-->
 আরব বসন্তের এক দশক ও চাওয়া-পাওয়া

আরব বসন্তের এক দশক ও চাওয়া-পাওয়া

ANALYSING THE WORLD
তিউনিসিয়ার ফল বিক্রেতা বুআজিজির গায়ে দেয়া আগুনে পুরো আরব বিশ্বের কর্তৃত্ববাদি সিংহাসনগুলোতে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, তা ইতিহাসে আরব বসন্ত নামে একটি অধ্যায় সৃষ্টি করেছে এবং গত ১৭ই ডিসেম্বর তার এক দশক পূর্ণ হল। অন্যায়-অত্যাচারে অতিষ্ট হওয়ার প্রতিবাদ স্বরূপ একজন ফল বিক্রেতা নিজ গায়ে আগুন জ্বালানোর মাধ্যমে পাপাচার-দুর্নীতির যে অন্ধকার দূর করতে চেয়েছিলেন, তা কি আদৌ সম্ভব হয়েছে? আজ এক দশক পাড়ি দেয়ার পর এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা যে বসন্ত প্রকৃতিতে সুবাস ছড়ায়না, সে বসন্তকে আশীর্বাদ আখ্যা দিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগাটা বিশ্ব মানবতাকে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করবে।

আরব বসন্তের এক দশক ও চাওয়া-পাওয়া

তিউনিসিয়ায় সৃষ্ট আরব বসন্তের বেগ এবং এর পেছনের সমর্থন এত বেশি ছিল যে, তা মাত্র পৌনে দুই বছরের মধ্যে একাধারে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া,বাহরাইন ও ইয়েমেনে জাগরণ সৃষ্টি করে। এই বসন্ত আরব দেশগুলোতে এত দ্রুত প্রভাব বিস্তারের প্রথম কারণ ছিল দেশগুলোতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিদ্যমান এক নায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ও দারিদ্রতা। দ্বিতীয়ত, এর পেছনে সর্বাধিক শক্তি জুগিয়েছিল স্বার্থান্বেষী পশ্চিমা ও ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত শক্তিগুলো। আরব বসন্তের হাওয়ায় ঝলসে যাওয়া দেশগুলোর দিকে তাকালেই আমরা দেখব, অধিকাংশ দেশের শাসকই ছিল পশ্চিমা স্বার্থবিরোধী এবং শক্তিশালী ভিতের।



যদি আরব বসন্তের আশা আকাঙ্ক্ষার দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি, তাহলে দেখি এর পেছনে ছিল আরবীয়দের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন, ছিল দমন-পিড়ন থেকে নিস্তার লাভের আকুতি। কিন্তু আজ আরব বসন্তের এক দশকে এসে আরবীয়রা যেন এই বসন্ত থেকে মুক্তি পেলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারে, এমন অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে। একটি স্বাধীনতার স্বপ্ন কেন আজ ধ্বংসলীলা বা যুদ্ধাবস্থায় পরিণত হল তার কারণ খুঁজতে আমাদেরকে বিগত দশ বছরের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের হাল হাকিকত

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের হাল হাকিকত

ANALYSING THE WORLD

মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে 'সার্বজনীন মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাকে' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্বের সব দেশগুলো (দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যতিত) ১০ ডিসেম্বর "মানবাধিকার দিবস" পালন করে আসছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার অন্যতম অর্জন বা সাফল্য হিসেবে ধরা হয় বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এই দিবসের প্রচলনকে। কিন্তু মানবাধিকারের ধারণা বিশ্বব্যাপী প্রচলনের ৭০ বছরে এসেও বিশ্বের কয়টি দেশ এই অধিকারগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে বা এক্ষেত্রে আমরা কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তা আমাদের খতিয়ে দেখা উচিত; বিশেষ করে বিশ্বে যখন পূর্বের তুলনায় দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং যুদ্ধ সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের হাল হাকিকত

একবিংশ শতাব্দিতে মানব সভ্যতা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরোত্তর সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু এর সাথে আমাদের মাঝে একইভাবে মানবতাবোধের কি আদৌ উন্নয়ন ঘটছে? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পাই। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মাঝে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে জাতিগত সহিংসতা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং দমন-পিড়ন। সম্প্রতি কাশ্মীরকে নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে। কাশ্মীর সীমান্তে গুলাগুলি থেকে শরু করে মর্টার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে উভয়পক্ষের সীমান্তরক্ষী হত্যা এখন নিত্যদিনের ঘটনা যেন। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেকে করা হয়েছে গৃহবন্দী। এছাড়াও চলছে বিনা অপরাধে জনগণকে কারারুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন অমানুষিক নির্যাতন, যার ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে তৈরি হয়েছে স্বাধীনতাকামী বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ। এভাবে পৃথিবীর ভূস্বর্গ খ্যাত এই অঞ্চল ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে যুদ্ধপ্রবণ এলাকায়। অপরদিকে পাকিস্তানেও বৃদ্ধি পেয়েছে জাতিগত সহিংসতা। বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম দিন দিন বাড়ার সাথে সাথে সংঘর্ষও বাড়ছে, বাড়ছে রাজনৈতিক দমন-পিড়নও।



আর এই অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি আমরা কল্পনা করি, তাহলে মানবাধিকার সংকটে জর্জরিত এক উত্তপ্ত যুদ্ধপ্রবণ এলাকার দৃশ্যই ভেসে উঠে চোখের সামনে। কেননা ভারত যে নাগরিত্ব সংশোধনী বিল পাশ করিয়েছে তাদের আইন সভায়, তা এতদিন করোনার কারণে স্তিমিত থাকলেও বিজেপি সরকার পুনরায় সেটি আগামী মাস থেকে বাস্তবায়ন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সালে প্রাথমিকভাবে যে নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করেছিল মোদি সরকার, তাতে প্রায় বিশ লক্ষ ভারতীয়কে দেয়া হয় 'বাংলাদেশি' পরিচয়। কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান ভারতের কোন নাগরিককে নিজের দেশে গ্রহণ করার মতো অবস্থাতে নেই, হোক তা শরণার্থী হিসেবেই। এমনিতেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে, তার উপরে যদি নতুন শরণার্থী চাপিয়ে দেয়া হয় তবে তা হবে 'মরার উপর খাঁড়ার ঘা' স্বরূপ। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশের উপরে তাদের আইনের কোন প্রভাব পড়বেনা বলে বারংবার অস্বস্ত করলেও, প্রাথমিক তালিকা প্রণয়নের পরপরই আমরা দেখেছি ভারত থেকে কিভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের হার বেড়ে গিয়েছিল হঠাৎ।




