-->

রোহিঙ্গা সংকটের নতুন মোড়

রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে কূটনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন প্রত্যাবাসনের বদলে মিয়ানমারের অপপ্রচার রোহিঙ্গা সংকটে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে কূটনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন প্রত্যাবাসনের বদলে মিয়ানমারের অপপ্রচার রোহিঙ্গা সংকটে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে নতুন মোড়



আমাদের অনেকের মনে শঙ্কা আছে যে কবে রোহিঙ্গারা যাবে...
এই সম্পর্কে গত কয়েকদিন আগে এক ধরনের ভবিষ্যতবাণী করা যেত,কিন্তু চীনের প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে যাচ্ছে।

মিয়ানমারের গণহত্যায় চীনের শক্ত সমর্থনের পেছনে কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা যে মতামত দিয়েছিলেন তা ঐতিহাসিকভাবে সত্য করলো চীন গত কয়েক দিন আগে।
রাখাইন রাজ্য মানবশুন্য করার কাজে চীনের সমর্থনের কারণ হলো সেই রাজ্যকে কেন্দ্র করে চীনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।এটা বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিল মাত্র।
গত পরশু চীনের প্রধানমন্ত্রী প্রায় অর্ধ সহস্র কোটি টাকার বিনিয়োগের চুক্তি করলো সেই রাখাইন রাজ্যেকে নিয়ে।



চীনের এক'শ ত্রিশ কোটি টাকায় তৈরি হবে রাখাইনে গভীর সমুদ্র বন্দর,আবার সেই বন্দর শহরের সাথে দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমে সংযোগ ঘটানো হবে সরাসরি চীনের সাথে।এছাড়াও ইয়াঙ্গুনেও করা হয়েছে শত কোটি টাকার বিনিয়োগ।চীনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হলো মিয়ানমারে গভীর সমুদ্র স্থাপনের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বৃদ্ধি করে ভারতকে কোনঠাসা করে এশিয়া মহাদেশের পানিপথ নিয়ন্ত্রণে নেয়া।


রোহিঙ্গা সংকট
রোহিঙ্গা সংকট

মার্কিন একজন বিখ্যাত কিংবদন্তি রাজনীতি বিশ্লেষক(নাম মনে পড়ছেনা) তার বইয়ে বলেছিলেন,পৃথিবীকে শাসন করতে পারবে সে-ই,যার শাসন সমুদ্রে সর্বাধিক।পৃথিবীর জলভাগে যে সিংহ হবে,স্থলভাগেও সে সিংহ হবে।কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য বহনে জলপথ বা সমুদ্রের বিকল্প কখনো সৃষ্টি হবে না।তাই চীন বিশ্বে ইকনোমিক জায়ান্ট হওয়ার পর সর্বক্ষেত্রে জায়ান্ট হতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের প্রভাব হ্রাস করে নিজের অবস্থান এশিয়ায় শক্ত করতে সাগরকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়;যার নীল নীকশার অংশ মিয়ানমার।


আমি প্রশংসা করি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সফল কুটনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য।তবে চীন এবং ভারতের চাপ ছাড়া এই অঞ্চলে কখনো রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না।আর সাম্প্রতিক মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের বিশাল বিনিয়োগ রোহিঙ্গা সমস্যাকে নতুন মাত্রা দেবে হয়ত;যার ছোট্ট ফলস্বরূপ বলা যায় আগামী দশ বছরে রোহিঙ্গা যাবে না এই দেশ থেকে•••
সুতরাং এনজিও কর্মচারীরা নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করে পদোন্নতির চিন্তা করতে পারেন।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.