-->

এনআরসি ও বাংলাদেশ

গত 11 তারিখ বুধবার ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে আইন হিসেবে।কিন্তু এই আইন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক জনরোষ ও বিতর্ক।

গত 11 তারিখ বুধবার ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে আইন হিসেবে।কিন্তু এই আইন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক জনরোষ ও বিতর্ক।

এনআরসি ও বাংলাদেশ


■ প্রথমত কিসের ভিত্তিতে এনআরসির জন্য তিন দেশ তথা বাংলাদেশ,আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে বাছাই করা হয়েছে?

■দ্বিতীয়ত এর মাধ্যমে ছয়টি ধর্মের নাগরিক যদি জাতীয়তা পায়,তাহলে হাজারো রোহিঙ্গা কেন বাদ পড়বে?

■সর্বশেষ প্রশ্ন হলো যদি জাতীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে চায়,মানুষ ছাটাই করতে চায়,তাহলে এখানে কেন ধর্মীয় বিদ্বেষকে গুরুত্ব দেয়া হল?

অবৈধ নাগরিকের তালিকায় 19 লক্ষের মধ্যে 14 লক্ষই হিন্দু,5 লক্ষ মুসলিম।এই পাঁচ লক্ষ কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে?


এই বিল পাশের পর থেকেই ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। সরকারি দলের চোখ রাঙ্গানি, কারফিউ, সেনা মোতায়েন; সবকিছুকে উপেক্ষা করে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, শিলং, গোয়াহাটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনগণের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি বাস, ট্রেনসহ দোকান-পাটে আগুন জ্বলছে ধাউ ধাউ করে। রেল, সড়ক, অফিস বন্ধ। সরকার মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে, যা গতকাল চালু করেছে। বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত 7 জন নিহত হয়েছে পুরো দেশে।


প্রশ্ন হলো পুরো দেশ এতই অসন্তুষ্ট হলে সংসদে কিভাবে 311 এবং মাত্র 80 ভোটের বিশাল ব্যবধানে এই আইন পাশ হলো??
তারমানে এই যে,সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনপ্রিয়তা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়,যার ফলাফল ভারত জুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে••• জানিনা এর শেষ কোথায়•••


গত কয়েকদিন আগে থেকে দিল্লিসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যেখানে জামেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশের পেটানো এবং দুইজন ছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ দশ জন আহত হওয়ার ঘটনাটি উপাচার্য আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছেন এবং রাষ্ট্রপতি থেকে এর কৈফিয়ত নেবেন বলেছেন।


পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশসহ ছয়টি অঙ্গরাজ্য এই আইন মানবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে সরকার যেভাবে দমন-পিড়নের চেষ্টা করছে তা দেখে বোঝাই যায়, সরকার জম্মু-কাশ্মিরের পথেই হাঁটছে।

এখন আসি কেন ভারতের ব্যাপার নিয়ে এত কথা বলছি•••
বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে,তা শুধু বাংলাদেশ নয়,পুরো উপমহাদেশের জন্যে ভয়ানক পরিণতি আনতে পারে। আমাদের মন্ত্রী এবং ভারত যতই চিৎকার করে বলুক "এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার,বাংলাদেশে কোন প্রভাব পড়বে না"। এটা হলো শিশুকে ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসির গান।


ইতোমধ্যেই গত কয়েকদিন বাংলাদেশে ভারত থেকে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। ধরা পড়েছে 50 জনের মত,আর এর তিন চারগুণ বেশি ঢুকেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। যারা ধরা পড়েছে, তারা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছে তাদেরকে পুলিশ ধরে নির্যাতন করছে,এবং বলছে তোমরা বাংলাদেশি তোমরা সেখানে চলে যাও•••(ঠিক রোহিঙ্গাদের মতো)

এনআরসি ও বাংলাদেশ
এনআরসি ও বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে ধর্মীয় বিভাজন কখনো সংঘাত ছাড়া ভাল কিছু বয়ে আনেনা,আর সংঘাত কখনো সীমাবদ্ধ থাকে না।এই এনআরসি পুরো উপমহাদেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।
ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই,সিলেটের কুশিয়ারা নদীর একপাশে বাংলাদেশের করিমগঞ্জ,অপরপাশে ভারতের জকিরগঞ্জ। ভারত বিভাগের সময় দুই ভাগে ভাগ হয়, দুই গ্রামে রয়েছে সকলের আত্মীয়। কিন্তু এনআরসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। তারা বলছে একই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের তিন জনের নাম তালিকায় আছে,দুই জনের নেই, এখন তারা কি করবে?


আর যতই আপন হোক, নতুন সদস্য পরিবারে এলে তাদের থাকার জায়গা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবকিছু মিলে একটি অস্থিরতা বয়ে আনবে। আমার প্রশ্ন হলো, এখন কি আমরা শেখ হাসিনাকে নির্দয় আখ্যা দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্যে প্রথমে যেভাবে আন্দোলন করেছিলাম, সেটা শুরু করবো? তারপর আবার কিছুদিন পর তাদের হঠানোর জন্য আন্দোলন করব?


আর যদি নতুনদের আশ্রয় দেই,মানুষের সাথে সংঘাতটাও আমরা টেনে আনব,তাহলে আমরা কী করব এখন???

বাংলাদেশ কী করবে?

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.