এক্ষেত্রে জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভারতের  নাগরিক তালিকা (এনআরসি), সংশোধিত নাগরিক আইন (সিএএ) ও জনসংখ্যা তালিকা (এনপিআর) পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধাবস্থাও সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া শুধুমাত্র অমুসলিমদের নতুনভাবে নাগরিকত্ব প্রদানের যে নীতিটি ভারত নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে জাতিগত নিপিড়নই বটে।

ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

ANALYSING THE WORLD

গত ২৭ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল হোতা মুহসিন ফখরিজাদেহকে আবসার্দ শহরের একটি রাস্তায় সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয়। হামলার ধরণ ছিল সেই আগের মতোই। প্রথমে গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, অতঃপর মেশিনগানের গুলিবর্ষণ। উল্লেখ্য যে, ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার এই চোরাগুপ্তা হামলার নীতি ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই অনুসরণ করে আসছে।

ইরানে ফখরিজাদেহ হত্যার নেপথ্যে

আশির দশকে ইসলামি বিপ্লব ঘটিয়ে ইজরায়েলি দোসর রেজা শাহ পাহলভিকে উৎখাতের মাধ্যমে বর্তমান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার ইরানকে ইজরায়েলের শত্রুর আসনে বসায়। ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধর্মীয় সরকার ঘোষণা করলো, ইসলামে পরমাণু কর্মসূচির কোন বৈধতা নেই, ফলে সব চুল্লি ধ্বংস করা হল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই তথা ১৯৮০ সালে ইরান ইরাকের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। এই যুদ্ধে সাদ্দাম হোসাইন ইরানিদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ করে এবং এর বিপরীতে তুলনামূলক অপ্রচলিত অস্ত্রগুলো ইরানের বিপদ ডেকে আনে। যুদ্ধের পর প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজস্ব অস্ত্র তৈরি ও উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহে জোর দেন। তার পরপরই সরকারি এবং ধর্মীয় নেতাদের ফতোয়া পাল্টে যায়! তারা ভোল পাল্টে বলেন, "আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে।"
.
.
এরপর ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসেবে একটি মিটিঙের কথা জানা যায়। ১৯৮৭ সালে দুবাই শহরে ইরান একটি মিটিং আয়োজন করে, যেখানে আট জন সদস্যের মধ্যে তিনজন ছিলেন ইরানি, দুইজন পাকিস্তানি এবং তিন জন ইউরোপীয়। ধারণা করা হয়, এর সবাই পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন এবং দুইজন পাকিস্তানির মধ্যে একজন ছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক ড• আবদুল কাদির খান।
.
.
পরবর্তীতে ভগ্ন সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র এবং যন্ত্রাংশ বিক্রির সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইরান তার পরমাণু স্থাপনা গড়ে তুলে। এই সম্পর্কে ইজরায়েল প্রথম তথ্য পায় ১৯৯৮ সালের ৮ জুন ইরানের স্বপক্ষত্যাগী একজন বিজ্ঞানী ড• ইফতেখার খানের এফবিআইকে দেয়া তথ্যের মাধ্যমে। এর যাচাই বাছাই চলাকালীন সময়ে চার বছর পর ২০০২ সালে ইরানের বিরোধী দলীয় আন্ডারগ্রাউন্ড এক নেতা সিআইএকে একটি লেপটপ দেয়, যা পরমাণু কেন্দ্রের তথ্যে পরিপূর্ণ ছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিশ্ব সমালোচনার মুখে পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী পরমাণু ফর্মুলা বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জনের কথা স্বীকার করেন একটি টিভি চ্যানেলে।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চবি শাখার "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চবি শাখার "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল

ANALYSING THE WORLD

আজ ২৭ নভেম্বর রাত আট ঘটিকায় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল "পত্রিকায় লেখা ছাপানোর কলাকৌশল" বিষয়ক কর্মশালা।


অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং গুণী লেখক আলীউর রহমান এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদিকা লেখিকা নিগার সুলতানা সুপ্তি


নেজাম উদ্দীনের চমৎকার সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আরমান শেখ। তিনি পাঁচটি ধাপে তাঁর বক্তব্যকে ভাগ করে নবীন লেখকদের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং  বুদ্ধিজীবী হয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে সকলকে উৎসাহিত করেন।


অতঃপর বিশেষ অতিথির ভূমিকায় নিগার সুলতানা সুপ্তি লেখালেখির জগতের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে নবীন লেখকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানের পাশাপাশি সেসম্পর্কে বাস্তব কিছু উদাহরণ পেশ করে চমৎকার কিছু দিকনির্দেশনা দেন।


পরিশেষে বক্তব্য প্রদান করেন, প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে হুমায়ুন আহমেদ, আহমদ ছফা থেকে শুরু করে দস্তভয়েস্কির উদাহরণ টেনে নবীন লেখকদের সামনে এটাই উপস্থাপন করেন যে, লিখা প্রকাশ নাহলে কখনো হতাশ হওয়া যাবেনা। হুমায়ুন আহমেদের প্রথম বইটি তিন বছর প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরার পর পরিশেষে প্রকাশিত হয়েছিল প্রকাশকদের প্রতি আহমদ ছফার নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকির মাধ্যমেই। একইভাবেই হতাশায় যেদিন দস্তভয়েস্কি আত্মহত্যা করতে যাবেন, সেদিনই প্রথম তিনি তাঁর লেখা খুঁজে পান পত্রিকায়। এভাবে একের পর এক দুর্দান্ত উদাহরণ টেনে নবীন লেখকদের উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি লেখকদের যাবতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর দেন এই গুণী সাংবাদিক।
 পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?

পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?

ANALYSING THE WORLD

আগামী বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সাড়া জাগানো মমতার পশ্চিমবঙ্গ দখলে এখন থেকেই ভারতীয় রাজনৈতিক মাঠ বেশ সরগরম। পরপর দুইবার নির্বাচিত হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে মমতার একটি শক্তিশালী অবস্থান, আর এই অবস্থানের ভিত্তিতেই বিভিন্ন সময়ে তাকে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের গলার কাঁটা হয়ে আবির্ভাব হতে। ফলে এই রাজ্য থেকে মমতাকে হঠাতে বিজেপি সরকার কয়েক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করেছে, যার কারণে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই রাজনীতির উষ্ণ হওয়া বইছে সেখানে।

 পশ্চিমবঙ্গে মমতার দাপট থাকবে তো?


পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গেঁড়ে দিল্লির দিকে হাত বাড়ানো অগ্ননিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বশেষ আন্দোলনে রাজপথে দেখা যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) পাশের পর। এই আন্দোলনে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান ও নৈতিক ভিত্তি অন্যান্য রাজ্যকেও আন্দোলনের পথে টেনে এনেছিল, যার কারণে আরো কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এনআরসি'র বাস্তবায়নে অসম্মতি জানায়। এই আন্দোলন ট্রেন এবং সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগানোর মত ভয়াবহ রূপ ধারণ করার পর স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেয়ার মত হুমকিও মমতা বিজেপি সরকারকে দিতে বিলম্ব করেননি। এভাবেই দিন দিন ধর্মনিরপেক্ষাতা এবং ইসলামিক সন্তুষ সাথে নিয়ে বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় যখন মমতা বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছেন, তখন বিজেপির ছলে বলে কলে কৌশলে মমতাকে আটকাতে আট-ঘাট বেঁধে বছরের শুরু থেকে নেমে পড়া ছাড়া কোন উপায় আর থাকে না।



পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা ফলপ্রসু তা আমরা বিগত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। যেখানে অতীতে বিজেপি দুইটির বেশি আসন কখনো পায়নি, সেখানে ১৮ টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত দল হিসেবে বাজিমাত করেছে তারা। তবে এর ইঙ্গিত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তখনকার বিজেপির এই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনধারী হওয়ার ব্যাপারটা তৃণমূল পাত্তা না দেয়াতেই লোকসভায় এই ধাক্কা খেতে হল তাদের। এর থেকে বোঝা যায় যে, ২০১৬ সালের বিধানসভায় ২৯৪ টি আসনে মাত্র তিনটি আসন পেয়ে ভরাডুবি হওয়া সেই বিজেপি আর এখন নেই।
এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য  অভ্যুত্থান (আরসিইপি)

এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য অভ্যুত্থান (আরসিইপি)

ANALYSING THE WORLD
সম্প্রতি বিশ্ববাণিজ্যের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিন ১৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হল রিজিয়োনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ(আরসিইপি) চুক্তি। চীনের নেতৃত্বে স্বাক্ষরীত এই চুক্তিতে থাকছে আসিয়ানভুক্ত দশটি দেশ ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক শক্তিগুলো

এশীয়ায় চীনের নেতৃত্বে বাণিজ্য অভ্যুত্থান

আরসিইপি চুক্তির আলোচনা ২০১২ সালে চীনের প্রস্তাবনায় যখন শুরু হয়, তখন থেকেই এর আওতাভুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। কিন্তু ট্রাম্প সরকার ২০১৭ সালে এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগের বছর তথা ২০১৬ সালে এশিয়ার দশটি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ(টিপিপি) থেকেও বেরিয়ে যান ট্রাম্প। ট্রাম্পের হঠকারী এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে চীন আরসিইপি আলোচনা জোরদার করে, যার ফলশ্রুতিতে আজ ইতিহাস সৃষ্টি করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠল।
.
.
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়েও বৃহৎ এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের মোট জিডিপি বিশ্ব জিডিপির উনত্রিশ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট উৎপাদিত পণ্যের এক তৃতিয়াংশ এই অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়। ফলে এর প্রভাব পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যেও খানিকটা পড়বে। চুক্তির কারণে এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো পাশ্চাত্য নির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাক্ষরিত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের দিকেই মনোযোগ দিবে।
.
.
আরসিইপি এমন একটি সময়ে স্বাক্ষরিত হল, যখন চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করে ভৌগলিক আধিপত্য বিস্তার প্রতিযোগিতা পর্যন্ত গড়িয়েছে। তদুপরি মার্কিন নতুন বিচক্ষণ কর্ণধার নিতে যাচ্ছেন উপর্যুপরী চীন বিরোধী নীতি। এমতস্থায় চীনের নেতৃত্বে এশীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে সর্ববৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে চীনকে অনেক শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে তাদেরই শক্তিশালী মিত্র দেশগুলোতে চীনের প্রভাব বিস্তার ও সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হল।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

ANALYSING THE WORLD

গতকাল ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় জুম অ্যাপের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠান যথারীতি রাত আট ঘটিকায় সঞ্চালক নেজাম উদ্দীনের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অতিথিবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীগণের প্রবেশের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

সাইফুল ইসলামে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর সভাপতি আরমান শেখ নবীন তরুণ লেখকদের সংগঠনের শপথ বাক্য পাঠ করান। অতঃপর বক্তব্য প্রদান করেন বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহানুর ইসলাম।

বিশেষ অতিথির মূল্যবান বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তরের কলামিস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড• মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তাঁর বক্তব্য শুরুর পরে তরুণ লেখকগণ মোহিত হয়ে শুনতে থাকেন দীর্ঘ লেখালেখির জগতের বিবিধ অভিজ্ঞতা।
আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

ANALYSING THE WORLD
মধ্যপ্রাচ্যের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ককেশাস অঞ্চলে তেলসমৃদ্ধ আজারবাইজানের সাথে আর্মেনিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেড় মাস গড়িয়ে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে স্থির হল গত ১০ নভেম্বর। পুতিনের বৈরি আচরণ এবং মার্কিনিদের তুখোড় রাজনৈতিক চালে রাশিয়ার প্রতিবেশি বন্ধুরাষ্ট্রের সংখ্যা এখন খুবই কম, এর মাঝেই যদি পার্শবর্তী বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের যুদ্ধের মাধ্যমে বহিঃশক্তিগুলোকে ককেশাস অঞ্চলে দাওয়াত দেয়া হয়, ওবে রাশিয়ার ঘুম হারাম হবারই কথা।

 আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে কে লাভবান?

দেড় মাসের যুদ্ধে তিন তিন বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মত ঘটনার জন্ম দিয়ে যেখানে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছিল, সেখানে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রবেশের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবেই, বিশেষ করে যখন এর মধ্যকার একটি দেশ তেলসমৃদ্ধ হয়। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন মুল্লুকে এসেছে নতুন বিচক্ষণ রুশবিরোধী কর্ণধার, তাই পুতিন অনন্য নজির স্থাপন করে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিশ্চিত করলেন চমৎকার একটি শান্তিচুক্তি। এবং ঐ চুক্তিকে টেকসই করতে তিনি উক্ত অঞ্চলে রাশিয়ান সেনা মোতায়েনও আবশ্যক করে দিয়েছেন। এতে শুধু চুক্তিই টেকসই হবেনা, বরং দুই দেশের উপর রাশিয়ান প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং মাঠ পর্যায়ে রাশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হবে।



