-->
এশীয় অঞ্চলে শীর্ষে বাংলাদেশ!

এশীয় অঞ্চলে শীর্ষে বাংলাদেশ!

ANALYSING THE WORLD
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি) বলেছে,প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের 45টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

এশীয় অঞ্চলে শীর্ষে বাংলাদেশ!

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখাসিনার হাতে এডিবির "এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক 2019" শীর্ষক প্রতিবিদন হস্তান্তর করেন সংস্থাটির প্রতিনিধি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,1974 সালের পর বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুততম প্রবৃদ্ধি হয়েছে 2018 সালে;যা 7 দশমিক 90 শতাংশ।


আউটলুকে পূর্বাভাস দেয়া হয়,2019-20 অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে আট শতাংশ।আরও বলা হয়েছে,এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং 45 টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ আট শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছে গেলেও দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চল বাংলাদেশের পেছনে পড়ে যাচ্ছে।এই শ্লথ গতির কারণে 2019 সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে 6 দশমিক 80 শতাংশ।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বনাম মাদক

উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বনাম মাদক

ANALYSING THE WORLD
মাদকের ভয়াবহতা ব্যাবহারিকভাবে দেখলেও এর নিয়ন্ত্রণে সরকারের ফলপ্রসু ব্যাবস্থাগ্রহণ চোখে পড়েনি।কারাদন্ড থেকে শুরু করে ক্রসফায়ার,কী বাকি রেখেছে সরকার?কিন্তু ফলপ্রসু হয়নি তেমন বেশি,কিংবা ফল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।বরঞ্চ দিন দিন মাদকের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে•••

উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বনাম মাদক


আজকের পত্রিকায়ও দেখলাম সন্তান নেশা করে এসে ভাই এবং মা কে কুপিয়ে হত্যা করল!
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ,মূর্খ,নিরক্ষর,আবাল-বৃদ্ধ নেশাগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষিত সমাজও যেন জাগরণ সৃষ্টি করছে মাদক জগতে!
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দেশের মেরুদন্ডগুলো যখন নেশায় বুঁদ হওয়া শুরু করেছে,তখন সরকার এবং তার দপ্তরগুলো নড়েচড়ে বসেছে•••


মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর এখন দেশের মাদক ব্যবসার কুখ্যাত জায়গাগুলো বাদ দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাদ্যাপীঠগুলোতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছে,যদিও এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট লজ্জাজনক বিষয়,কিন্তু কোন উপায় নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য মাদকদ্যব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মাননীয় উপাচার্যের নিকট,কিন্তু তিনি ছাত্রদেরকে মামলা-জেল থেকে বাঁচাতে, সচেতন করতে কিছু সময় নিয়েছেন,অভিযান স্থগিত রেখেছেন এবং প্রক্টরয়াল বডির মাধ্যমে দমন করতে চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু কর্মসূচি

মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু কর্মসূচি

ANALYSING THE WORLD
রিয়াদের উপকন্ঠে একটি ভবন খুব দ্রুত সৌদি আরবের পারমাণবিক শক্তির জন্মস্থানে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা মার্কিন কংগ্রেসের উদ্বেগের ও ইরানের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে! আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহিত ছবির বর্ণনায় বলছে, মাত্র তিন মাস আগে ঘোষণা দেয়া সৌদি আরবের পরমাণু চুল্লির পরীক্ষামূলক কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলছে। এবং বর্তমান গতিতে এগিয়ে চললে আগামী নয় মাসে চুল্লি তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু কর্মসূচি


সৌদি আরব যদিও বারবার বলছে,তাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ;কিন্তু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কথায় তা মনে হচ্ছে না।তিনি গত বছর বলেছিলেন,"কোন সন্দেহ নেই,ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে থাকে তাহলে আমরাও তাদের অনুসরণ করব।"


এছাড়াও কঠিন শর্তের অধীনে অন্য দেশ থেকে আমদানি করার পরিবর্তে তাদের নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি নিজেদের মতো করে উৎপাদন করতে দেয়া উচিত--সৌদির এমন বক্তব্যের পর মার্কিন কংগ্রেস অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে।


সৌদি আরব নয় বছর আগে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করলেও বর্তমানে এটি যুবরাজের ভিশন 2030 এর একটি অংশ। তিনি শুধু তেলের উপর সৌদির নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতেই এমন অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছেন হয়ত।কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টেলিভিশনে,সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আবর্ভূত হবে,এটি গ্রহণযোগ্য কিনা;এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন,"আমরা তা হতে দিতে পারি না।আমরা কখনো 150 মিলিয়ন ডলারের চেক লিখব না এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুমকি দেয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে দেব না।"


মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু কর্মসূচি
মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু কর্মসূচি

তবে, মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী কিছুটা ভয়ার্ত সুরে বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্র যদি সহায়তা না করে তাহলে পারমাণবিক শিল্প গড়ে তোলার জন্যে সৌদি আরব চীন ও রাশিয়ার দিকে নজর দিবে এবং এই দুটি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের বিষয়টি বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না।

আবার এক্ষেত্রে ইরানের অভিযোগ হল,পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক প্রযুক্তি বিক্রির পরিকল্পনা করেছে।ইরানের ন্যাশনাল সুপ্রিম সিকিউরিটি জানিয়েছে,সৌদি আরব যদি তার পারমাণধিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যায়,তাহলে তা তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে পূনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে!
সৌদি আরবের জ্বালানি কৌশল যাই হোক না কেন,পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা নেই বলে দেশটি যতই চেঁচাক না কেন,সেখানকার পারমাণবিক কর্মসূচির অস্তিত্ব উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে বাধ্য এবং তাই হচ্ছে•••
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নতি

