-->

ভারত গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে

ভারতে সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ডা. গ্রেগরি স্টানটন

ভারতে সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ডা. গ্রেগরি স্টানটন।যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতের কাশ্মীর ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন শিরোনামে ব্রিফিংয়ে তিনি এমন দাবি করেছেন।

ভারত গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে


পার্শবর্তী দেশ হওয়ায় ভারতের রাজনীতি,অর্থনীতি;এমনকি সামাজিক অবস্থার প্রভাবও বাংলাদেশের ওপরে পড়ে।সম্প্রতি ভারত সরকার যেসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে,তা ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে।


ভারত কাশ্মীর নিয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার পর জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছে।এই আইনের বিপক্ষে দেশ বিক্ষোভে উত্তাল এবং আন্দোলনে অর্ধশতাধিক নিহত হলেও সরকার নিজ সিদ্ধান্তে অটল।বরঞ্চ আন্দোলন ঠেকাতে নিজস্ব সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক সরাসরি গোলাবর্ষণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতে বেধড়ক পিটিয়েছে।আরোপ করেছে সংবাদ মাধ্যম ও টিভিগুলোর উপরে কড়াকড়ি।কিন্তু ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ দেশ,তাই সেখানের জাতীয়তাবাদ ও নাগরিকত্বের সাথেও এই দুইটি বিষয় জড়িয়ে আছে,যার ফলস্বরূপ দখা যাচ্ছে মাসব্যাপী হামলা-মামলার পরেও বিভিন্ন প্রদেশসহ রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।তবে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারাও ক্ষমতার দাপটে প্রতিদিন যা তা বলে যাচ্ছে,এমনকি এনারসি বিরোধীদের সরাসরি গুলি করার কথাও বলেছে একজন•••

আসুন দেখি এই নাগরিক পঞ্জির ভবষ্যৎ, উদ্দেশ্য এবং ফলাফল কী•••


বিশ্লেষকদের মতে কাশ্মীরের মুসলমানদের অগ্রাহ্য করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে 370 ধারা বাতিল,বাবরি মসজিদের অবান্তর রায়,এবং ব্যাপক বাঁধা উপেক্ষা করে নাগরিক পঞ্জী বাস্তবায়নের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় উদ্দেশ্য!


উল্লেখ্য যে,ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টির অভিযোগ থাকার পরেও মোদি সরকার এইবার ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচনে কট্টর হিনন্দুত্ববাদী মনোভাব দেখিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে।নির্বাচনে তারা আর কিছু না পারলেও একটি কাজ করতে পেরেছে।তা হলো জনগণকে বুঝিয়ে দেয়া যে,বিরোধী দল হলো মুসলিমদের দল,পক্ষান্তরে তারা হিন্দুত্ববাদী এবং ক্ষমতায় এলে হিন্দুত্ববাদের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।জনগণের এই ধর্মীয় আবগকে হাতিয়ার করে তারা এইবার নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।


দুই মেয়াদে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বুঝতে পারলো যে ধর্মীয় অনুভূতির আশ্রয় নিতে পারলে এই দেশে শত অন্যায় করেও পার পাওয়া যাবে।এর মধ্যে সরকার প্রধান মোদি সাহেবও যদি কট্টরপন্থী হিন্দু হন,তাহলে আর কী লাগে?
"এমনে তো নাচনে বুড়ি,
তার উপরে ঢোলের বারি"--যাকে বলে।


এখন এই ভারতীয় জনগণের তিন ভাগের দুই ভাগ হিন্দু হলেও এক ভাগ কিন্তু মুসলমান।যেকোন সময় যেকোন বিপদ তারা ডেকে আনতে পারে,এর প্রেক্ষিতে শুরু হলো নীল নকশার বাস্তবায়ন।কিভাবে এই জনগোষ্ঠীকে সংখ্যায় কমিয়ে এনে তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করা যায়,এটাই বিজেপির চিন্তা।কিন্তু এই চিন্তা যে কত সুদূর প্রসারী এবং ভয়ঙ্কর তা হয়তো আমরা ভাবতেই পারছি না!

ভারত গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে
ভারত গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে


মিয়ানমার
 গণহত্যা

বিশ্বে গণহত্যায় রেকর্ড করা মিয়ানমারও কিন্তু প্রথমে গণহত্যা চালায়নি।তারাও প্রথমে নাগরিক  তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত করে দেশে নীচু সম্প্রদায়ে পরিণত করলো এবং তাদের মাঝে মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে ভীতি সৃষ্টি করলো।এরপর ধীরে ধীরে তাদেরকে তালিকার বাইরে এবং মিয়ানমারের নাগরিক নয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া শুরু করলো সরকার।এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ব মানবতাকে তাক লাগিয়ে বৃহৎ কয়েকটি গণহত্যা সংঘটিত করলো,যারা বেঁচে ছিল তাদেরকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করলো,এভাবেই আজ রাখাইন রাজ্যকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে মিয়ানমার সরকার।


ভারতের ক্ষেত্রেও এই হিসাব ধীরে ধীরে মিলিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকুন।ভারতের আসামে প্রাথমিক তালিকায় বাদ পড়েছে 20 লাখ জনগণ,আর এই এনারসির প্রভাবে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সীমান্তে আচমকা অনুপ্রবেশ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।আর ভারত বলেছে হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান অভিবাসীদের তারা রাখতে রাজি,কিন্তু মুসলমান নয়।আর খবর পাওয়া যাচ্ছে মুসলমানদেরই এই তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।


এখন থেকে পার্শবর্তী বাংলাদেশ,পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এই অভিবাসীদের চাপ এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে কুটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করা উচিত।কিন্তু দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান ছাড়া কেউ এই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করছে না,অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকায় বাংলাদেশও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।তবে ঘড়ির কাটা যদি বিজেপির হিসেব মতোই ঘুরে,তবে আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলো এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছি•••


ইতোমধ্যেই ভারত গণহত্যায় ওস্তাদ অপর দেশ ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে সামরিক-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।আর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কট্টরপন্থী ইহুদিবাদি নেতানিয়াহু কিছুদিন আগে মোদির জন্মদিনে দুইজনের ঘনিষ্ট ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ সম্পর্ক ও পুরনো বন্ধুত্ব বলে উইশ করে,কয়েকদিন পর মোদিও টুইটের উত্তর দেন ঘনিষ্টতার উদাহরণ দিয়েই।


সর্বশেষ মোদির মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ট্রাম্পের ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি নিয়ে মতামতের মাধ্যমে।সদ্য ঘোষিত তথাকথিত ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি নামক শান্তি চুক্তিতে ফিলিস্তিনের অধিকার কেড়ে নিয়ে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন ও হত্যাযজ্ঞের সমর্থন দেয়া হয়েছে;যা বিশ্বে ঘৃণিত ও নিন্দিত হয়েছে।কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল সেই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি সুরে বুলি আওড়ালেন মোদি! তিনি বলেন চুক্তির ব্যাপারে ফিলিস্তিনের প্রত্যাখ্যান না করে ভাবা উচিত!

হিসেব মেলাতে যারা পটু,বিজেপির কার্যক্রমের ফলাফল কোনদিকে যাচ্ছে এবং কী হতে পারে,এই পর্যায়ে সেই ধারণা আশাকরি পেয়ে গেছেন?

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.