এখন আসি দশ নভেম্বর স্বাক্ষরিত আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তিতে। উল্লেখ্য যে, এই চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও এর সময়সীমা শেষের ছয় মাস আগে কোন পক্ষ আপত্তি না তুললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি আরো পাঁচ বছরের জন্য বর্ধিত হওয়ার বিধান এতে উল্লেখ রয়েছে। নয় দফার এই চুক্তির মূলভাব হলো আজারবাইজান তার নতুন অধিকৃত ৫ টি সিটি, ৪ টি শহর এবং ২৪০ টি গ্রামের পাশাপাশি আরো নতুন কিছু অঞ্চলের দখল পাবে যেগুলো তারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেনি। তবে এই চুক্তির অন্যতম একটি বিষয় হলো, আজারবাইজান থেকে সম্পূর্ণ পৃথক আর্মেনিয়ার আরেকপাশে অবস্থিত আজারবাইজানের ছিটমহল নকশিভানের সাথে আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে স্থল যোগাযোগ তৈরি। আর্মিনিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া এই আজারি স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা করে দিতে হবে আর্মেনিয়াকেই এবং এর তদারকিতে থাকবে রাশিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং এফএসবি। ফলে আজারবাইজানের জন্য নকশিভানের যোগাযোগ ব্যায় এবং পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ অনেকটা কমে আসবে। এছাড়াও আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে যাতায়াতের সুযোগে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনারও একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে আজারিদের জন্য।
বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?

বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন প্রার্থীর বিজয় বিশ্বনেতৃত্বে সৃষ্টি করেছে একাধারে আশার আলো, অস্বস্তি এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। মার্কিন মুল্লুকের নতুন কর্ণধারের আচরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বিশ্ব মিডিয়াগুলো এখন সরগরম। এর অন্যতম কারণ হল বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সংকট এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে?


বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাঠ তথা মধ্যপ্রাচ্যের উদিয়মান শক্তি ইরান এবং তুরষ্কের প্রতি বাইডেন কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন তা এখন অনেকেরই চিন্তার বিষয়। এতদিনের সকল জল্পনা-কল্পনার পর সম্প্রতি সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন দূত জেমস জেফরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে-কে সিরিয়া থেকে সরিয়ে নেবে তুরষ্কের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে। সন্ত্রাসিদের সাথে সম্পৃক্ততার অজুহাত দেখিয়ে গেরিলা গোষ্ঠীটির সমর্থন বন্ধ করার কারণ স্বরূপ তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার করণে তুরষ্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যা পুনরোদ্ধার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।


বাইডেনের ক্ষমতায় আসার পরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত মার্কিনিদের নতুন তুরষ্কনীতির ইঙ্গিতই বটে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা যায় সিরিয়ায় তুরষ্কের সহায়তা নিয়ে মার্কিনিদের নতুনভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি এবং রাশিয়াকে চাপে ফেলা। আর এই উদ্দেশ্য পাকাপোক্ত করতে মধ্যপ্রাচ্যের অপর শক্তি ইরানকেও শান্ত রাখতে পরমাণু চুক্তি নবায়নের চিন্তা করছেন বাইডেন।


ইতোমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি বিষয়ক বিশ্লষক ড্যানিয়েল প্লেটকাসহ অনেকেই বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি ইরানঘেঁষা এবং সৌদি বিমুখ হতে পারে বলে মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি দেখা গেছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র হলেও প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পর বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। [রয়টার্স]


তবে ইরানঘেঁষানীতি গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতে ইজরায়েলের অভিবাসন মন্ত্রী হানেগোভি তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, বাইডেনের ইরানঘেঁষানীতি ইরান-ইজরায়েলকে সহিংতার দিকে ঠেলে দেবে।
কিন্তু ইজরায়েলি ফরেন এফেয়ার্স এন্ড ডিফেন্স কমিটির চেয়ারম্যান জোভেভি বলেন, "ওবামার সময় বাইডেনকে দেখেছি, তিনি ইজরায়েলের একজন পরীক্ষিত বন্ধু। যদি পরমাণু চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হয় তাহলে তা আগের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী হবে।"
উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বে দিন দিন যেভাবে কট্টরপন্থা, উগ্রবাদ বা মৌলবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বিশ্ব থেকে শান্তির নিশানা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক দেশেই কট্টরপন্থা জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং এর সমর্থনে সরকারও নির্বাচিত হচ্ছে, যা খুবই আশ্চর্যজনক এবং নির্মম সত্য। এবং দুঃখজনকভাবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে, যা বিশ্বকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে দিন দিন।

উগ্রবাদের পথে হাঁটছে বিশ্ব

বিশ্বে দিন দিন যেভাবে কট্টরপন্থা, উগ্রবাদ বা মৌলবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বিশ্ব থেকে শান্তির নিশানা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক দেশেই কট্টরপন্থা জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং এর সমর্থনে সরকারও নির্বাচিত হচ্ছে, যা খুবই আশ্চর্যজনক এবং নির্মম সত্য। এবং দুঃখজনকভাবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে, যা বিশ্বকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে দিন দিন।


বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে আমরা এখন দেখি কট্টরপন্থার সমর্থন করছে রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের সমর্থন দিচ্ছে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই "উগ্র জাতীয়তাবাদ"-এ বিশ্বাসি। এই তত্ত্বটি প্রথম দিকে অধিক সমালোচিত হলেও বর্তমানে মানুষের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
যুদ্ধের বাইবেল "দ্য আর্ট অব ওয়ার" 🔥🔥

যুদ্ধের বাইবেল "দ্য আর্ট অব ওয়ার" 🔥🔥

ANALYSING THE WORLD

যুদ্ধ মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে। শুধু যে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করলেই যুদ্ধ, তা নয়। পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, সংগ্রাম করে বেঁচে আছে।

যুদ্ধের বাইবেল "দ্য আর্ট অব ওয়ার"


আলোচ্য বইটিও আপনাকে শুধু সামরিক জ্ঞানই দিবেনা, বরং জীবনের প্রতিটি ধাপে আপনাকে পারদর্শী করে তুলবে। পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত বইসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম।

আশ্চর্যের বিষয় হলো বইটি ২,৫০০ বছর আগে লিখা হলেও আজ অবধি এটি যুদ্ধের জন্য এক জ্ঞান ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়। বিখ্যাত সমর নায়ক মাও সেতুং, জেনারেল জিয়াপ, জেনারেল ম্যাক আর্থারের মতো বীরেরা এই বই অধ্যয়ন করতেন বলে জানা যায়। কথিত আছে, মহাবীর আলেকজান্ডারও এই বই মান্য করে চলতেন। এছাড়া আপনি যখন বইটি পড়বেন, তখন বুঝতে পারবেন কেন আড়াই হাজার বছরেও এই বইয়ের নিবেদন শেষ হচ্ছে না।
ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