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নতি

ANALYSING THE WORLD
কোন অঞ্চল বা দেশের জন্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা হল অন্যতম মৌলিক উপাদান।যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে উক্ত অঞ্চলের জমির মূল্য থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার মান উর্ধ্বমূখি হয়,যা আমরা প্রাত্যহিক জীবনে দেখতে পাই।দেখা যায়,কোন অঞ্চলে সরকারের বড় কোন প্রকল্প বরাদ্দ হলে,রাস্তা সংস্কার কিংবা সেতু নির্মাণ হলে হঠাৎ জমির দাম তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পায়,এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, একটি অঞ্চল এবং সেখানকার মানুষের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।


যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নতি


যোগাযোগ খাতে বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ দুটি প্রকল্প হলো পদ্মাসেতু ও ঢাকার মেট্রোরেল।সুতরাং দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আমাদেরকে অনুসরণ করতে হবে উপর্যুক্ত দুটি প্রকল্পকে।কেননা ভবিষ্যৎ অর্থনীতি এবং তাতে আমাদের ভূমিকা ব্যক্ত করতে গেলে,রাজধানীর মেট্রোরেল এবং পদ্মাসেতুকে বাদ দিয়ে কিছু বলতে পারবেন না;আপনাকে এগুলো সম্পর্কে জানতেই হবে•••


আমি মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে ভালবাসি বিধায় তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে জানা আমার একটা শখ•••
আর জীবনযাত্রা এমন কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় যার প্রভাবে প্রভাবিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র।
এক পোস্টে দুটি বিষয়ে লেখা সম্ভব নয় বিধায় আমি মেট্রোরেল ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব আজ।
আমরা হয়ত চিন্তা করতে পারি যে,যাতায়াতের সুবিধা তথা পদ্মাসেতুর কারণে দেশের উত্তারঞ্চলে শিল্পায়ন হবে,বড় বড় কারখানা হবে যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে দ্রততর করবে।কিন্তু মেট্রোরেলও সমান ভূমিকা রাখবে,যা আমরা সরল দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি না•••


2016 সালের জুনে শুরু হওয়া 20,10 কি.মি. ব্যাপী মেট্রোরেল প্রকল্পটি এই বছরের শেষের দিকে চালু হতে যাচ্ছে।অর্থনীতিতে এই প্রকল্পের ভূমিকা জানতে হলে আমাদের যে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া দরকার তা তুলে ধরছি•••
ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট(MRT) নামক এই প্রকল্পটি 2012 থেকে 2024 সাল পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি 2016 সালে শুরু করে 2019 সালেই উদ্বোধন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইতিহাস রচনাকারী এই মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় 60,000 যাত্রী বহন করবে এবং প্রতি চার মিনিট পর পর একটি ট্রেন 1800 যাত্রী নিয়ে রওনা হয়ে দৈনিক 24 টি ট্রেন 5,00,000 যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাবে।16 টি স্টেশনের প্রতিটিতে দাড়াবে মাত্র 40 সেকেন্ড।ফুটপাত থেকে এসকেলেটর বা সিঁড়ির মাধ্যমে এই ট্রেনে উঠা যাবে।যেখানে 2,3 কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে 3,4 ঘন্টা সময় লাগে,সেখানে এই রেল ঢাকা শহরেরে গুরুত্বপূর্ণ 20 কি.মি. পথ পাড়ি দেবে মাত্র 38 মিনিটে!

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নতি
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নতি
এই রেল চলতে প্রতি ঘন্টায় বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে 13 মেগাওয়াট যার যোগানে নিয়েজিত থাকবে পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।


জ্যামের শহর ঢাকাতে দশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যেখানে সকালে বের হলে দুপুরে পৌঁছাতে হয়,সেই শহরবাসী এখন যাতায়াতে ঘন্টার হিসাব থেকে বেরিয়ে মিনিটের হিসাবে পা রাখতে যাচ্ছে।আপনি স্বীকার করুন আর না করুন,রাজধানী হওয়াতে আধুনিক যুগেও আমাদেরকে চাকরীর পরীক্ষাসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ
আমাদের দক্ষতা ও প্রত্যাশা

আমাদের দক্ষতা ও প্রত্যাশা

ANALYSING THE WORLD
বাঙালিরা দেওয়ার চেয়ে নেওয়ায় পটু,যোগ্যতার তুলনায় চায় বেশি•••
আমরা প্রতিদিন দেশের বেকারত্ব,চাকরী সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনায় মুখে ফেনা তুলি,কখনো নিজেদের অবস্থান যাচাই করি না।

আমাদের দক্ষতা ও প্রত্যাশা


সফল ব্যক্তিগণ সর্বদাই বলে থাকেন,দক্ষতা অর্জন কর,যা কখনো বৃথা যায় না।দক্ষ ব্যক্তি কখনো বেকার থাকে না•••
এটি বোঝা যাবে বাংলাদেশের সার্বিক কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে একটু ধারণা নিলেই।


