-->

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি

চলছে নতুন বছরের হালচাল বোঝার পর্ব;এই 2019 আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে তা নিয়ে টিভি,পত্রিকায় উষ্ণ হাওয়া দিচ্ছেন গবেষকরা।চলুন আমরা দেখি 2019 আমাদের দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে কেমন বার্তা দিচ্ছে•••

চলছে নতুন বছরের হালচাল বোঝার পর্ব;এই 2019 আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে তা নিয়ে টিভি,পত্রিকায় উষ্ণ হাওয়া দিচ্ছেন গবেষকরা।চলুন আমরা দেখি 2019 আমাদের দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে কেমন বার্তা দিচ্ছে•••


দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ এবং মতামত চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার আভাস দিলেও এর মাঝে রয়েছে অনেক কথা,অনেক শর্ত•••


গত দশ বছর ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি 6-7 এর ঘরে উঠানামা করলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী আশানুরূপ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে কর্মসংস্থানের যথাযথ ব্যবস্থা হবে না,এটাই স্বাভাবিক।
তাই নতুন বছরে আমাদের অর্থনীতিকে এমনভাবে সাজানো উচিত যার ফলে যেকোনভাবে তৃণমূলেও এর সুফল পৌঁছে যাবে।


দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দুটি হল:-পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল।বছরের শেষে প্রকল্পগুলোর যবনিকা টানার কথা রয়েছে।এই দুটি প্রকল্পের উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি পাল্টে যাওয়ার গল্প•••

পদ্মা সেতুর ফলে উত্তরাঞ্চলে শিল্পের বিপ্লব ঘটবে,যার ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুততর হবে।অপরদিকে মেট্রোরেল দেশের হৃৎপিন্ড ঢাকা শহরকে দেবে অভাবনিয় চাঞ্চল্য,যার প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক কাজে।দ্রুততর হবে মানুষের জীবনযাত্রা,যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমাজবিজ্ঞানীরা আলোচনা করছেন।


এছাড়াও 100 টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনার অংশ স্বরূপ এই বছর চট্টগ্রামে 2 টি,খুলনা ও সিলেটে 2 টিসহ মোট 4 টি অর্থনেতিক অঞ্চল তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।এর ফলাফল কর্মক্ষেত্রে কতটা প্রভাব বিস্তার করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরেকটি সুসংবাদ হল এই বছর দেশের মূল্যস্ফীতির পরিমাণ 537 এ নেমে এসেছে।


আশার বাণী তো অনেক শুনলেন,এবার আসা যাক মোদ্দ কথায়•••
অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবক ব্যাংক খাতে বেড়েছে বিশৃঙ্খলা এবং ঋণখেলাপীর পরিমাণ।খেলাপী ঋণের মাত্রা এতই বেশি যে,তা সামলাতে অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংগুলোর অবহেলা যেন অর্থনীতির প্রধান বাঁধা হয়ে না দাড়ায়,সেই ব্যাপারে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে,যদি তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়।


এই বছরের অপর চ্যালেঞ্জ হল মূসক(মূল্য সংযোজন কর),যা 2017 সালে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার দুই বছরের জন্য স্থগিত করে।চলতি বছরের জুন মাসে পুনরায় এই কর আরোপ হওয়ার কথা রয়েছে।ব্যাংকের ঋণখেলাপীর বিশৃঙ্খলার সাথে এই করারোপ ব্যবসা ক্ষেত্রকে কতটা স্থিতিশীল রাখবে তা চিন্তা করে সরকার কর্তৃক ব্যবস্থা নেয়া হলে,দেশ এই বছর প্রবৃদ্ধিতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি
দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি

ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সম্প্রতি 2019 সালে বিশ্বপ্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে,তাতে দ্বিতীয় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।তাদের মতে এই বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মাত্রা 7•9 হবে।7•4 নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকবে ভুটান ও ভারত।


গত অক্টোবরে দ্য হংকং সাংহাই কর্পোরেশন 2030 সাল পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের 75 টি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে গবেষণা করেছে;যেখানে বলা হয়েছে বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে 2030 সালে বাংলাদেশ বিশ্বে 26তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে•••!
উল্লেখ্য যে,বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান 42তম।


এসব আশার বাণী ও স্বপ্ন সত্য হবে,যদি আমরা নিষ্ঠার সাথে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসা ক্ষেত্র স্থিতিশীল রাখতে পারি।আশা করি ভাল কিছুই হবে•••
কেননা এই বছরের অর্থনৈতিক অবস্থার আয়নাতেই দেখা যাবে আগামী চার বছরের অর্থনৈতিক হালচাল।

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.