ANALYSING THE WORLD
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সম্প্রতি যেসকল পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সম্পর্ক মজবুত করণে কতটুকু ভূমিকা রাখবে সে বিষয়ে বিশ্লেষক মহলে সৃষ্টি হয়েছে যথেষ্ট সংশয়।

ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ

সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার এসে পৌঁছানোর পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কী ধরনের গতি আসতে যাচ্ছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এর আগে বিভা গাঙ্গুলীকে ভারত সরকার সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোন উন্নতি করতে না পারার ব্যর্থতার দায়ে। বিভিন্ন মিডিয়ায় যখন বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে খবর প্রকাশ হয়, এরপর থেকে ভারত বাংলাদেশের সাথে নতুন উদ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে।


দেখা যায়, হঠাৎ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা কোন ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহলে কিছু বৈঠক করেন। এরপর সম্প্রতি ভারত তিস্তার মেগা প্রকল্প থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখতে তিস্তা চুক্তিসহ আরো ছয়টি নদীর পানিবন্টন চুক্তি শীঘ্রই করবে বলে ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক মহলসহ বাংলাদেশের মিডিয়ায় যখন সীমান্ত হত্যাকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বাঁধা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের বৈঠকে ঢাকায় সীমান্ত হত্যাকে শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে বলে ঘোষণা দেন বিএসএফ প্রধান। তবে এই আশ্বাস ভারত দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে দিয়ে আসছে, যা কখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।


সর্বশেষ বাংলাদেশ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলার নিকট রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পাশে দাড়ানোর আহবান জানায়। উল্লেখ্য যে, গত এক মাস আগেই ভারত-চীন উত্তেজনাকালীন সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর নিজ থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে তখন থেকে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে। তবে সর্বদা ভারতের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভাসমান অবস্থান বাংলাদেশের জন্য কখনো ভাল কিছু বয়ে আনেনি।
আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

ANALYSING THE WORLD
মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে, যেখানে দ্রুত বড় শক্তিগুলোর প্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই রাশিয়া, ইরান, তুরষ্ক এবং ইজরায়েল নিজেদের সমর্থন স্পষ্ট করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। তবে যার দলই ভারী হোক, কেউ সত্যিকার অর্থে এখানে বিজয়ী হতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধের সমীকরণ

সাধারণত যুদ্ধে সৈন্যরা জীবন বাজি রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাতে লড়ে যায়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ বা সেনা নায়ক একটি ইস্যু তৈরি করেন। আর এই ইস্যু সৈন্যদের কাছে যুদ্ধের নৈতিকতা স্পষ্ট করে বলেই সেনারা সর্বাত্মক যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। যেমনটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে হয়েছিল•••


প্রথমে পাক আর্মিদের বাঙালিরা হিন্দুদের মদদপুষ্ট পাকিস্তানের শত্রু বলে গণহত্যা চালাতে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছিল পাক সরকার। পরবর্তীতে কয়েক মাস পর থেকে সেনা সদস্যরা বুঝতে পারে তারা নিরস্ত্র একটি নির্দোষ জাতির উপরে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, ফলে নৈতিকভাবে নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। অপরদিকে দেশের জন্যে মুক্তিবাহিনী প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শুরু করে।


ঠিক একইভাবে আজারবাইজান গতকাল প্রথমে হামলা চালালেও তারা প্রচার করে আর্মেনিয়াই প্রথম হামলা চালিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে। তবে এই যুদ্ধে আজারবাইজান আগে থেকেই নৈতিক অবস্থানে আছে আর্মেনিয়ার বিভিন্ন উস্কানিমূলক হামলার কারণে। আর এর প্রমাণ হলো আজারবাইজানের নাগরিকদের যুদ্ধের দাবিতে কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও, এমনকি সরকারকে ভীতু বলে তাদের পদত্যাগের আহবান। এর থেকে বোঝা যায় দেশটির অভ্যন্তরেই যুদ্ধের যথেষ্ট যৌক্তিক ভিত্তি সৃষ্টি হয়েছে।
আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?

আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?

ANALYSING THE WORLD

সম্প্রতি ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া আফগান-তালেবান সংঘর্ষ এবং মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম  যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতারের রাজধানী দোহায় ঐতিহাসিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনাকে ঘিরে যেমন তৈরি হয়েছে শান্তির আকাঙ্ক্ষা, তেমনি তৈরি হয়েছে ভীতিও।

আফগান-তালেবান শান্তিচুক্তি কি আদৌ শান্তি বয়ে আনবে?  

আফগান সরকার ও তালেবান, উভয় পক্ষের রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রা যা আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে দুই পক্ষই সচেষ্ট। তালেবানের অন্যতম দাবি বিদেশি হস্তক্ষেপ বিহীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ও ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা। অপরদিকে আফগান সরকারের দাবি নিরাপদ দেশ গঠন এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাসহ সকলের অধিকার অক্ষুন্য রেখে পারস্পরিক অংশিদারীত্ব নিশ্চিতকরণ। ইতোমধ্যেই আল-জাজিরার সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তালেবান-আফগান আলোচনায় আফগান নারীরা নিজেদের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিসর্জন দেয়ার আশঙ্কা করছেন।


উল্লেখ্য যে, এই চুক্তির প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হয়েছিল এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনার মাধ্যমে। এতে তালেবানের প্রধান শর্ত ছিল আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এই শর্তে রাজি হয়ে ধাপে ধাপে কয়েক বছরের মধ্যে সব সেনা সরিয়ে নেয়ার শর্তেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে বর্তমানে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে ৫,০০০ বন্দির মুক্তি দাবি করে সংগঠনটি। দীর্ঘদিনের দর কষাকষির পর, সর্বশেষ গত মাসে কিছু ভয়ানক হামলার আসামিকেও মুক্তি দিয়ে যাবতীয় শর্ত পূরণের মাধ্যমে আফগান সরকার চলমান আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে, যার ফলস্বরূপ দুই পক্ষ এখন কাতারে সামনা সামনি বসেছে। বলা বাহূল্য যে, তালেবান আগে কখনো ক্ষমতাসীন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং মার্কিন মদদপুষ্ট পুতুল সরকার বলে আখ্যা দিয়ে সরকার প্রদত্ত সব ধরনের আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ভারতের ভুল কূটনীতি