কিছুদিন পূর্বে ঢাকার কালৈয়াকরে হাইটেক পার্ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।তাঁর আগমন উপলক্ষে সেখানে দশ হাজার মানুষকে চাকরী দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়,যা বিভিন্ন কোম্পানির শূন্যপদের ভিত্তিতে গঠিত হয়।এই দশ হাজার কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন করেন ত্রিশ হাজার ব্যক্তি।যথাসময়ে চাকরীর সাক্ষাৎকার শুরু হল।সাক্ষাৎকার শেষে নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা দাড়ালো মাত্র••••••17 জন!
9,983 টি পদ খালি থেকে গেল! মিডিয়া এমন বিস্ময়কর ঘটনার হেতু জানতে চাইলো কোম্পানিগুলোর নিকট•••
কোম্পানিগুলোর জবাবের সারমর্ম হল,"আমরা এমন যোগ্য লোক পাইনি যারা আমাদের কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে;যাদের যোগ্য হিসেবে পেয়েছি,তাদের নিয়েছি।আমরা তো এখানে লোক নিতেই এসেছি,না নেয়ার কোন কারণ নেই•••"


দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি

ANALYSING THE WORLD
চলছে নতুন বছরের হালচাল বোঝার পর্ব;এই 2019 আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে তা নিয়ে টিভি,পত্রিকায় উষ্ণ হাওয়া দিচ্ছেন গবেষকরা।চলুন আমরা দেখি 2019 আমাদের দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে কেমন বার্তা দিচ্ছে•••


দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ এবং মতামত চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার আভাস দিলেও এর মাঝে রয়েছে অনেক কথা,অনেক শর্ত•••


গত দশ বছর ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি 6-7 এর ঘরে উঠানামা করলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী আশানুরূপ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে কর্মসংস্থানের যথাযথ ব্যবস্থা হবে না,এটাই স্বাভাবিক।
তাই নতুন বছরে আমাদের অর্থনীতিকে এমনভাবে সাজানো উচিত যার ফলে যেকোনভাবে তৃণমূলেও এর সুফল পৌঁছে যাবে।


দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দুটি হল:-পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল।বছরের শেষে প্রকল্পগুলোর যবনিকা টানার কথা রয়েছে।এই দুটি প্রকল্পের উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি পাল্টে যাওয়ার গল্প•••

পদ্মা সেতুর ফলে উত্তরাঞ্চলে শিল্পের বিপ্লব ঘটবে,যার ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুততর হবে।অপরদিকে মেট্রোরেল দেশের হৃৎপিন্ড ঢাকা শহরকে দেবে অভাবনিয় চাঞ্চল্য,যার প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক কাজে।দ্রুততর হবে মানুষের জীবনযাত্রা,যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমাজবিজ্ঞানীরা আলোচনা করছেন।


এছাড়াও 100 টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনার অংশ স্বরূপ এই বছর চট্টগ্রামে 2 টি,খুলনা ও সিলেটে 2 টিসহ মোট 4 টি অর্থনেতিক অঞ্চল তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।এর ফলাফল কর্মক্ষেত্রে কতটা প্রভাব বিস্তার করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরেকটি সুসংবাদ হল এই বছর দেশের মূল্যস্ফীতির পরিমাণ 537 এ নেমে এসেছে।


আশার বাণী তো অনেক শুনলেন,এবার আসা যাক মোদ্দ কথায়•••
অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবক ব্যাংক খাতে বেড়েছে বিশৃঙ্খলা এবং ঋণখেলাপীর পরিমাণ।খেলাপী ঋণের মাত্রা এতই বেশি যে,তা সামলাতে অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংগুলোর অবহেলা যেন অর্থনীতির প্রধান বাঁধা হয়ে না দাড়ায়,সেই ব্যাপারে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে,যদি তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়।


এই বছরের অপর চ্যালেঞ্জ হল মূসক(মূল্য সংযোজন কর),যা 2017 সালে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার দুই বছরের জন্য স্থগিত করে।চলতি বছরের জুন মাসে পুনরায় এই কর আরোপ হওয়ার কথা রয়েছে।ব্যাংকের ঋণখেলাপীর বিশৃঙ্খলার সাথে এই করারোপ ব্যবসা ক্ষেত্রকে কতটা স্থিতিশীল রাখবে তা চিন্তা করে সরকার কর্তৃক ব্যবস্থা নেয়া হলে,দেশ এই বছর প্রবৃদ্ধিতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি
দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রস্তুতি

ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সম্প্রতি 2019 সালে বিশ্বপ্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে,তাতে দ্বিতীয় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।তাদের মতে এই বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মাত্রা 7•9 হবে।7•4 নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকবে ভুটান ও ভারত।


গত অক্টোবরে দ্য হংকং সাংহাই কর্পোরেশন 2030 সাল পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের 75 টি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে গবেষণা করেছে;যেখানে বলা হয়েছে বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে 2030 সালে বাংলাদেশ বিশ্বে 26তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে•••!
উল্লেখ্য যে,বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান 42তম।


এসব আশার বাণী ও স্বপ্ন সত্য হবে,যদি আমরা নিষ্ঠার সাথে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসা ক্ষেত্র স্থিতিশীল রাখতে পারি।আশা করি ভাল কিছুই হবে•••
কেননা এই বছরের অর্থনৈতিক অবস্থার আয়নাতেই দেখা যাবে আগামী চার বছরের অর্থনৈতিক হালচাল।

যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি

ANALYSING THE WORLD
আমেরিকা একটা যুদ্ধ-উন্মাদ দেশ। এটা হল দেশের ব্যাগরাউন্ড। আর ট্রাম্প একজন জাতিবিদ্বেষী ও সব সময় লেগে যাবার মত মানসিকতার লোক। এই দুটা বিষয় যখন একত্র হবে, বাস্তবতা অন্যরকম।
আগে দেখে নেয়া যাক, ট্রাম্প ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা কেমন...

