-->

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা

মানুষের বর্তমান পদক্ষেপ দিয়ে জানা যায় তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে।আর সেটা বৃহত্তর পরিসরে তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আরো সত্য।বলছি চলমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকারের কৌশুলী মনোভাবের কথা।

মানুষের বর্তমান পদক্ষেপ দিয়ে জানা যায় তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে।আর সেটা বৃহত্তর পরিসরে তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আরো সত্য।বলছি চলমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকারের কৌশুলী মনোভাবের কথা।

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা


শুনতে একটু খারাপ লাগলেও সত্য যে,আগে বাংলাদেশে নেতা হতো যারা কয়েকটা মার্ডার করেছে কিংবা এলাকার অসামাজিক কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত,সেটা যে সরকারের আমলই হোক•••

কিন্তু এই নীতিতে বর্তমানে ফাটল ধরিয়েছেন বিচক্ষণ নেত্রী,এই সরকারের নতুন মেয়াদের 35 জনের মন্ত্রী পরিষদের মাধ্যমেই প্রথম চমক দেখিয়েছেন তিনি।যেখানে রাখেননি নিজ পরিবারের একজনও,এবং স্বল্পবয়সী উদ্যোগী কয়েকজনকে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।


যেমন চট্টলার মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে নৌফেল।তিনি প্রকাশ্য রাজনীতিতে পিতার মৃত্যুর পরেই আসেন,আর এটা অনেকের কাছে আশ্চর্যের বিষয় ছিলো।কারণ নৌফেলের বেগ্রাউন্ড ছিলো যুক্তরাজ্যের লন্ডনের স্কুল অব ল থেকে ব্যারিস্টারী পাশ,এবং বিয়ে করেছে সেই দেশেরই একজন সাদা চামড়ার রমণীকে,তাদের সন্তান সন্তদীও দেখতে এই দেশের মতো না,সাদা চামড়া,চলাফেরায় বিদেশী ধাঁচ।এমন একজন মানুষ এসে এই উত্তাল শহরের প্রতিযোগীতাময় রাজনীতিতে বিশাল একটি গ্রুপের সামাল দেবেন এটা খুব কম মানুষই ভেবেছে।


চমক আরো দীর্ঘায়িত হলো যখন তাঁকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে দামি এবং গুরুত্বপূর্ণ 9-আসনে মনোনয়ন দেয়া হলো,এটা নিয়ে সিনিয়র বর্ষীয়ান নেতাদের মাঝে প্রচুর কানাঘুষা হলো,শেষ চমক দেয়া হলো তাকে মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়ে।


কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখুন,দিপু মনী(হার্ভার্ডের ডিগ্রীধারী) আর নৌফেল মিলে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কত দ্রুত আধুনিকায়ন করছে, ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়া,ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুলেই দুপুরের খাবার দেয়ার ব্যবস্থা,আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের দীর্ঘদিনের কান্না থামাতে,ফর্ম ফিলাপের কোটি টাকার বাণিজ্য বন্ধ করতে সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভর্তি পরীক্ষা নিতে কাজ শুরু,দারুণসব কাজ!


CHAIR MAKES A MAN!
তাঁর মতো আরেকজন হলেন চট্টলার অহংকার আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ,তিনি পিতার পরিচয় এবং বংশীয় সুবাদে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পদ পেয়েছিলেন গত সরকারে,কিন্তু কাজ এমন দেখিয়েছেন যে নেত্রী এইবার তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করলেন!


আরেকজন আছেন!তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী পলক! দারুণ একখান জিনিস!সত্যিকারের সেবা কাকে বলে এবং কাজ কীভাবে করতে হয় এটা তিনি দেখাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।তার দ্রুততর প্রযুক্তি উন্নয়নে এইবার বাংলাদেশ প্রযুক্তি খাতে বিশ্ব অঙ্গনে তিনটি পুরষ্কার জিতে নিয়েছে।বাংলাদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্যে এসব এওয়ার্ড,কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি টিমের নয়।


সর্বশেষ আসি নবনির্বাচিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন যুবলীগের কর্ণধার পরশের কথায়।তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা কি?তিনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে,এটাই।কিন্তু বলতে গেলে তাঁরও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই প্রতিযোগিদের তুলনায়।কিন্তু নেত্রী এমন একটি পদে তাঁকে বসালেন কী ভেবে?কেমন মানুষকে বসালেন?ভেবে দেখেছেন?


তাঁর ব্যাগ্রান্ডলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংলিশে মাস্টার্স শেষে ইউনিভার্সিটি অব কলরাডো থেকে ডিগ্রী নিয়ে এসে দশ বছর যাবৎ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।আরো চমৎকার বিষয় হলো তিনি সংস্কৃতি প্রেমী,ছেলেদের সাথে গান বাজনা,খেলাধুলাসহ ভালো বেস গিটার বাজান।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে নিয়ে এসে যুবলীগের চেয়ারম্যান করা,চট্টিখানি কথা নয়।

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা
শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা

উপর্যুক্ত সব ঘটনাবলি আর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাছাই থেকে এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নেতৃত্বে আসার সিস্টেমটা পাল্টে যাচ্ছে আর যোগ্যতাও ভিন্নরূপ নিচ্ছে।যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও সবার মুখে এখন ক্লিন ইমেজ,সৎ নেতৃত্ব আসবে ভাবছেন,যা আগে কখনো মানুষের মুখেও আসতো না।
আর শেখ হাসিনা যেসব মানুষকে বসাচ্ছেন নেতৃত্বে এবং যে পদ্ধতি ফলো করছেন,তা একটাই সুর তুলেছে•••
টার্গেট 2041,  আর তার খুঁটি শিক্ষিত কর্মবীর মানুষগুলো।
সুতরাং পড়ালেখা ছাইড়া খুন খারাবি কইরা বেশি দূর আগান যাইবো না বাছা•••

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.