ভারতের ভুল কূটনীতি

ANALYSING THE WORLD
সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিনিয়োগ, সাফল্য, যুদ্ধ তেমন বেশি চেতনা সৃষ্টি করতে না পারলেও ভারতের পেঁয়াজ আমাদের মতো হুজুগে বাঙালিদের আড়মোড়া ভেঙ্গে বাজারে ছুটিয়েছে ঠিকই। সম্প্রতি হঠাৎ BSF এর বৈঠক বাতিল এবং পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে ভারত নিজের অসন্তুষ্টির কথাই জানান দিয়েছে নিশ্চিতভাবে। 

ভারতের ভুল কূটনীতি

তবে অসন্তুষ জানান দেয়ার বিভিন্ন মাধ্যম থাকলেও সম্প্রতি ভারত কটুক্তি, মিডিয়া সমালোচনা এবং বৈরি আচরণের মাধ্যমেই জানান দিচ্ছে। "ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বন্ধু" তত্ত্বে বিশ্বাসী দুই দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের মাঝে এমন আচরণ একটু ব্যতিক্রমি বটে, যা আগে কখনো ঘটেনি। সাধারণত অতীতে বাংলাদেশের জন্য হাঁটু নামলে বাংলাদেশ গলা পর্যন্ত নেমে নিজের সর্বোচ্চ উদারতা প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী সরকার। আর সেই সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়েই ভারতের এমন আচরণ বাংলাদেশকে সবকিছু নতুনভাবে ভাবতে তাড়া দিচ্ছে।


কাঁচা বাজারের মতো জনসাধারণের সংবেদনশীল জায়গায় অকারণে অস্থিরতা সৃষ্টি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সফলতা এবং যাবতীয় আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী মনোভাবও বৃদ্ধি করবে। তাই গত বছর থেকেই সরকার পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই গবেষকগণ উচ্চফলনশীল বীজের উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছেন। বলা বাহুল্য যে,বাংলাদেশের বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ, বাকি এক লাখ মিশর, ভারত, পাকিস্তান থেকে আনা হয়, যা নিয়ে এত তোলপাড়••• 

ভারতের ভুল কূটনীতি
ভারতের ভুল কূটনীতি


আলোচ্য বিষয় পেঁয়াজের উৎপাদন নিয়ে নয়। পেঁয়াজে আগামী কয়েক বছরেই বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হয়ে যাবে, তবে ভারত কি বাংলাদেশের সাথে যে বৈরিতা সৃষ্টি করছে তা উপশম করতে পারবে? বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত যে ডোমিনেটিং ডিপ্লোমেসি বলবৎ করছে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আগত দূরত্বকে দ্রুততর করবে বৈকি। কারণ বাংলাদেশ আগের মতো উজার করে দেয়ার মনোভাব পোষণ করছে না এখন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।


ইতোমধ্যেই তুরষ্কের সাথে বাংলাদেশের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এরদোগানের বাংলাদেশ সফরে ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও আসন্ন D-8 সম্মেলনে ঢাকায় আসতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরো কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের এমন কিছু সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের জন্য সুখকর নাও হতে পারে•••
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

ANALYSING THE WORLD
বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিকভাবে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি হলো মার্কিন মদদপুষ্ট তাদের সমর্থকগোষ্ঠী, অপরটি মার্কিন বিরোধী। এই দ্বন্দ্বের অন্যতম আরেকটি শাখা হলো চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ, যা এখন সামরিক পর্যায়ে গড়াতে যাচ্ছে দক্ষীণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে। আর এই দক্ষিণ চীন সাগরের আধিপত্যের সাথে জড়িয়ে আছে ভারতসহ অনেকগুলো রাষ্ট্রের ভাগ্য।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ


চীন দক্ষীণ এশীয় অঞ্চলে প্রতিযোগী শক্তিগুলোর উপর প্রভাব বিস্তারের সূচনা করতে চায় ভারতকে দিয়ে, যার ফল হলো বিদ্যমান চীন-ভারত যুদ্ধ উত্তেজনা। কথায় আছে, "পৃথিবীর জলভাগের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, পৃথিবীর শাসনও তার হাতে থাকবে"। ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন মূলত লাদাখকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আইওয়াশের আড়ালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত স্থাপনা তৈরি করছে এবং সাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। চীনের এশীয় অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে মার্কিনিরাও তৈরি করেছে চীন বিরোধী আঞ্চলিক জোট, যেখানে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া অন্যতম।
তবে এখন সব দেশই বুঝে, যুদ্ধ করে স্থায়ী কোন স্বার্থ হাসিল করা যায়না। এখন চলছে নব্য উপনিবেশবাদের যুগ, যেখানে সেনাশক্তিছাড়াই একটি দেশকে অদৃশ্য শক্তি তথা অর্থনীতির মাধ্যমে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই চীন-ভারত উত্তেজনায় দুই দেশের যতটুকু তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তার দ্বিগুণ তৎপরতা অর্থনৈতিক খাতে অব্যাহত রেখেছে দুই দেশই। এক্ষেত্রে ভারত চীনের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে আছে।
চীন যখন আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির জন্য আট-ঘাট বেঁধে নেমেছিল, তখনই তারা ইরানের সাথে যুগান্তকারী চুক্তি, পাকিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক করিডোর ও সামরিক বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে পুরোদমে কাজ আরম্ভ এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও সামরিক সহায়তা প্রকল্প নিশ্চিত করেছিল। অথচ সেই তুলনায় দীর্ঘ কয়েক মাস পর নয়া দিল্লি ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ শুরু করেছে সম্প্রতি, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানেও কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করতে পারে তারা। এতদিন ভারত চীনের তৈরি ত্রিমুখী সীমান্ত চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিলো এবং বাংলাদেশের প্রতি অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে অতিমাত্রায় আশাবাদী ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
সাধারণতই দক্ষীণ এশিয়ার দেশ ও বিশ্বের সপ্তম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন সবার কাছেই চাষযোগ্য উর্বর ভূমির ন্যায়। তাই বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে সর্বাধিক তাড়া এখন চীন এবং ভারতের। রীতিমত প্রতিযোগীতায় থাকা দুই দেশকেই এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারসাম্য অবস্থায় রেখে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই ভরসাম্য কতদিন থাকবে? ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি কী?
পদ্মাসেতু, সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর, টেকনাফে অত্যাধুনিক সাবমেরিন টার্মিনালের পর সর্বশেষ তিস্তা অর্থনৈতিক মেগাপ্রকল্পের কাজ চীনের দিকে যাওয়ার পর অনেকটাই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। প্রথমে বিভিন্নভাবে মিডিয়ায় কটুক্তি এবং ব্যাঙ্গাত্মক খবর ছাপানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিল ভারত। খবরগুলো ভারতীয় মিডিয়া ছাপলেও তাদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের টুঁ শব্দটি দেখা যায়নি, যা সরকারী সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বৈকি। এরপর চীন-ভারত উত্তেজনাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সীমান্তে একের পর এক বিএসেফের পাখির মতো বাংলাদেশী হত্যা, করোনাকালীন সময়ে একতরফাভাবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করে দেয়া সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য নির্ভরযোগ্য কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি।
এছাড়াও চীন-ভারত উত্তেজনা পূর্ববর্তী সময়ে এনারসির মাধ্যমে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় বিশ লক্ষ ভারতীয়কে বাংলাদেশী পরিচয় দেয়া, উক্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎ বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে নিরব ছিল। এরপর হঠাৎ শুরু হয় বিএসেএফ কর্তৃক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাগল পুশ করা। ব্যাপারটি সর্বপ্রথম গ্রামবাসী কর্তৃক ফেইসবুকে আসার পর টিভি মিডিয়া এবং প্রেস মিডিয়া তদন্ত করে এটির সত্যতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে, পরবর্তীতে বিজিবি বিসেএফের সাথে এ নিয়ে পতাকা বৈঠক করে।
তাছাড়া চীন-ভারত পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পর এনারসি এবং সিএএ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে, শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো দক্ষীণ এশীয় অঞ্চলে যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি গবেষকগণ যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত ছিলো।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বরাজনীতির অনেকটাই পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো সর্বদা সচেষ্ট ছিল এবং থাকবে। তবে দিন দিন আমরা দেখতে পাচ্ছি এখানকার স্থানীয় দেশগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠায় পশ্চিমা পরোক্ষ কর্তৃত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর শক্তিশালী হওয়ার দৌড়ে যে কয়েকটি দেশ আছে তন্মধ্যে ইরান এবং তুরষ্ক প্রধান।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে আসছে?