যুক্তরাষ্ট্রের সমরনীতি

যুক্তরাষ্ট্র ৭০ টি দেশকে আক্রমণ করেছে, যা কল্পনা করাও অসম্ভব একটা ব্যাপার। [১]
ইদানিং তারা সহনশীল এবং সভ্য? গত বিশ বছরে তারা আক্রমণ করেছে ২২ টা দেশে। [২]
এমনকি ২০১৬ সালে, এই গত বছরেও তারা ৭ টা দেশে ২৬,১৭১ টি বোমাবর্ষণ করেছে। [৩]
হত্যা করেছে ২ কোটিরও বেশি মানুষ। [৪]
তাদের সামরিক ঘাঁটি আছে নিজ দেশের বাইরে আটশোরও বেশি অঞ্চলে। [৫]
তাদের প্রায় সকল প্রেসিডেন্টই কোন না কোন স্বাধীন সার্বভৌম দেশে হামলা করেছে। [৬]
সারা পৃথিবীজুড়ে স্বাধীন দেশে দেশে আক্রমণ করতে হলে তো বাজেট দরকার। হ্যা, ইউএসএ’র যুদ্ধ বাজেটটা এত বড় যে, পরের ১০ টা দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও তা বেশি। প্রতি বছর! [৭]
এবং তার পরও, ট্রাম্প তার দেশের যুদ্ধ বাজেটকে ২০১৮ সালে আরো ১৮ থেকে ৫৪ বিলিয়ন ডলার বাড়াতে যাচ্ছে। [৮]
এই সবকিছু করে যুক্তরাষ্ট্র কী অ্যাচিভ করছে? গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা, সাধারণ মানুষের মুক্তি? একনায়কতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র-জাতিবিদ্বেষ ও ঝুঁকিপূর্ণ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে মুক্তি? না। অন্তত ৩৫ টা দেশে আমেরিকা স্বৈরাচারী, একনায়ক, মাদক-ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অগণতান্ত্রিক শাসনকে টিকিয়ে রেখেছে বা ক্ষমতায় বসিয়েছে। [৯]
আমেরিকা কিন্তু শুধু ৭০ টা দেশে নিজে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি। পর্দার আড়ালে যত গণ-অবদমন, গণহত্যা, স্থিতিশীল সরকারের পতন, গৃহযুদ্ধ শুরু করা, জাতিগত নিপীড়ন- এসবে সরাসরি নিজেরা না থেকেও করিয়ে যাচ্ছে অহরহ। ১৯৫৩ সাল থেকে সিআইএ এ কাজ করে বেড়ায় সারা দুনিয়ায়। ৩২ টি দেশে তারা ৪০ টিরও বেশি সফল ক্যু বা সরকার পতন ঘটিয়েছে, আরো কয়েকগুণ বেশি পরিমাণে ব্যর্থ কিন্তু প্রাণঘাতী প্রচেষ্টা ছিল তাদের। [১০]
৫৭ টি দেশে তারা জনগণের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে ৭৫ বারেরও বেশি। [১১]
শুধু স্নায়ুযুদ্ধের সময়েই তাদের প্রচেষ্টা ছিল ৭২ টি। [১২]
আইনস্টনের তত্ত্ব ভুল ছিল!

আইনস্টনের তত্ত্ব ভুল ছিল!

ANALYSING THE WORLD
পাঞ্জাবের জলন্ধ্ররে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসর সম্মেলনে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আইজ্যাক নিউটন ও আইনস্টাইনের তত্ত্ব ভুল বলে দাবি করেছেন!
তারা এর বিপরীতে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্মীয় চিন্তাধারাগুলোকে উল্লেখ করে সাইলেন্ট বোমা ফাটালেন যেন।

আইনস্টনের তত্ত্ব ভুল ছিল!


অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাগেশ্বর জি রাও বলেন, হাজারো বছর আগেই ভারতে "স্টিম সেল" এর গবেষণা হয়েছে যা হিন্দু ধর্মীয় বইয়ে তিনে দেখেছেন এবং রামায়ণের প্রধান চরিত্র রাবণের ২৪ ধরনের বিমান ছিল যার অনেকগুলো অবতরণক্ষেত্র বর্তমান শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত।


তামিলনাড়ু থেকে আশা আরেক বিজ্ঞানী কে. জি. কৃষ্ণান বলেন, আইজেক নিউটন ও আলবার্ট আইনস্টাইন দুইজনেই ভুল ছিলেন এবং বর্তমানে মধ্যাকর্ষণশক্তির নতুন নাম হওয়া উচিত "নরেন্দ্র মোদি তরঙ্গ"!

কিছুদিন একাধারে আমাদের নিজ দক্ষতা ও অবস্থা নিয়ে সিরিয়াস কিছু পোস্টের করার পর আজ নিয়ে এলাম 'সত্য বিনোদন'

আইনস্টনের তত্ত্ব ভুল ছিল!
আইনস্টনের তত্ত্ব ভুল ছিল!

