-->

মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে!

দীর্ঘ দিন যবৎ বন্দি জীবনের ফলে অনেক কয়েদি যেমন জেলখানায় পাগল হয়ে যায়,তেমনি বর্তমানে অনেক দিন ঘরে থাকার ফলে মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে অনেকেই।

দীর্ঘ দিন যবৎ বন্দি জীবনের ফলে অনেক কয়েদি যেমন জেলখানায় পাগল হয়ে যায়,তেমনি বর্তমানে অনেক দিন ঘরে থাকার ফলে মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে অনেকেই।

মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে!

তবে কয়েদিদের খাবারের চিন্তা থাকে না,থাকে হতাশা;আর তার প্রতিবেশি রুপে সে পায় অপরাধীদেরই।এর ফলে অনেক কয়েদি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অন্য কয়েদিদের উপর অত্যাচার শুরু করে,কখনো খুনও করে বসে।


তুলনামূলকভাবে আমরা আছি নিজ ঘরে,তবে চিন্তা আছে খাদ্যের,পরিবারের এবং নিজের ভবিষ্যতের।আজে খেতে পারছি,কাল পারব তো?যা আছে,তাতে আর কয়দিন চলবে?বস তো ফোন ধরছে না,চাকরীটা থাকবে তো?নতুন চাকরী কখন খুঁজব?কোথায় খুঁজব?ততদিন পরিবার নিয়ে চলতে পারব তো?


বেকারদের চিন্তা: কথায় আছে 'বেকারের কাজ বেশি',তাই তার অস্ব্যস্থি আরো বেশি! কখন সবকিছু ঠিক হবে?বাইরে বের হবো? পকেটে টাকা তো ফুরিয়ে এসেছে, বাবা/ভাইয়া আর কয়দিন দিতে পারবে মোবাইল বিল?ঘর আর কয়দিন চলবে জমানো টাকায়?আবদ্ধ ঘরে আর ভাল লাগছে না•••


সব থেকে বড় সমস্যা:
ঘরে শুয়ে বসে কাটাতে কাটাতে প্রায় অধিকাংশ মানুষের মাথায় অপ্রয়োজনীয় চিন্তা আসে এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, যার ফলে ঘরে পারিবারিক সম্পর্কে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।যেমন এখন যারা চাকরীজীবি নয়,তাদের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের,বিশেষ করে ঘরের কর্তার সাথে মন-মালিন্য,বাক-বিতন্ডা হয়,আবার অকারণে বকা দেয় কখনো।


সবকিছুর মূল হলো ঘরে আবদ্ধ থাকার কারণে প্রত্যেকটা মানুষ নিজ নিজ ব্যাক্তিত্বে স্থির থাকতে পারে না,সবকিছুতে বিরক্তি চলে আসে,হতাশা আর একাকিত্ব মাথায় জেঁকে বসে,যার কারণে মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে যায়।আর এই অসুস্থ্যতা কাটাতে মানুষ মরিয়া  হয়ে উঠে,নীতি-নৈতিকতা ভুলে যায় কখনো।সাধারণ একটা ঘটনা বলছি•••
6,7 দিন আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্ণ সাইট পর্ণ-হাব তাদের একটি জরিপ প্রকাশ করেছে।তারা বলেছে,গত কিছুদিনের কোয়ারেন্টিনে তাদের সাইটের ভিউয়ার তথা পর্ণ ভিজিটর কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বে সর্বাধিক পর্ণ দেখছে বিশ্বের দ্বীতিয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতের জনগণ।

এর থেকে কী বুঝলেন? "অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা" কথাটির প্রমাণ?নাকি আরো কিছু কারণ আছে?


হ্যাঁ,সব থেকে বড় কারণ হলো হতাশা।শত শত জরিপ,গবেষণার মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীগণ কর্তৃক স্বীকৃত উক্তি হলো, নীল ছবি দেখার অন্যতম কারণ হাতাশা।হতাশাগ্রস্থ একজন মানুষকে দিয়ে খুন করানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।আপনি দেখবেন অধিকাংশ সন্ত্রাসী পাপের জগতে আসার পেছনে আছে হতাশা।তবে তারা প্রত্যেকেই হাত জোড় করে আকুতি করেন যেন কেউ সেই জগতে না যায়।



মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে!
মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে!

সুতরাং কোয়ারেন্টিনের নেতিবাচক এসব প্রভাব থেকে বাঁচতে নিজের প্রতি মনোযোগী হোন,নিজেকে নিয়ে ভাবুন,কখন আপনার কেমন লাগছে,কেন লাগছে,সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিন,নিজেকে নিয়ে যত্নবান হোন।মানসিকভাবে সতেজ এবং সুস্থ্য থাকার জন্যে কিছু সাজেশন আপনি অনুসরণ করতে পারেন•••


1- নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।তবে ব্যস্ত রাখার কারণটি যদি ইন্টারেস্টিং না হয় তবে শিঘ্রই আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।তাই 10/20/30 দিনের জন্য প্ল্যান সেট করুন,লক্ষ্য স্থির করুন,সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রতিজ্ঞা করুন।আর কাজটা যাতে হয় আপনার জন্য উপকারি,ফলপ্রসু;তাহলে আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন না।

2- নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিজেকে ফ্রি রাখবেন না।নির্ধারতি সময় পর্যন্তই রিলাক্স করুন,কিন্তু এর বাইরে নয়।

3- বন্ধু-বান্ধবের সাথে প্রতিদিন সময় করে এক অথবা দুই ঘন্টা কথা বলুন,এর বেশি নয়।কারণ অতিরিক্ত সবকিছুই ক্ষতিকারক এবং বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায় একসময়।


4- সব শেষে হতাশা থেকে বাঁচতে,আর্থিক সমস্যা নিয়ে চিন্তা বেশি না করে দ্রুত সমাধানে পৌঁছান।সমাধান খুঁজে না পেলে ভেবে ভেবে মাথা জ্যাম করবেন না,আপনার সেক্টরের সিনিয়রদের সাথে আলোচনা করুন,অভিজ্ঞদের থেকে পরামর্শ চান,নিজের সমস্যা খুলে জানান তাদের,দেখবেন অনেকের সামান্য কথাও কিভাবে আপনার মাঝে শান্তি এনে দেয়•••
সবসময় এই সিদ্ধান্তে থাকবেন যে,'কোন বিষয়ে বেশক্ষণ চিন্তা করা যাবে না কোনমতেই'।


উপর্যুক্ত উপায়গুলো অনুসরণ করলে আশা করি পারবিবারিক অশান্তি,হতাশা এবং অস্ব্যস্থিকর যেকোন অনুভূতি থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.