সুতরাং প্রশ্ন এসেই যায়, ভবিষ্যৎ নেতা কে হবে? কারণ কথায় আছে, "এক বনে দুই রাজা থাকতে পারে না"। তাই আসুন দেখে নিই কার সম্ভাবনা কতটুকু••• ইরান এমন একটি দেশ, যার অতীতে রয়েছে মাটি কামড়ে বারংবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরমাণু শক্তি অর্জনে কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস। আমরা সম্প্রতি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বে তোলপাড় দেখলেও এই কর্মসূচি ইরান শুরু করেছে ১৯৮৭ সাল থেকে!

ইরানের স্বল্প পাল্লার পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই এখন একমত। যেমন গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি এক সমরবিদ বলেছিলেন, "ইরানের পরমাণু কার্যক্রম এখন আর ধরে রাখার মতো নেই, বরং ইসরায়েলকে প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।" এছাড়াও ইরান গত মাসে মাটির নিচের অস্ত্রের শহর থেকে ভূমধ্যসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, তা তাদের অনেক কিছুই প্রকাশ করে।
সৌদি আরবও পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে যাচ্ছে?

সৌদি আরবও পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে যাচ্ছে?

ANALYSING THE WORLD
গত কিছুদিন ধরে ইরানকে সৌদির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট ইরান আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে সৌদির পরমাণু কর্মসূচি সবার সামনে ফাঁস করতে আহবান জানায় এবং তাদের কার্যক্রমকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যায়িত করে।

সৌদি আরবও পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে যাচ্ছে?


আর সৌদির পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে তথ্যপ্রমাণসহ অনেক কিছুই গত বছর প্রকাশ পেয়েছিল বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবিকে কেন্দ্র করে। সৌদির পরমাণু চুল্লি বসানোর কাজ আগে থেকে শুরু হলেও গত বছর তাদের কথিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অশান্তির ইঙ্গিত পায় বিশ্ব। ২০১৯ সালের এপ্রিল বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যম CNN জানায়, "সৌদির পরমাণু কর্মসূচি অতিমাত্রার দ্রুততায় পরিচালিত হচ্ছে এবং মাত্র তিন মাসের মধ্যেই পুরো কাঠামো দৃশ্যমান হয়েগেছে, যা হতে সাধারণত নয় মাস লাগে।"


তখন মার্কিন কংগ্রেসে হইচই পড়ে যায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন এতে মৌন সম্মতি দেখায় এবং এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, "সৌদির কর্মসূচি ইরানকে রুখতে সহায়তা করবে।" এর কয়েকমাস পর ট্রাম্প প্রশাসনের একজন সিনেটর বলেন, "সৌদির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু যন্ত্রাদি লেনাদেনা না করার চুক্তিটি তুলে নেয়া দরকার, যদি তুলে নেয়া হত তবে বর্তমানে সৌদির পরমাণু কর্মসূচির কাজ চীনের স্থলে এখন যুক্তরাষ্ট্র পেত।"


বলাবাহুল্য যে, সৌদির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিন সালমান কয়েকবার বোমা তৈরির হুমকি দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখনো নিশ্চুপ। ট্রাম্পের এই সম্মতির বিরুদ্ধে মার্কিন সিনেটে অনেকবার হইচই হলেও ট্রাম্প সৌদিকে পরমাণু শক্তির অধিকারী করে ইরানকে রুখতে সচেষ্ট রয়েছে। ট্রাম্প ভাবছে, সৌদি যদি পরমাণু শক্তিধর হয় তাহলে ইরান-সৌদি লাগিয়ে দেয়া যাবে সময়মতো এবং এর ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছবে না, বরং এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে। তবে এটি একটি অনিশ্চিত খেলা, যেখানে একপক্ষ পরিবর্তীত হলেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।


তৈরি পোশাক (RMG) রফতানিতে বাংলাদেশ পুনরায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তৈরি পোশাক (RMG) রফতানিতে বাংলাদেশ পুনরায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

ANALYSING THE WORLD

তৈরি পোশাক (RMG) রফতানিতে বাংলাদেশ পুনরায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।


ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (WTO) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী পোশাক রফতানি বাজারের শেয়ারের পরিমাণ বেড়েছে ৬.৮০ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে ৬.৪০ শতাংশ ছিল। একই সময়ে, ভিয়েতনামের পোশাক রফতানি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে ৬.২০ শতাংশে।



গত সপ্তাহে WTO জেনেভাতে বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে ২০২০ সালের পরিসংখ্যান উন্মোচন করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছিল গত বছর প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