এই খবরটি ভিটিও এডিটররা ভালভাবে এডিট করে ইউটিউবে নিজ চ্যানেলে পোস্ট করলে ভালই ভিউ হবে বলে মনেহয় আমার। আমার চ্যানেলে বিনোদনমূলক পোস্ট দেয়ার সুযোগ না থাকায় দিতে পারছি না। আর এডিটরদের পাশে নিজ অবস্থান জানান দিতে তাদের সাহায্যে আমি একটি ক্যাপশন ভেবেছি•••
আর তা হলো "আইনস্টাইনের তত্ত্ব ভুল ছিল!?তথ্যপ্রমাণসহকারে দেখতে ক্লিক করুন এইখানে!"


ভারতীয় বিজ্ঞানীদের এমন উদ্ভট কান্ড ঘটানোর জন্য যদিও "এ ধরনের মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক" বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে আয়োজক সংস্থার সাধারন সম্পাদক; তবুও এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে•••


তারা সর্বদা সবকিছুতে নিজ দেশের স্বকীয়তা রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। সেটা যেভাবেই হোক, অন্যের সম্পদের পোদ্দারি করতে নারাজ ভারত। এর ধারাবাহিকতায় ভারতের ঐতিহ্য ও নাম স্মরণ করিয়ে দিতে এমন বোমা ফাটালেন বিজ্ঞানীরা।


তাদের এই জেদের কারণেই তারা আজ মহাকাশে গবেষক পাঠায়, অত্যাধুনিক গাড়ি তৈরি করে, বিশ্বের অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়, চীনের মত দেশের সাথে সামরিক খাতে প্রতিযোগিতা করে। আর তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা দেশ পাকিস্তানের সার্বিক অবস্থানের কথা শুনলে/দেখলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে মানুষ।


মহাকাশে বিভিন্ন যান পাঠানোয় এবং মহাকাশ গবেষণায় সর্বদা ভারতের নাম দেখা যায়, এদিক থেকে তারা রাশিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করার কথা চিন্তা করে। আর পাকিস্তানের নাম গবেষণা, অর্থনীতি, রাজনৈতিক সফলতা, কোন খাতে টর্চ দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যায় না। আমি তাদেরকে ছোট করছি না।পাকিস্তানের অনেক কিছু আছে যা গর্ব করার মত, কিন্তু তাদের জাতিয়তাবোধের স্বল্পতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তারা আজ এই অবস্থানে চলে গেছে•••


উগ্র জাতিয়তাবোধ কখনো সুফল আনে না, আবার সাধারণ জাতিয়তাবোধের অভাব হলেও উন্নতি হয় না। দেশের সব শ্রেণীর মানুষ যদি বিশ্বে নিজ দেশের নাম জানিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করে তাহলে কখনো দেশটি পিছিয়ে থাকবে না•••
পাকিস্তানের ভেতরে বাংলাদেশ???

পাকিস্তানের ভেতরে বাংলাদেশ???

ANALYSING THE WORLD
আল-জাজিরার আপডেট দেখা আমার খেয়ালিপনা,যা করতে গিয়ে হঠাৎ উপর্যুক্ত সিরোনামের কলামটি চোখে পড়ল। আগ্রহ জাগল পিটিএম এমন কী,যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অপর একটি বাংলাদেশ সৃষ্টি করার আশা সৃষ্টি করেছে•••

পাকিস্তানের ভেতরে বাংলাদেশ???


পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশের পশতুন জাতি সেনাবাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট্য হয়ে "পশতুন তাহাফুজ মুভমেন্ট (পিটিএম)" গঠন করে; যা পরে "পশতুনিস্তান লিবারেশন আর্মি" । সর্বশেষ সেনাবাহিনীর গুলিতে পিটিএমের নেতা মৃত্যুর পর তাদের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। যার অন্যতম কারণ হল উক্ত নিহত নেতাকে কিছুদিন পরেই পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট নির্দোষ বলে ঘোষণা দেয়া••



নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিলেও মূলত তারাই সন্ত্রাসের শিকার। পশতুনদের শত শত নারী ও মানবাধীকার কর্মীদের অপহরণ করে যৌনদাসি হিসেবে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত করছে সেখানকার সেনাবাহিনী যার প্রেক্ষিতে স্বাধিকার আন্দোলন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাকিস্তানের ভেতরে বাংলাদেশ
পাকিস্তানের ভেতরে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক গবেষকরা বলছেন, ঠিক এভাবেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয় পাকিস্তান থেকে।যদি পাকিস্তান ৫০ বছর পূর্বের ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিয়ে থাকে,তবে তাদেরকে আবার দেখতে হবে রক্ত, যুদ্ধ, ধ্বংসাবশেষ, লজ্জা, গ্লানি; যা তাদেরকে পুনরায় এক হৃদয় বিদারক অভিজ্ঞতা দেবে•••
ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক

ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক

ANALYSING THE WORLD
এই কারেন্সিকে ফেসবুক অভ্যন্তরীণভাবে "লিব্রা" নামে ডাকছে। আগামী ১৮ জুন এই ক্রিপ্টোকারেন্সি গোটা দুনিয়ার সামনে নিয়ে আসবে মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিটি।


ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক


একসঙ্গে একগুচ্ছ কারেন্সি নিয়ে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি চলবে, ফলে খুব সহজে দাম ওঠানামা হবে না। লিব্রা নামক ক্রিপ্টোকারেন্সি লঞ্চ করে ডিজিটাল পেমেন্টে বিপ্লব আনতে চলছে ফেসবুক।বিভিন্ন টাকা ট্রান্সফারে খুব কম ফি দিয়ে এই কারেন্সি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও ক্রেডিট কার্ড পেমেন্টে থাকবে বিশেষ ছাড়।


লিব্রা নামক ক্রিপ্টোকারেন্সিটি হল একটি স্টেবলকয়েন। দরাদরি করার সময় যাতে কারেন্সির দাম কম না হয় সেই কারণে স্টেবলকয়েন হিসেবে লঞ্চ হবে লিব্রা। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছে কর্তৃপক্ষের।

ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক
ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক
মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোন ট্রান্সফার ফি ছাড়াই লেনদেন করা যাবে। এছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সি বদল করে এটিএম থেকে টাকা তোলা যাবে। ফেসবুক ব্লকচেইনের প্রধান ডেভিড মার্কাস এই ক্রিপ্টোকারেন্সি দেখাশোনা করছেন, যিনি আগে জনপ্রিয় পেমেন্ট সার্ভিস 
পে-পাল এর প্রধান ছিলেন।
নতুন ট্যাব চালু করছে ফেসবুক!

