-->

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 2020 | ভারত পুলিশ উল্টো দাঙ্গায় অংশ নিল! | মুজিববর্ষে মোদিকে বাংলাদেশে আসতে বাঁধা

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ২০২০ নতুন করে শুরু হয়েছে।ভারতে রবিবার থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৪২ জন নিহত হয়েছে।

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ২০২০ নতুন করে শুরু হয়েছে।ভারতে রবিবার থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৪২ জন নিহত হয়েছে।

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 2020


ভারতে চলমান এনারসি নিয়ে যে বিক্ষোভ চলছে দুই মাসব্যাপী,তা দমনে মোদি প্রশাসন নিয়েছে নির্মম পদক্ষেপ।
পুলিশের দায়িত্ব যেখানে দাঙ্গা দমন করা,সাম্প্রদায়িক সংঘাত হ্রাস করা,সেখানে ভারত পুলিশ উল্টো দাঙ্গায় অংশ নিল! প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে #ওয়াশিংটন_পোস্ট জানায়,দিল্লি পুলিশ দাঙ্গা দমন না করে বরং দাঙ্গায় অংশ নেয় এবং #জয়_শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে তিনটি মসজিদে আগুন দেয়!


ভারতীয় ওয়েবসাইটের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক অবিচল দুবেই জানায়,মঙ্গলবার অশোক নগরে বিজেপি সমর্থক দুই'শ জনের একটি দল #জয়_শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছিল,পরবর্তীতে তারা দোকানপাট ভাংচুর করে এবং কিছু লোক পার্শবর্তী মসজিদের মিনার বেয়ে উঠে মাইক ভেঙ্গে ফেলে! তদস্থলে তারা গেরুয়া রঙের হনুমান পতাকা এবং ভারতের পতাকা লাগিয়ে দেয়!


একই এলাকার একটি ছোট মসজিদ ফারুকিয়া মসজিদের ইমাম জানান,বিকালের নামাজের পর একদল পুলিশ আসে এবং ইমাম ও তাকে দেশদ্রোহী বলে গালিগালাজ করতে করতে মারতে থাকে।ইমাম হাসপাতালে স্বাক্ষাৎকারে বলেন,তারা আমাকে অকারণে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে এবং আমার একটি হাত ভেঙ্গে দিয়েছে।

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 2020
ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 2020
এনারসি বিরোধী আন্দোলনে মোদির সন্ত্রাসীরূপ দ্বিতীয়বারের মত দেখছে ভারতবাসী।এক মাস আগেও পুলিশকে দেখা গেছে সন্ত্রাসী ও হামলাকারী দুর্বৃত্তদের সঙ্গ দিতে।এইবারও ওয়াশিংটন পোস্ট জানায় পুলিশের সহায়তায় তিনটি মসজিদে আগুন দেয়া হয়েছে এবং হত্যাযজ্ঞ চলছে।নিউজে 42 জন বলা হলেও প্রকৃত মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক বলে জানা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।এটাই পুলিশ?এই তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা?


2002 সালে মোদির রাজনৈতিক জীবনে প্রথম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়,যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী।এই দাঙ্গায় 1000 মানুষ মারা যায়,যার অধিকাংশ ছিল মুসলিম।পরবর্তীতে সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও আদালতের একটি প্যানেল কোন এক অজুহাতে তাকে রেহাই দেয়।আজ সেই মোদি বিশ্বে ভারতের মর্যাদা ও সুনাম ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে কায়েম করছে প্রতিহিংসার শাসন এবং শুরু করেছে হত্যাযজ্ঞ।


তারপরেও দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মনিরপেক্ষতার উপাধিধারী এই দেশের অনেকেই এই হিংসাত্বক আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছেন,এটাই ভারতের ঐতিহ্য ও গর্বের বিষয় যা অচীরেই অন্ধকার গহ্বরে ছুঁড়ে ফেলা হবে হয়ত।


বাংলাদেশের অনেকেই এখনো জানেনা এনারসি কি?আমাদের উপর কী প্রভাব ফেলবে এটি,তাই আমরা এখনো ঘুমিয়ে আছি।দুই কথায় বলতে গেলে এটি হলো রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার বা গণহত্যার একটি প্রক্রিয়া।অথবা বাংলাদেশের মাথায় কাঁঠাল রেখে উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া।


আমার দুঃখের শেষ থাকেনা তখনই,যখন দেখি বঙ্গবন্ধুর মতো জনহিতৈষি সর্বজনবিদিত বিশ্বনন্দিত নেতার জন্মদিনে বাংলার মাটিতে কোন নরখাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়!
আমার দুঃখ লাগে তখন,যখন দেখি আমার নৌকা ডুবিয়ে দিতে যে পরিকল্পনা করছে তাকে ঘরে এনে আপ্যায়ন করি!


ওবায়দুল কাদের বলেছেন,আমরা মোদিকে দাওয়াত দেইনি,ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি।যে প্রধানমন্ত্রী আমার দেশ ডুবানোর চিন্তা করছে,জাতিগত নিধন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে,কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দু হিসেবে বিখ্যাত,সেই প্রধানমন্ত্রীকে এনে কেন জাতির পিতার মুখে চুনকালি দিতে হবে???কেন?

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.