাশা অসন্তুষ দূর করতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।


তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি দক্ষতা বৃদ্ধি কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়া উচিত প্রথমে তা আমাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে।আমরা সবাই দেখছি যে,করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে যথা সম্ভব ঘরে থাকাকেই সর্বোত্তম প্রতিষেধকরূপে তুলে ধরছেন বিশষজ্ঞরা।ফলে মানুষ ঘরে থেকে কিভাবে সর্বাধিক কাজ করা যায় সেই চেষ্টাই করছেন।আর যেহেতু ভাইরাসটি শীঘ্রই যাচ্ছেনা,সেহেতু মানুষ সার্বিক কাজ স্থায়ীভাবে ঘরে থেকে সম্পাদনের জন্য প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার শুরু করেছে ইতোমধ্যেই।


সুতরাং বিশ্বের অধিকাংশ কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হওয়ার ফলে আমাদেরকেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা যায় সেই চিন্তা করতে হবে।পৃথিবীর নিয়মই এমন যে,পরিস্থিতির সাথে যে যত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে,সে তত এগিয়ে থাকে।


 তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি

তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি


করোনার অনেক আগেই বিল গেটস বলেছিলেন,"আপনার ব্যবসা যদি ইন্টারনেটে না থাকে,তবে আপনার ব্যবসা ব্যবসায়ের বাইরে চলে যাবে"
তখন এই উক্তিটি নিয়ে অনেকে হাসাহাসি করলেও আজ বাস্তবতা আমাদের সামনে এর সত্যতা তুলে ধরেছে।


আমরা ইতোমধ্যেই দেখছি যে,ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা অনলাইনে নিয়ে আসছেন যতটা সম্ভব।কাস্টমার ডিলিং,প্রোডাক্ট প্রেজৈন্টেশন থেকে শুরু করে লেনদেনসহ সবকিছুই অনলাইনে করার ব্যবস্থা করছেন সবাই।কারণ ক্রেতা এবং বিক্রেতা কেউই জীবনের ঝুঁকি নিতে রাজি না হওয়ায় অনলাইনে চাহিদা পূরণের প্রতি ঝুঁকছে সবাই।আর ব্যবসায়ের এই ডিজিটালাইজেশন মাঠ পর্যায়ের লক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা শুন্যের কোঠায় পৌঁছাবে,এর বিপরীতে যারা অনলাইনে কাজ করে,কম্পিউটার অপারেটিঙে দক্ষতা আছে,তাদের জন্যে নতুন করে এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলছে এই করোনা সংকট।


উদাহরণস্বরূপ একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা অনলাইনে নিয়ে আসতে চাইলে প্রথমে তার প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ওয়েবসাইট খুলবে,যা একজন ওয়েব ডেভেলপারের কাজ।এরপর তার প্রোডাক্ট কাস্টমারের নিকট প্রদর্শনীর জন্যে লাগবে একজন ভালো প্রেজেন্টর,উক্ত প্রেজেন্টরের ধারণকৃত ভিডিও ক্রেতার নিকট সার্বিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলার কাজ একজন ভিডিও এডিটরের।যদি ব্যবসায়ী ছবির মাধ্যমে প্রোডাক্ট প্রদর্শন করতে চান,তবে লাগবে একজন ফটোগ্রাফার,একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার।সর্বশেষ তার ব্যবসায়িক ওয়েব সাইট সার্বক্ষণিক তদারকির জন্যে লাগবে একজন অপারেটর


আর ব্যবসা অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেলে অনেকসময় ব্যবসায়ী দোকান/অফিস ছেড়ে দেবেন,উক্ত দোকানের ভাড়া দিয়ে তিনি নতুন কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে পারবেন স্বাচ্ছন্দে।সার্বিকভাবে দেখতে গেলে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং ক্রেতাবান্ধব।


উপর্যুক্ত উদাহরণ থেকে আশা করি আমরা বুঝতে পারছি অনলাইনে কী পরিমাণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে।ইতোমধ্যেই বিশ্বের সব বড় বড় ফ্রিল্যান্স মার্কেটগুলো জানিয়েছে যে,করোনা শুরুর মাত্র এক মাসের মাথায় পূর্বের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ কর্মীর চাহিদা এবং চাকরী সৃষ্টি হয়েছে।আপনি দেখবেন বাংলাদেশেও এই সংকটকালীন সময়ে সম্প্রতি যা চাকরীর বিজ্ঞাপন সৃষ্টি হচ্ছে,তার আশি শতাংশই প্রযুক্তি কেন্দ্রিক।যার মধ্যে অন্যতম হলো ভিডিও এডিটর(সবচেয়ে বেশি), কন্টেন্ট রাইটার,গ্রাফিক্স ডিজাইনার,কম্পিউটার অপারেটর


সরকার ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা জনসংখ্যার তুলনায় খুবই সীমিত হওয়ায় যথাযথ সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারছে না তরুণ সমাজে।তবে এই সীমিত উদ্যোগেও ব্যাপক ফল মিলছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্ববানরা।প্রতি বছর বিভিন্ন বৃত্তির মাধ্যমে সরকার যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ দেয়,এর মাধ্যমে অনেক বেকার যুবকই স্বাবলম্বী হয়েছে,নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করেছে।ফলে বলা যায় এটি একটি পরীক্ষিত উদ্যোগ যার মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে কম সময়ের মধ্যে বিশ্ব মানের ক্রমবর্ধমান চাকরি বাজারে প্রতিযোগেতার জন্যে তৈরি করা যায়।


সুতরাং এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই আমাদের তরুণ সমাজকে বিশ্বপ্রতিযোগিতায় যুক্ত করতে হবে।আর যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই কম,তাদেরকে বৈদেশিক চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের পর বিদেশে পাঠিয়ে আমাদের নিম্নমুখী রেমিটেন্স পুনরোদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে।


প্রযুক্তিগত দক্ষতার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো,এসব কাজের চাকরির ক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী এবং ঘরে বসেই তা করা যায় নিজের সময় অনুযায়ী;এটি আত্মকর্মসংস্থান হিসেবেও আখ্যায়িত।এছাড়াও ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকটে তরুণসমাজ নিজেদের আয় ধরে রাখতে পারবেন এর মাধ্যমে।তবে আনলাইন মার্কেটে আমাদের তরুণ সমাজ পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের অভাব এবং ডাটা খরচ নাগালের বাইরে হওয়া।প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াইফাই সংযোগ না গেলেও ডাটা কিনে যে অনলাইন মার্কেটে নিজ অবস্থান ধরে রাখবে,অত্যাধিক ডাটা খরচের কারণে আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়না।



তরুণ সমাজের চাকরি সমস্যা সমাধানে অনেক পন্থাই অবলম্বন করা যায়,তবে করোনা পরবর্তী দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের ভবিষ্যত সম্ভাবনা চিন্তা করে সুদূরপ্রসারী জুতসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হলে অলোচ্য সুপারিশগুলোই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে।


পরিশেষে বলা যায়, তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরিতে প্রযুক্তিগত কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতমুখী যুব সমাজ গড়ে তুলে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।এর জন্যে বিশেষত প্রয়োজন হবে নিরবচ্ছিন্ন সার্বজনীন ইন্টারনেট সংযোগ সৃষ্টি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের প্রযুক্তি বিমুখতা দূর করে এর প্রতি সবাইকে আগ্রহী করে তোলা।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.