নতুন ট্যাব চালু করছে ফেসবুক!

ANALYSING THE WORLD
বিশ্বে বর্তমানে যেসব ভার্চুয়াল ক্রাইম হচ্ছে তন্মধ্য ফেইক নিউজ/ইনফরমেশন অন্যতম। যার প্রভাবে কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে অনেক লোক প্রাণ হারিয়েছে, যাকে আমরা গুজব বলে আখ্যা দিয়েছি। এই গুজবকে ঠেকাতে সরকারকে রীতিমতো অভিযানে নামতে হয়েছে, মানুষের জানের নিরাপত্তায় সরকারকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ/সেমিনার এবং মাইকিং-এ নামতে হয়েছে।


নতুন ট্যাব চালু করছে ফেসবুক!


এই ধরণের ফেইক নিউজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এবার এই ফেইক নিউজের লাগাম টানতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ সংবাদ জানাতে "নিউজ" ট্যাব চালু করছে ফেসবুক। ট্যাবটিতে ক্লিক করলেই বিশ্বের শীর্ষস্নীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম ও কন্টেন্টের প্রিভিও দেখা যাবে।

নতুন ট্যাব চালু করছে ফেসবুক!
নতুন ট্যাব চালু করছে ফেসবুক!

এজন্য  ABC NEWS, BLUMBERG, WASHINGTON POST সহ বিভিন্ন বিখ্যাত গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনাও জানাচ্ছে ফেসবুক। সব কিছু ঠিক থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ট্যাবটি চালু হতে পারে।
ভবিষ্যত বাহন জেটপ্যাক !

ভবিষ্যত বাহন জেটপ্যাক !

ANALYSING THE WORLD
বর্তমানে আমরা সকলেই যানজটের দুর্ভোগে অতিষ্ট। এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় যে যানজট হয়, তার মাসিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা! এবং এর প্রতিটি নাগরিক দৈনিক গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা যানজটের শিকার হয়।


ভবিষ্যত বাহন জেটপ্যাক


এই অসহনীয় যানজট পৃথিবী থেকে গায়েব করে দিতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই প্রচষ্টার ফলস্বরূপ একটি সুসংবাদ শোনাচ্চে আপনাদের...
বিজ্ঞানীরা জেটপ্যাক নামের এমন এক বাহন আবিষ্কার করেছেন, যা হবে আকাশের উবার ট্যাক্সির মত! স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে যেকেউ ডাকতে পারবে এই বাহনকে, অতঃপর সেই বাহন নিয়ে ব্যাক্তি উড়াল দেবে আকাশে!


জেটপ্যাক
জেটপ্যাক

নিউজিল্যান্ড ভিত্তিকে মার্টিন এয়ারক্রাফট ইতোমধ্যেই জেটপ্যাকের একটি প্রটোটাইপ তৈরি করেছে,যা মাটি থেকে দুই হাজার আটশো(2,800) ফুট উঁচুতে ঘন্টায় সাতাশ(27) মাইল বেগে আটাশ(28) মিনিট ধরে চলতে পারে। তবে এটি ব্যবহারের আগে দুর্ঘটনা প্রতিরোধী ব্যবস্থাপনা সংযুক্ত করা হবে এর সাথে।

হাউডি মোদি

হাউডি মোদি

ANALYSING THE WORLD
বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো কাশ্মির। যার ফলস্বরূপ হয়ত আমাদের এই শান্তির এশিয়া লাশের রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে পরিণত হতে পারে। কারণ ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশের তত্ত্বাবধায়করাই এবারের যুদ্ধ পারমাণবিক যুদ্ধে গড়াবে বলে নিশ্চিত করেছে।

হাউডি মোদি


কাশ্মির ইস্যুতে সাপোর্ট পেতে দুই দেশই জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কুটনৈতিকমহলে। আমাদেরকে এটা স্বীকার করতে হবে যে, বিশ্বরাজনীতিতে একধাপ এগিয়ে রয়েছে ভারত। এর অন্যতম কারণ হল ভারতের উদ্ভাবনি শক্তি, বিনিয়োগের সুযোগ, সঠিক পরিকল্পনার ফলে বিশ্ববাণিজ্যে নিজের পোক্ত অবস্থান এবং এর সুযোগ সন্ধানী কিছু সম্রাজ্যবাদী শক্তি।বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে পঙ্গু অর্থনীতি এবং কিছু প্রভাবশালী মিত্র দেশ।


