-->

CGPA vs JOB-সিজিপিএ ও চাকরী

সিজিপিএ দ্বারা একসময় একজন ছাত্রের মেধার পরিমাপ হতো,কিন্তু বর্তমানে এই পয়েন্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু ডিপার্টমেন্টাল মেধাতালিকা তৈরির একটি মাধ্যম শুধু।

সিজিপিএ দ্বারা একসময় একজন ছাত্রের মেধার পরিমাপ হতো,কিন্তু বর্তমানে এই পয়েন্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু ডিপার্টমেন্টাল মেধাতালিকা তৈরির একটি মাধ্যম শুধু।

সিজিপিএ ও চাকরী


আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যাবস্থা যেমন ভাল ছিল,তেমনি ছিল গবেষণামূলক বই ভিত্তিক ব্যাপক পড়াশোনা।সেই বহুমুখী পড়ালেখা আয়ত্ত করে পরীক্ষায় ভাল সিজিপিএ অর্জন করা ছাত্রগুলোর মান ছিল নির্ভরযোগ্য।কাদের জন্য নির্ভরযোগ্য?যাদের কাছে চাকরী নামক সোনার হরিণ আছে,যারা আমাদের চাকরী দেয়•••

কিন্তু বর্তমানের এক রাতে শিট পড়ে পরীক্ষায় যা তা লিখে ভাল সিজিপিএ অর্জনকারী ছাত্ররা সত্যিকারের শিক্ষিত হয়ে বের হচ্ছেনা,বরং সরকারের প্রসবিত মুখোশধারী অযোগ্য নাগরিক হয়ে বের হচ্ছে।

হ্যাঁ,ছাত্রদের চাকরী না পাওয়ার, শিক্ষার মানের অধঃপতন হওয়ার দায় যেমন সরকার ফেলে দিতে পারে না,তেমনি শিক্ষাবিদ নামক জাতির মেরুদন্ড চর্বণকারী ভদ্রলোকগুলোও এর দায় এঁড়াতে পারে না।
এর জন্যেই হয়তো এখন মানুষ মজা করে স্বপ্ন দেখে ব্যাক বেঞ্চার হয়ে কোম্পানির সিইও হওয়ার•••

সিজিপিএ ও চাকরী
সিজিপিএ ও চাকরী



প্রতি বছর একেকটা ব্যাচ থেকে শতের উপরে গ্রেজুয়েট বের হয়,চাকরী পায় হাতে গুণা জন দশেক,কারণ কী?কারা পায়?ভেবে দেখুন•••

সরকার শত শত কোটি টাকা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন ব্যবস্থা দিয়ে পড়াচ্ছে,কিন্তু জাতি বিনির্মাণে এই শত কোটি টাকার বিনিয়োগ কি আদৌ কাজে লাগছে?প্রকৃত শিক্ষিত ছাত্র বের করতে পারছি আমরা? পাবলিকের ছেলেমেয়েরা পাশ করে দুই তিন বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে,চাকরী হয়না কোথাও,নেশনালের কথা বাদই দিলাম।


এর দায়ভার ছাত্র-শিক্ষক উভয়ের।অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এক্ষেত্রে ছাত্রদের দোষ দিলে ব্যাপক ক্ষেপে যান,তাঁর মতে শিক্ষক জানার মত,নতুন কিছু,গবেষধর্মী কিছু পড়ালে তবেই তো ছাত্ররা ক্লাসে আসবে???নাহয় কেন আসবে?
কিন্তু আমরা এই দুর্দিনে আসার পরেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলার মানুষ হাতে গুণা কয়েকটি ছাড়া আর দেখিনা।


চাকরী প্রদানকারীরাও দিন দিন হতাশ আর শঙ্কিত হচ্ছেন এখনকার গ্রেজুয়েটদের পড়ালেখা আর যোগ্যতা দেখে।বিশ্ববিদ্যালয় নামক খোঁয়াড়গুলো থেকে এখন সারি সারি বলদ বের করছে বলে কিছুদিন আগে একজন শিল্পপতি ব্যাঙ্গ করেছেন।কারণ আছে;তিনি বলছেন আমরা এখন যোগ্য প্রার্থী খুঁজেই পাইনা,যার কারণে আমাদেরকে বাধ্য হয়ে বাইরের কর্মী দ্বিগুণ টাকায় নিয়োগ দিতে হয়;যার ফলাফলই হয়তো দেশের বেসরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার 80%(আশি ভাগ) বিদেশি।
আগে অক্সফোর্ডে ঢাবির সার্টিফিকেটধারী আবেদনকারীদের কখনো ফেরত আসতে হতো না,এখন ঢাবি দেখলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।


গত পাঁচ/দশ বছর আগেও পত্রিকায় ভাল চাকরীর নিয়োগপত্রগুলোতে উচ্চ মানের নির্দিষ্ট সিজিপিএ নির্ধারণ করে দেয়া হত।কিন্তু বর্তমানে তা একেবারে নেই বললেই চলে,এটা উঠে যাচ্ছে,কারণ কি?
কোম্পানির এইচআরদের একটি সম্মেলনে তারা বলেন যে,বর্তমানে এখন আর আমরা সিজিপিএর উপরে ভরসা করিনা,কারণ এখনকার উচ্চ মানের পয়েন্টধারীরা অধিকাংশই অযোগ্য এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তারা কোম্পানির চাহিদামাফিক হয়না;পক্ষান্তরে সাধারণ পয়েন্টধারী অনেক প্রার্থীর মাঝেই ভিন্নধর্মী বিভিন্ন যোগ্যতার বিচক্ষণ প্রার্থী মিলে যায়।


তবে যোগ্য করে তুলোন নিজেকে,যেই বেঞ্চেই বসুন না কেন,সফলতা আপনাকে খুঁজে নেবে,এখন উচ্চ মানের সিজিপিএ অনেক ক্ষেত্রে "আই এম জিপিএ ফাইভ" এর লেটেস্ট ভার্শন মাত্র।তাই হতাশ না হয়ে নিজের আত্মপ্রত্যয় বাড়াতে পড়ালেখা এবং এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজের কোন বিকল্প নেই।
"একটি পরীক্ষার খাতা কখনো আমাকে পরিমাপ করতে পারে না" এই কথাটা এখন সবাই বিশ্বাস করে,কিন্তু চাকরীর ভাইভা বোর্ডে এই কথার প্রমাণ দিতে পারার মত যোগ্যতা আপনাকে অর্জন করতে হবে।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.