লেবাননে হামলার ফলাফল কী হতে পারে? | হিজবুল্লাহ বনাম ইজরায়েল

লেবাননে হামলার ফলাফল কী হতে পারে? | হিজবুল্লাহ বনাম ইজরায়েল

ANALYSING THE WORLD
বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ এবং বিশ্লেষণ লেবাননের বিস্ফোরণকে ইজরায়েলি হামলা বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। হামলার আগে নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, হামলার পর ট্রাম্পের বক্তব্য, সবকিছুই স্পষ্ট। এছাড়াও যে স্থাপনায় মূল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা স্থানীয়দের কাছে আতশবাজির কারখানা বলে পরিচিত হলেও ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক ইজরায়েলি প্রতিবিদনে এটিকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র কারখানা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

হিজবুল্লাহ বনাম ইজরায়েল

তাছাড়া কিছুদিন আগেই হিজবুল্লাহ তাদের একজন নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ট্যাংক নিয়ে ইজরায়েল সীমান্তে ঢুকে হামলা করেছে, যার ইজরায়েলি প্রতিক্রিয়া হল বৈরুতের বিস্ফোরণ। যদি উপর্যুক্ত সব আশঙ্কাই সত্যি হয়, তাহলে বলা যায় এটি ইজরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর প্রতি যুদ্ধ আহবান। তাহলে দেখি যুদ্ধটা কেমন হতে পারে, ভারসাম্যপূর্ণ কিনা•••

হিজবুল্লাহকে বিশ্ব রাষ্ট্রবিহীন সর্বাধিক শক্তিধর সামরিক বাহিনী হিসেবে জানলেও ইজরায়েল জানে নিজেদের লজ্জার কারণ হিসেবে। কারণ ২০০০ এবং ২০০৬ সালে ইজরায়েলের মতো একটি দেশ ছোট একটি সামরিক গোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়, এবং আশ্চর্যজনকভাবে দুইবারই নাকানি চুবানি খেয়ে ইজরায়েল পরাজিত হয়। ২০০৬ সালের ৩৩ দিনব্যাপী যুদ্ধে ইজরায়েলের অহংকার বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ২০০টি মার্কাবা ট্যাংক ধ্বংস করে হিজবুল্লাহ বিশ্বে সাড়া ফেলে দেয়। এর আগে ইজরায়েল বলতো, মার্কাবার মত দানবীয় ট্যাংক কখনো ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এই যুদ্ধে ইজারায়েল এত বেশি মার্কাবা হারায় যা তাদের হাতে থাকা ট্যাংকের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিল।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, এই যুদ্ধে হিজবুল্লাহর সদস্য ছিল মাত্র আট হাজার, বিপরীতে ইজরায়েল ৫০ হাজার সেনা নিয়োগ করেছিল। হিজবুল্লাহ এমন একটি সামরিক সংগঠন, বিশ্বের ৫৪ টি মুসলিম দেশকে ভয় না পেলেও এই সংগঠনকে ভয় পায় ইজরায়েল।
বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বের সপ্তম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে ইতোমধ্যেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে দুই পরাশক্তি চীন এবং ভারত। বাংলাদেশকে নিয়ে এই কাছে টানার খেলায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করে কী ধরনের অবস্থান বাংলাদেশ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষকরা আলোচনা শুরু করছেন ইতোমধ্যেই।

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা

প্রভাব বিস্তার মূল উদ্দেশ্য হলেও তা বাস্তবায়েনের পথে চীন এবং ভারতের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ভারত চায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে, কিন্তু চীন অর্থনৈতিক এবং সামরিক, উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় এবং তা নিজ স্বার্থেই। অপরদিকে বাংলাদেশও বর্তমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে সামরিক শক্তিবৃদ্ধির জোর তাগিদ অনুভব করে এক্ষেত্রে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে।
সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন সমরাস্ত্র প্রদানের প্রস্তাব, বিশেষ করে নৌবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সচেষ্ট হয়েছে চীন। লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা এশিয়ান লাইভে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত পেশাদার চীনা কূটনীতিক লি জি মিং এর কাজ শুধু নতুন নতুন চীনা কোম্পানিকে নিয়ে আসাই নয়, বরং বাংলাদেশের কক্সবাজারের পেকুয়ায় নির্মিতব্য অত্যাধুনিক সাবমেরিন টার্মিনাল "বিএনএস শেখ হাসিনা" এর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য মাধ্যমগুলো বার্তাসংস্থা আইএনএস-কে জানিয়েছে, পেকুয়ায় নির্মিতব্য টার্মিনালটির কাজ করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পিটিআই। এই প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় দশ হাজার তিন'শ কোটি ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশকে টাইপ-22 মিসাইল বোট দেয়ার ইচ্ছাও জানিয়েছে চীন। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে চীন বাংলাদেশকে অত্যাধুনিক দুটি সাবমেরিন দিয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১ তম দেশ হিসেবে সাবমেরিনের যুগে প্রবেশ করে।
বলাবাহুল্য যে, বাংলাদেশের সাবমেরিনের যুগে প্রবেশ ভারত বেশ কড়া চোখেই দেখেছিল এবং এটিকে তাদের হুমকি স্বরূপ মনে করেছিল, যা তৎকালীন ভারতীয় মিডিয়ার খবরে ফুটে উঠেছিল।

বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব ব্যাপক হলেও বর্তমানে বিশ্লেষকরা প্রভাব বিস্তারের খেলায় কে এগিয়ে থাকবে সেই প্রশ্নে বাণিজ্যিক শক্তিমত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।


দুই দেশেরই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। চীন বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৬ থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে মাত্র ৭৫ কোটি ডলারের পণ্য। আর সাহায্য হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতি বছর চীন দেয় একশো কোটি ডলার। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরে শি জিন পিং ২৪ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে ভারত বাংলাদেশে প্রতিবছর আট বিলিয়ন ডলারে পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে মাত্র ২৬ কোটি ডলারের পণ্য। তবে দুই দেশের মাঝে দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের অবৈধ বাণিজ্য হয়, যা থেকে ভারতই বেশি লাভবান হয়। এছাড়াও আছে বাংলাদেশে কর্মরত কর ফাঁকি দেয়া বিপুল পরিমাণ কর্মীর আয় ভারতে পাঠানো। ভারত বাংলাদেশকে বছরে পনের কোটি ডলার সাহায্য প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: ১- অস্ট্রেলিয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ইস্ট এশিয়া ফোরামে'র প্রকাশিত নিবন্ধ "চায়না এন্ড ইন্ডিয়া'স জিওপলিটিক্যাল টাগ অব ওয়ার ফর বাংলাদেশ"।
২- নিউইয়র্ক ভিত্তিক 'ওয়ার্ল্ড পলিসি রিভিউ' এরপ্রকাশিত নিবন্ধ "হোয়াই ইন্ডিয়া এন্ড চায়না আর কম্পিটিং ফর বেটার টাইস উইথ বাংলাদেশ।"