পাকিস্তানের খুঁটি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রও এবার স্বার্থগত কারণে সুর পাল্টে ফেলেছে পাকিস্তানের প্রতি, যার সর্ববৃহৎ প্রমাণ দিল কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া HOWDY MODI  সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অন্য কোন রাষ্ট্রনায়ককে সংবর্ধনা দেয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই সর্ববৃহৎ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ৫০ হাজার ভারতীয়,যেখানে পুরো অনুষ্ঠানব্যাপীই ছিল ভারতীয় সংস্কৃতির আধিপত্য।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথে যেখানে অন্য প্রধানমন্ত্রীরা কয়েক মিনিট কাটাবার সময় পান,সেখানে ট্রাম্প পাক্কা দুই ঘন্টা সম্মেলনে ব্যয় করেন মোদির সাথে! বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে এই দুই নেতা একসাথে হাত ধরে স্টেজে আগমন করেন এবং ঘন ঘন করমর্দন ও কুটনৈতিক শিষ্টাচারের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত দেন। এই দুই নেতা যথারীতি বিশাল জনসভা এবং তাদের গুণকীর্তি শোনার ভক্ত যা তারা উক্ত অনুষ্ঠানে উপভোগ করেছেন।

মোদি তার বক্তব্যে নিজ দলের রাজনৈতিক শ্লোগানের সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ ট্রাম্প সরকারের নামে ব্যবহার করেন, তা হলো "আপ কি বার,ট্রাম্প সারকার"। আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট চান মোদি। ট্রাম্পও নিজের পক্ষে ভোট সংগ্রহের একটি বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার করেন এই অনুষ্ঠানকে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

ANALYSING THE WORLD
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি শিল্পবিপ্লব পাল্টে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ। প্রথম শিল্প বিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। তবে আগের তিনটি বিপ্লবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ডিজিটাল বিপ্লব,যাকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলা হচ্ছে।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লব



এই বিপ্লবের প্রভাব পৃথিবীতে নিঃসন্দেহে কয়েক গুণ বেশি এবং দ্রুততর হবে। অনেকের মতে এই বিপ্লব শুরু হয়েগেছে,আবার অনেকেই এখনো এর প্রস্তুতি নেয়ার মোক্ষম সময় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বাংলাদেশে এখনো এর হাওয়া লাগছে মাত্র যা পরিপূর্ণতা পেতে বছর পাঁচেক লাগতে পারে। পাঁচ বছর ভেবে আবার ঘুমোত যাওয়ার চিন্তা করছেন তো? না; এই বিপ্লবের প্রস্তুতির জন্য পাঁচ বছর সময় আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্বল্পই।


কারণ এর সাথে তাল মেলাতে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যথেষ্ট অত্যাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, প্রতিবছর স্নাতকোত্তর পাশ করা শিক্ষার্থীদেরকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ পরিচালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদেরকে এই সম্পর্কে জানতে হবে এবং দক্ষ হতে হবে।


ধারণা করা হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে ৬০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তখনকার চাকরীবাজার হয়ে যাবে বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং•••
সম্ভবত তখন চাকরী পেতে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে রিকয়ার্ড স্কিলগুলো সবার থাকতে হবে; চাকরীবাজার হয়ে যাবে আন্তর্জাতিক।


স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা করেছে বিশ্বে। এর প্রভাব সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত হলো এটি আন্তর্জাতিক লেনদেনে তড়িত গতি আনয়ন করবে; নেতিবাচক দিক হলো এর প্রভাবে বিশ্বে সম্পদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাট আকার ধারণ করবে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, যারা এর জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত থাকবে, তাদের জন্যে এই বিপ্লব কল্যাণ বয়ে আনবে, আর যারা পিছিয়ে পড়বে তাদের ঠাঁই হবে তলানিতে•••

আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

ANALYSING THE WORLD
গতকাল বিশ্বব্যাংকের Ease of Doing Business index 2020 নামক এক প্রতিবেদনে ব্যবসাকে সহজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ব র্যাংকিং-এ আট ধাপ এগিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।


আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

বিনিয়োগ,বিদ্যুৎ এবং ঋণ;এই তিনটি সূচকে বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে,তবে চুক্তি,পরিবেশ ইত্যাদি বাকি সাতটি সূচকে কোন পরিবর্তন হয়নি।

Ease of Doing Business index 2020
Ease of Doing Business index

এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড,অতঃপর সিঙ্গাপুর ও হংকং।দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমে রয়েছে ভারত।বাকি দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।190 টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান 168 তম,যেখানে গত বছর অবস্থান ছিল 176 তম। এর দ্বারা বোঝা যায় ব্যবসায়িক উন্নয়ন সাধন হলেও দৌড়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বাকি দেশগুলোর সাথে•••
আন্তর্জাতি পর্যালোচনায় ভারত

আন্তর্জাতি পর্যালোচনায় ভারত

ANALYSING THE WORLD
ভারতের যুগ যুগ ধরে চলে আসা সেই পুরোনো 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র খেতাব খুইয়েছে অনেক আগেই,যার সর্বশেষ স্বাক্ষর বিজেপি সরকারের বাবরি মসজিদের রায় ঘোষণা


আন্তর্জাতি পর্যালোচনায় ভারত

গত দশ মাসে হিন্দুত্ববাদী এই বাহিনী এত কাজ করেছে যে এরপর কী হতে যাচ্ছে তা ভাবতে গেলে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে মনে।আর তা আরো জেঁকে বসে,যখন দেখা যায় দেশব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সত্ত্বেও বিজেপির পতাকা পত পত করে উড়ছে।এর কারণস্বরূপ তাদের যেসব কাজ রয়েছে,তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা যেকোন কিছুই করতে পারে•••

