-->

জীবনযাত্রা বনাম যোগাযোগ মাধ্যম

বাংলাদেশে ফেসবুকের আবির্ভাবের পূর্বে মত প্রকাশের মাধ্যম ছিল মিছিলের স্লোগান,দেয়ালের লিখন,সম্পাদকের অনুমোদন সাপেক্ষে গণমাধ্যম(পত্রিকা,টিভি,রেডিও)।ফেসবুকের প্রথমাবস্থায় যখন এটি জনপ্রিয়তা লাভ করেনি,তখন ব্লগকে কেন্দ্র করে মুক্ত মতপ্রকাশের চর্চা শুরু হয়।মূলত শিক্ষিত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে ব্লগের চর্চা শুরু হয় 2005 সাল হতে।"সামহয়ার ইন ব্লগ"র পর ধীরে ধীরে "সচলায়তন" এরপর "মুক্তমনা"সহ অসংখ্য ব্লগ তৈরি হতে থাকে তাদের জন্য। এই ব্লগারদের চিন্তার মুক্ত প্রকাশ এদেশের রক্ষণশীল অংশের নিকট প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে থাকে,যার প্রকাশ পায় 2013 সালের ব্লগার রাজীব হত্যার মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশে ফেসবুকের আবির্ভাবের পূর্বে মত প্রকাশের মাধ্যম ছিল মিছিলের স্লোগান,দেয়ালের লিখন,সম্পাদকের অনুমোদন সাপেক্ষে গণমাধ্যম(পত্রিকা,টিভি,রেডিও)।ফেসবুকের প্রথমাবস্থায় যখন এটি জনপ্রিয়তা লাভ করেনি,তখন ব্লগকে কেন্দ্র করে মুক্ত মতপ্রকাশের চর্চা শুরু হয়।মূলত শিক্ষিত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে ব্লগের চর্চা শুরু হয় 2005 সাল হতে।"সামহয়ার ইন ব্লগ"র পর ধীরে ধীরে "সচলায়তন" এরপর "মুক্তমনা"সহ অসংখ্য ব্লগ তৈরি হতে থাকে তাদের জন্য।

এই ব্লগারদের চিন্তার মুক্ত প্রকাশ এদেশের রক্ষণশীল অংশের নিকট প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে থাকে,যার প্রকাশ পায় 2013 সালের ব্লগার রাজীব হত্যার মধ্য দিয়ে।

জীবনযাত্রা বনাম যোগাযোগ মাধ্যম


ব্লগ গড়ে ওঠে সমমনা নির্দিষ্ট মতের কিছু মানুষের হাতে,যার ফলে ব্লগের মধ্যেও মত ও গোষ্ঠীরূপ গড়ে ওঠে।কিন্তু ফেসবুক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই নিয়ন্ত্রণ আর রইল না।
ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ এমন এক শক্তি হাতে পেল যার সাহায্যে কারো মাধ্যম ছাড়া যখন যা ইচ্ছা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করা শুরু করল।প্রত্যেকের ফেসবুক ওয়াল হয়ে ওঠল ব্যক্তিগত মিডিয়া•••
লেখায়,ছবিতে,ভিডিওতে যেভাবে খুশি মানুষ বলতে লাগল।স্বল্প সময়ের মধ্যে পাল্টে গেল মানুষের বলার ভাষা,যোগাযোগের ভাষা।প্রত্যেকে এমন পৃথিবীর সামনে উপস্থিত হলাম যেখানে সবাই সমানভাবে উপস্থিত হতে পারে।


একজনের ফেসবুক ওয়ালকে একজন কতভাবে ব্যবহার করতে পারে,এবং তা অন্যকে কতটা প্রভাবিত করে;এটি এখন সামাজিক গবেষণার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।ফেসবুক প্রত্যেককে 'লেখক' বানিয়েছে,স্মার্টফোন বানিয়েছে 'ফটোগ্রাফার'•••

বলার ভাষা এবং যোগাযোগের ভাষা পাল্টে দেয়ার পাশাপাশি আরেকটি রাষ্ট্রীয় মৌলিক উপাদানকে পাল্টে দিয়েছে,আর তা হল "রাজনীতি"।আমরা এর প্রথম প্রভাব দেখি 2013 সালের গণজাগরণের ক্ষেত্রে।মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে ডাক আসে ব্লাগারদের পক্ষ থেকে,এবং ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত দেশের বৃহত্তর জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে•••
এই আন্দোলনটির চেহারা ছিল পূর্বে সংঘটিত নানা আন্দোলন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।এই আন্দোলন গড়ে ওঠে যার যার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে,ফলে নেতৃত্বের ধরনেও দেখা গেল নতুন ধরন;নেতা বা নেত্রীর ধারনার বদলে এল মুখপাত্রের ধারণা•••


এরপর ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে 2018 সালে আরো দুটি সচেতনতামূলক আন্দোলন।একটি হল কোটা আন্দোলন।এর মূলভিত্তি ছিল ফেসবুক;যার ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের কোটা বাতিল করেন।এরপর সংঘটিত হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন,এর ফলেও দেশের সড়ক আইনে অনেকটা পরিবর্তন আসে•••

এর থেকে বোঝা যায় ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই নবজাগরণের সংস্কৃতি আগামী দিনের রাজনীতিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে এবং করছে,যার ফলে পাল্টে যাবে সংগঠনের গঠনচিত্র,নেতৃত্বের ধরনসহ আরো অনেক কিছু•••


জীবনযাত্রা বনাম যোগাযোগ মাধ্যম
জীবনযাত্রা বনাম যোগাযোগ মাধ্যম

তাই বর্তমানে এই ফেসবুকসহ যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিয়ে হচ্ছে গবেষণা,জরিপ এবং আইন প্রয়োগ।মানুষের জিবনযাত্রাই হল সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়,আর এই জিবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণ তথা ফেসবুক ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম হল আধুনিক সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্যতম বিষয়বস্তু।কেননা এই ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যা ব্যপকহারে মানুষের নিজ সংস্কৃতির,ভাষার বিলুপ্তি/সংমিশ্রণ ঘটাচ্ছে•••
এজন্যেই নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়া,চীনসহ আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে•••

এছাড়া বর্তমানে চাকরীর জন্যে সিভি জমা দিলে ফেসবুক একাউন্ট দেখেই অধিকাংশ প্রার্থী সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়।সুতরাং আমাদের উচিত ফেসবুককে নিজের কল্যাণে একটা ধারা বজায় রেখে ব্যবহার করা,যা দেখলেই আমাদের সম্পর্কে ভাল ধারণা জন্মায়।কেননা আমাদের আইডিগুলো হল আমাদের মন-মানসিকতা,রূচি এবং চিন্তাধারার পরিচায়ক•••
ফেসবুককে ব্যবহার করুন নিজ কল্যাণে ব্যক্তিগত মিডিয়া হিসেবে।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.