-->

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি শিল্পবিপ্লব পাল্টে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ। প্রথম শিল্প বিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। তবে আগের তিনটি বিপ্লবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ডিজিটাল বিপ্লব,যাকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলা হচ্ছে।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি শিল্পবিপ্লব পাল্টে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ। প্রথম শিল্প বিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। তবে আগের তিনটি বিপ্লবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ডিজিটাল বিপ্লব,যাকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলা হচ্ছে।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লব



এই বিপ্লবের প্রভাব পৃথিবীতে নিঃসন্দেহে কয়েক গুণ বেশি এবং দ্রুততর হবে। অনেকের মতে এই বিপ্লব শুরু হয়েগেছে,আবার অনেকেই এখনো এর প্রস্তুতি নেয়ার মোক্ষম সময় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বাংলাদেশে এখনো এর হাওয়া লাগছে মাত্র যা পরিপূর্ণতা পেতে বছর পাঁচেক লাগতে পারে। পাঁচ বছর ভেবে আবার ঘুমোত যাওয়ার চিন্তা করছেন তো? না; এই বিপ্লবের প্রস্তুতির জন্য পাঁচ বছর সময় আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্বল্পই।


কারণ এর সাথে তাল মেলাতে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যথেষ্ট অত্যাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, প্রতিবছর স্নাতকোত্তর পাশ করা শিক্ষার্থীদেরকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ পরিচালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদেরকে এই সম্পর্কে জানতে হবে এবং দক্ষ হতে হবে।


ধারণা করা হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে ৬০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তখনকার চাকরীবাজার হয়ে যাবে বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং•••
সম্ভবত তখন চাকরী পেতে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে রিকয়ার্ড স্কিলগুলো সবার থাকতে হবে; চাকরীবাজার হয়ে যাবে আন্তর্জাতিক।


স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা করেছে বিশ্বে। এর প্রভাব সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত হলো এটি আন্তর্জাতিক লেনদেনে তড়িত গতি আনয়ন করবে; নেতিবাচক দিক হলো এর প্রভাবে বিশ্বে সম্পদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাট আকার ধারণ করবে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, যারা এর জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত থাকবে, তাদের জন্যে এই বিপ্লব কল্যাণ বয়ে আনবে, আর যারা পিছিয়ে পড়বে তাদের ঠাঁই হবে তলানিতে•••



চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব


বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব স্পষ্ট। চীনের অনেক রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন করে রোবট এবং হাইলি সিকিউর্ড অফিসগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে।

এখন আমাদের উচিত হিসেব মিলানো; বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠগুলো হতে বের হওয়া শিক্ষিত নাগরিকরা কতটুকু প্রস্তুত এই বিপ্লবের সাথে তাল মেলাতে, কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, প্রোগ্রামিং কয়জন পারে? এক জরিপে দেখা গেছে গ্রেজুয়েটদের প্রতি ১০০ জনের ১০ জনও কম্পিউটারের অফিস এপ্লিকেশনেই দক্ষ নয়!


                                       
সুতরাং এখন দেশ, সরকার, নীতির দোষ দেয়ার সময় নেই, হাতের মুঠোয় রয়েছে বিশ্ব, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে আমাদের। সবকিছু হাতের নাগালে থাকলেও অভাব শুধু সচেতনতার। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে ২০১৫ সাল থেকে পুরোদমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করছে, আমাদের দেশে হচ্ছে এই বছর, তাও সীমিত পরিসরে।কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেট এবং সরকারি সংস্থার উদ্যোগে INDUSTRIAL REVOLUTION 4.0  শিরোনামে একটি গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে। আমি মনেকরি স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় এমন অনুষ্ঠান করে এই বিপ্লবের প্রভাব এবং তার প্রস্তুতিতে সরকারের পদক্ষেপ সবাইকে জানিয়ে দেয়া।

আমরা চাই বা না চাই,তাল মেলাতে আমাদেরকে ডিজিটালাইজড হতেই হবে।

SURVIVAL of THE FITTEST👈

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.