-->

ব্যক্তিত্ত্ব বনাম ইগো

আজকাল "ইগো" এর প্রদর্শন এবং অনুকরণ দিন দিন বাড়ছে।প্রতিনিয়ত মানুষ এর অনুকরণে ছোটলোক হয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে এবং সার্বিক জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।মডার্ন ছেলেগুলো ইগো মেনটেইন করাকে একটা গুণ মনে করছে বর্তমানে।কিন্তু এর ফলে তারা যে শূন্যের কোটায় পৌঁছাচ্ছে,কত কিছু হারিয়ে ফেলছে তা অনুভব করতে পারছে না•••

আজকাল "ইগো" এর প্রদর্শন এবং অনুকরণ দিন দিন বাড়ছে। প্রতিনিয়ত মানুষ এর অনুকরণে ছোটলোক হয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে এবং সার্বিক জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। মডার্ন ছেলেগুলো ইগো মেনটেইন করাকে একটা গুণ মনে করছে বর্তমানে। কিন্তু এর ফলে তারা যে শূন্যের কোটায় পৌঁছাচ্ছে, কত কিছু হারিয়ে ফেলছে তা অনুভব করতে পারছে না•••

ব্যক্তিত্ত্ব বনাম ইগো


ইগো হলো এমন একটি দোষ যার ফলে মানুষ অজান্তেই নিজেকে হিরো ভাবা শুরু করে এবং সীমাহীন আমিত্ব অনুভব করে। এর ফলে মানুষ ধীরে ধীরে যেকোন কিছু শেখার আগ্রহ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ব্যক্তি তখন বুঝতে পারে না সে কেন নিজেকে হিরো ভাবছে, তার কী এমন রয়েছে, অন্যের তুলনায় নিজে কতটা উত্তম, কয়টি সদগুণ রয়েছে নিজের মধ্যে। ইর্ষা,অহংকার,বিদ্বেষ ইত্যাদি সবকিছুর তুলনায় ভয়ংকরতম হল এই ইগো!


আপনার ইগো না থাকলে সকলের সাথে সহজেই মিশতে পারবেন, ফলে আপনার যেকোন সময় যেকোন জায়গায় তারা কাজে আসতে পারে, অন্যথায় যতই ইগো দেখিয়ে উঁচু হতে চেষ্টা করবেন, ততই সঙ্গহীন জীবনে নিজেকে আবিষ্কার করবেন। মানুষের সাথে হেসে দুটি কথা বলতে, তাদেরকে একটু খুশি করতে টাকা লাগে না, কিন্তু এর বিনিময়ে যে আনন্দ আপনি পাবেন তা কখনো টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন না। ইগো আপন মানুষদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে সম্পর্ক নষ্ট করে দিতেও সময় নেয় না, যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করেছে। এছাড়াও মানুষকে নিঃসঙ্গ করার পাশাপাশি অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে এর।


ব্যক্তি জীবনে ইগোর ভয়ংকরতা নিয়ে একজন বিখ্যাত মার্কিন লেখক একটি বই রচনা করেন। বইটির নাম EGO IS THE ENEMY  লেখক RYAN HOLIDAY, এটি বেস্ট সেলার একটি বই এখনো পর্যন্ত।


এতসব ক্ষতির পরেও কেন কিছু মানুষ ইগোর অনুকরণ করে? এর একটি জবাব রয়েছে অবশ্যই! আর সেটি হল "সেল্ফরেসপেক্ট বা আত্মসম্মানবোধ"। এই সেল্ফরেসপেক্টের দোহাই দিয়ে তারা ইগো নামক অসদগুণটিকে ধারণ করে শয়তানের সহচর হয়ে বয়ে বেড়ায়। কিন্তু তারা আত্মসম্মানবোধ কাকে বলে, তা বুঝেনা বলেই একে একটি দোষের সাথে গুলিয়ে ফেলে। প্রকৃত জ্ঞানী বা শিক্ষিত ব্যক্তি কিংবা স্মার্ট লিডারের মধ্যে এই ইগো দেখা যায় না, কারণ তারা জানে যে এর মাধ্যমে লোকসানই হয়, লাভ তো নয়-ই।



ব্যক্তিত্ত্ব বনাম ইগো
ব্যক্তিত্ত্ব বনাম ইগো

সেল্ফরেসপেক্ট আর ইগোর মাঝে আকাশ পাতাল তফাত রয়েছে।নিম্মে কয়েকটি উল্লেখ করা হল:-

১) সেল্ফ রেসপেক্ট হলো আপনি জানেন যে আপনি ভাল মানুষ আর ইগো হলো আপনি মনে করেন যে আপনি অন্য সবার থেকে ভাল। সেল্ফরেসপেক্ট হলো আপনি জানেন যে আপনি বুদ্ধিমান আর ইগো হলো আপনি মনে করেন যে আপনি সকলের চেয়ে জ্ঞানী।

২) সেল্ফরেসপেক্ট যখন তার সীমারেখা ক্রস করে এবং অপরকে আঘাত করতে শুর করে তখন সেটা ইগোতে রুপান্তরিত হয়।

৩) ইগো তৈরি হয় স্ফীত আত্মসম্মান থেকে এবং আত্নসম্মানবোধ বা সেল্ফরেসপেক্ট তৈরি হয় সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য অনুধাবন করার মধ্য দিয়ে।

৪) ইগো হলো কষ্টদায়ক অহংকার আর 'সেল্ফরেসপেক্ট' হলো সমাজে নিজের সঠিক মর্যাদা অনুধাবন করতে পারা।

৫) সেল্ফরেসপেক্ট হলো সবসময় ধ্রুব সত্য এবং ইগো নিজ থেকে প্রকাশ করা।

৬) ইগো হলো কোন কিছুর প্রতি নিজস্ব ভঙ্গিমা বা নিজের অবস্থান, যেটাকে ব্যাক্তির এটিটিউড ও বলা যায়।

৭) ইগো হলো মর্যাদা আদায় করার চেষ্টা। সেল্ফ রেসপেক্ট হলো নীচু হওয়া।

৮) ইগোর মানে হলো এটা মনে করা যে, আমি হলাম এই পৃথিবীর জন্য একটা বড় উপহার। আমিই হলাম সকলের মধ্যমনি। কাজেই আমাকে ঘিরেই সকল কর্ম সম্পাদন হওয়া উচিত। আর সেল্ফ রেসপেক্ট হলো নিজের লিমিটেশন সম্বন্ধে অবগত হওয়া এবং নিজের মধ্যে যেই দক্ষতা আছে সেটা জাহির করতে না চাওয়া।

৯) সেল্ফরেসপেক্ট হলো নিজের উপর বিশ্বাস রাখা আর ইগো হলো নিজেকে অপরের চেয়ে ভাল মনে করা।

১০) ইগো হলো কেবল নিজেকে নিয়েই চিন্তা করা, মানুষ তার সমন্ধে কি বললো বা না বললো সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করা। সেল্ফ রেসপেক্ট হলো নিজেকে নিয়ে চিন্তা করার পাশাপশি অন্যদের ধ্যান-ধারনা নিয়েও চিন্তা করা।

কেউ কেউ বলেন: যার মধ্যে অতিমাত্রায় ইগো থাকে তার মধ্যে জিরো মাত্রায় 'সেল্ফ রেসপেক্ট' থাকে।

সুতরাং আমাদের সকলের জীবনেই সেল্ফ রেসপেক্ট বাড়ানো উচিত এবং ইগো বিলুপ্ত করা উচিত।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.