-->

কোটা বিলুপ্তি ও ফলাফল

ইতোমধ্যে সরকারি চাকরীর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে,কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের কোটা যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।আর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বা আদিবাসীদের জন্য কোটা বেশি প্রয়োজন হলে পরস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে•••

ইতোমধ্যে সরকারি চাকরীর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে,কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের কোটা যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।আর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বা আদিবাসীদের জন্য কোটা বেশি প্রয়োজন হলে পরস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে•••


কোটা বিলুপ্তি ও ফলাফল


এখন বলি এর ফলাফল ও ভবিষ্যত নিয়ে।প্রত্যেক বিষয়ের ইতি/নেতিবাচক দিক থাকে।আমাদের জীবনে নেতিবাচকতার তুলনায় ইতিবাচকতার প্রয়োজন বেশি,যা মানুষের মাঝে প্রেষণার সঞ্চার করে।আমরা যদি 'আজকের দিনটা আমার' বলে দিন শুরু করি এবং কাজ করতে থাকি তবে দিন শেষে দেখি দিনটা আমারই ছিল;আর হতাশ হয়ে 'আজ আমার কিছু হবে না,ভাগ্য খারাপ' বলে ঘোষণা দিয়ে দিন শুরু করলে ফলাফলটা তেমনই হয়।

বর্তমানে আমাদের দেশে সুপ্তভাবে "শিক্ষা বিপ্লব" ঘটছে।শিক্ষিত সমাজ এই সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।এমনটা হওয়ারই কথা,কেননা এখন জ্ঞান অর্জনের কোন সীমানা নেই,কোন বাঁধা নেই,সারা বিশ্ব উন্মোক্ত এখন সবার কাছে।ঘরে বসেই যে কেউ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের থিসিস পেপার পড়ে নিজে একটা উন্নত মানের থিসিস লিখতে পারে অনায়াসে।যার ফলে প্রতি বছর হাজারো বাঙ্গালী উন্নত দেশগুলোর স্কুলগুলোতে যাচ্ছে, ব্যাপক শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে,গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।

এমন সময়ে সরকারী চাকরীতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষা জগৎ তথা প্রতিযোগীতার জগতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থানে যায় নি যেখানে নারী কোটা একেবারেই বাদ করে দেয়া উচিত,এখনো বাঙ্গালী নারীরা অতটা সমতায় উঠে আসতে পারে নি;তবে!তবে তারা আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাপট দেখিয়ে বলেছে নারী হিসেবে তাদের কোটা লাগবে না,একসাথে প্রতিযোগীতা করেই চাকরী নেবে,এটাই অনেক বড় বিষয়।এর থেকেই বোঝা যায় শিক্ষা ক্ষেত্রে ছাত্রীরা যথেষ্ট আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছে•••

জনগোষ্ঠিকে শিক্ষিত করা সরকারের মূল কাজ,এবার সে শিক্ষিত হয়ে কিভাবে নিজেকে পরিচালনা করবে,জীবন অতিবাহিত করবে সেটা তার কাজ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কোন জনগোষ্ঠীর সুযোগ সুবিধা,বৃত্তি,অগ্রাধিকার বাতিল করে নি সরকার।সুতরাং প্রতিযোগীতা হবে একই মঞ্চে•••



কোটা বিলুপ্তি ও ফলাফল
কোটা বিলুপ্তি ও ফলাফল

কোটা বাতিলের গোষণা প্রকাশের পর আমারই পরিচিত কয়েকজন বড় ভাই নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করেছেন চাকরীর জন্য।এতদিন অনেকেই 46 বছর ধরে চলে আসা 55% কোটা আর মাত্র 45% মেধার ভিত্তিতে নেয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর হতাশ হয়ে টিকবে না বলে চাকরীর পরীক্ষাই দিতো না,এখন থেকে সেইসব ছাত্র/ছাত্রীরা আর হতাশায় ভুগবে না।শুরু হবে প্রতিযোগীতা,আর এই যুদ্ধে জয়ী জিনিয়াসরা যখন সরকারী প্রথম শ্রেণীর আসনে বসবে,পরিবর্তন একটু তো আসবেই••• কী বলেন?


এই কোটা ব্যবস্থা কোন সরকারের দোষ নয়,আমরা চাকরীতে গিয়েই চোরের খনিতে ঢুকে যাই,এটাও সরকারের দোষ নয়।দোষ আমাদেরই,আমরাই সরকার,আমরাই রাষ্ট্র•••
এত বছর পর শিক্ষা ক্ষেত্রে আসুক না এক দমকা হাওয়া,হোক না কিছু পরিবর্তন,আরো একটু এগিয়ে যাক না জাতি•••


আসুন বাঁচি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সেরা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে•••
শুরু হোক প্রতিযোগীতা,ঘটুক বিপ্লব শিক্ষা ক্ষেত্রে•••

বিঃদ্রঃ এইবারের তথা 40তম বিসিএস ও নিয়োগ পরীক্ষায় শতভাগ মেধার ভিত্তিত নিয়োগ হবে!

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.