-->

যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি

আমেরিকা একটা যুদ্ধ-উন্মাদ দেশ। এটা হল দেশের ব্যাগরাউন্ড। আর ট্রাম্প একজন জাতিবিদ্বেষী ও সব সময় লেগে যাবার মত মানসিকতার লোক। এই দুটা বিষয় যখন একত্র হবে, বাস্তবতা অন্যরকম। আগে দেখে নেয়া যাক, ট্রাম্প ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা কেমন:

আমেরিকা একটা যুদ্ধ-উন্মাদ দেশ। এটা হল দেশের ব্যাগরাউন্ড। আর ট্রাম্প একজন জাতিবিদ্বেষী ও সব সময় লেগে যাবার মত মানসিকতার লোক। এই দুটা বিষয় যখন একত্র হবে, বাস্তবতা অন্যরকম।
আগে দেখে নেয়া যাক, ট্রাম্প ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা কেমন...

যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি

যুক্তরাষ্ট্র ৭০ টি দেশকে আক্রমণ করেছে, যা কল্পনা করাও অসম্ভব একটা ব্যাপার। [১]
ইদানিং তারা সহনশীল এবং সভ্য? গত বিশ বছরে তারা আক্রমণ করেছে ২২ টা দেশে। [২]
এমনকি ২০১৬ সালে, এই গত বছরেও তারা ৭ টা দেশে ২৬,১৭১ টি বোমাবর্ষণ করেছে। [৩]
হত্যা করেছে ২ কোটিরও বেশি মানুষ। [৪]
তাদের সামরিক ঘাঁটি আছে নিজ দেশের বাইরে আটশোরও বেশি অঞ্চলে। [৫]
তাদের প্রায় সকল প্রেসিডেন্টই কোন না কোন স্বাধীন সার্বভৌম দেশে হামলা করেছে। [৬]
সারা পৃথিবীজুড়ে স্বাধীন দেশে দেশে আক্রমণ করতে হলে তো বাজেট দরকার। হ্যা, ইউএসএ’র যুদ্ধ বাজেটটা এত বড় যে, পরের ১০ টা দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও তা বেশি। প্রতি বছর! [৭]
এবং তার পরও, ট্রাম্প তার দেশের যুদ্ধ বাজেটকে ২০১৮ সালে আরো ১৮ থেকে ৫৪ বিলিয়ন ডলার বাড়াতে যাচ্ছে। [৮]
এই সবকিছু করে যুক্তরাষ্ট্র কী অ্যাচিভ করছে? গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা, সাধারণ মানুষের মুক্তি? একনায়কতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র-জাতিবিদ্বেষ ও ঝুঁকিপূর্ণ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে মুক্তি? না। অন্তত ৩৫ টা দেশে আমেরিকা স্বৈরাচারী, একনায়ক, মাদক-ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অগণতান্ত্রিক শাসনকে টিকিয়ে রেখেছে বা ক্ষমতায় বসিয়েছে। [৯]
আমেরিকা কিন্তু শুধু ৭০ টা দেশে নিজে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি। পর্দার আড়ালে যত গণ-অবদমন, গণহত্যা, স্থিতিশীল সরকারের পতন, গৃহযুদ্ধ শুরু করা, জাতিগত নিপীড়ন- এসবে সরাসরি নিজেরা না থেকেও করিয়ে যাচ্ছে অহরহ। ১৯৫৩ সাল থেকে সিআইএ এ কাজ করে বেড়ায় সারা দুনিয়ায়। ৩২ টি দেশে তারা ৪০ টিরও বেশি সফল ক্যু বা সরকার পতন ঘটিয়েছে, আরো কয়েকগুণ বেশি পরিমাণে ব্যর্থ কিন্তু প্রাণঘাতী প্রচেষ্টা ছিল তাদের। [১০]
৫৭ টি দেশে তারা জনগণের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে ৭৫ বারেরও বেশি। [১১]
শুধু স্নায়ুযুদ্ধের সময়েই তাদের প্রচেষ্টা ছিল ৭২ টি। [১২]
যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি
আসল কথা, আমেরিকা শীর্ষ পর্যায়ে টিকে আছে অন্য দেশে আক্রমণ করে।

ভয়ের কথা, এই আক্রমণ, তা আকাশপথে বিমান বাহিনীর হোক, নৌ বাহিনীর বা স্থলপথে সেনাবাহিনীর হোক অথবা, সিআইএর মাধ্যমে ক্যু করিয়ে হোক বা বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে হোক- তাদের করতে থাকতে হবে।
তারা অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর কোন না কোন দেশে আগে থেকে আক্রমণ চালাতে থাকবে অথবা নতুন করে যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলতে থাকবে। এটাই সেদেশের বৈদেশিক নীতি।
আমেরিকার মূল চাহিদা, যুদ্ধ চলতে থাকতে হবে। সেটা নিজ সমর বাহিনী দিয়ে হোক বা সিআইএর মাধ্যমে কু অথবা বিদ্রোহী দিয়ে হোক।
আমেরিকা স্রেফ তার চাহিদার জন্যই যুদ্ধ এবারও করবে। করতে হয় বলে করা।
কিন্তু তারা কীভাবে নিজের দেশের মানুষকে এ বীভৎস কাজে রাজি করায়? কীভাবে জনসমর্থন বজায় রাখে একের পর এক স্বাধীন দেশ বোমায় ক্ষতবিক্ষত করার সময়? আমার আগ্রহটা এই বিষয় নিয়ে। এটাই বোঝার চেষ্টা করছি। সৌভাগ্যক্রমে এখন আমেরিকার পরবর্তী যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে। আমেরিকার বেলায় যুদ্ধ প্রস্তুতি কথাটা উল্টো।

অন্যান্য দেশের বেলায় যুদ্ধ প্রস্তুতি এমন: জনসমর্থন অর্জনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, এরপর কূটনীতিক সায়, এরপর সামরিক শক্তি।
আমেরিকার বেলায় উল্টো; তারা আগেই সামরিক প্রস্তুতি ও বাজেট (অর্থনীতি) তৈরি রাখে।
এরপর কূটনীতির ক্ষেত্র গরম করে তোলে (নাটক)। এরপর নিজ দেশের মানুষের সমর্থন আদায় করে সোজা যুদ্ধে ঝাঁপায়।
আমেরিকা উত্তর কোরিয়াকে পিষে ফেলতে যাচ্ছে। তাদের সব প্রস্তুতি শেষ, এখন মানুষের চোখে ধূলি ঘষার কাজ চলছে। এই চোখে ধূলি ঘষে সমর্থন আদায় নিয়েই আমাদের আগ্রহ।
রেফারেন্স:
https://williamblum.org/essays/read/
overthrowing-other-peoples-governments-the-master-list
nationalinterest.org

ANALYSING THE WORLD

Author & Editor

International Political Analyst and Content Writer.

0 comments:

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.