আন্তর্জাতি পর্যালোচনায় ভারত
আন্তর্জাতি পর্যালোচনায় ভারত
          
চলুন কিছু অনুমান করা যাক কাশ্মীরের 370 ধরা বাতিল,বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বিজেপির ভবিষ্যত কার্যক্রম নিয়ে•••

1• নিখিল ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত হয়রানির প্রচলন।
(স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা:"হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিষ্টানদের ভারত ছাড়ার ভয় নেই")

2• অভিন্ন সিভিল কোড: হিন্দু ডানপন্থীদের দাবি অভিন্ন সিভিল কোড এবং স্বতন্ত্র ধর্মের ব্যক্তিগত আইন বাতিল করা।এর ফলে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠদের আইন অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে।

3• ধর্ম পরিবর্তনবিরোধী আইন: অনেকে রাজ্যের দাবি ধর্মত্যাগের বিরুদ্ধে আইন করা।কোন হিন্দু যাতে ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে দিক্ষিত হতে না পারে,কারণ ভারতে প্রায়ই খ্রিষ্টান মশনারি কর্তৃক ঘুষ দিয়ে হিন্দুদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরের ঘটনা ঘটে।

চিন্তার বিষয় হলো এসব দাবি কখন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিজেপি।অর্থনৈতিক মন্দা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে এখনই?নাকি 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনে নের্বাচনি-ইশতেহারে রেখে পরবর্তীতে•••?
শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা

ANALYSING THE WORLD
মানুষের বর্তমান পদক্ষেপ দিয়ে জানা যায় তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে।আর সেটা বৃহত্তর পরিসরে তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আরো সত্য।বলছি চলমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকারের কৌশুলী মনোভাবের কথা।

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা


শুনতে একটু খারাপ লাগলেও সত্য যে,আগে বাংলাদেশে নেতা হতো যারা কয়েকটা মার্ডার করেছে কিংবা এলাকার অসামাজিক কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত,সেটা যে সরকারের আমলই হোক•••

কিন্তু এই নীতিতে বর্তমানে ফাটল ধরিয়েছেন বিচক্ষণ নেত্রী,এই সরকারের নতুন মেয়াদের 35 জনের মন্ত্রী পরিষদের মাধ্যমেই প্রথম চমক দেখিয়েছেন তিনি।যেখানে রাখেননি নিজ পরিবারের একজনও,এবং স্বল্পবয়সী উদ্যোগী কয়েকজনকে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।


যেমন চট্টলার মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে নৌফেল।তিনি প্রকাশ্য রাজনীতিতে পিতার মৃত্যুর পরেই আসেন,আর এটা অনেকের কাছে আশ্চর্যের বিষয় ছিলো।কারণ নৌফেলের বেগ্রাউন্ড ছিলো যুক্তরাজ্যের লন্ডনের স্কুল অব ল থেকে ব্যারিস্টারী পাশ,এবং বিয়ে করেছে সেই দেশেরই একজন সাদা চামড়ার রমণীকে,তাদের সন্তান সন্তদীও দেখতে এই দেশের মতো না,সাদা চামড়া,চলাফেরায় বিদেশী ধাঁচ।এমন একজন মানুষ এসে এই উত্তাল শহরের প্রতিযোগীতাময় রাজনীতিতে বিশাল একটি গ্রুপের সামাল দেবেন এটা খুব কম মানুষই ভেবেছে।


চমক আরো দীর্ঘায়িত হলো যখন তাঁকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে দামি এবং গুরুত্বপূর্ণ 9-আসনে মনোনয়ন দেয়া হলো,এটা নিয়ে সিনিয়র বর্ষীয়ান নেতাদের মাঝে প্রচুর কানাঘুষা হলো,শেষ চমক দেয়া হলো তাকে মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়ে।


কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখুন,দিপু মনী(হার্ভার্ডের ডিগ্রীধারী) আর নৌফেল মিলে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কত দ্রুত আধুনিকায়ন করছে, ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়া,ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুলেই দুপুরের খাবার দেয়ার ব্যবস্থা,আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের দীর্ঘদিনের কান্না থামাতে,ফর্ম ফিলাপের কোটি টাকার বাণিজ্য বন্ধ করতে সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভর্তি পরীক্ষা নিতে কাজ শুরু,দারুণসব কাজ!


CHAIR MAKES A MAN!
তাঁর মতো আরেকজন হলেন চট্টলার অহংকার আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ,তিনি পিতার পরিচয় এবং বংশীয় সুবাদে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পদ পেয়েছিলেন গত সরকারে,কিন্তু কাজ এমন দেখিয়েছেন যে নেত্রী এইবার তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করলেন!


আরেকজন আছেন!তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী পলক! দারুণ একখান জিনিস!সত্যিকারের সেবা কাকে বলে এবং কাজ কীভাবে করতে হয় এটা তিনি দেখাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।তার দ্রুততর প্রযুক্তি উন্নয়নে এইবার বাংলাদেশ প্রযুক্তি খাতে বিশ্ব অঙ্গনে তিনটি পুরষ্কার জিতে নিয়েছে।বাংলাদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্যে এসব এওয়ার্ড,কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি টিমের নয়।


সর্বশেষ আসি নবনির্বাচিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন যুবলীগের কর্ণধার পরশের কথায়।তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা কি?তিনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে,এটাই।কিন্তু বলতে গেলে তাঁরও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই প্রতিযোগিদের তুলনায়।কিন্তু নেত্রী এমন একটি পদে তাঁকে বসালেন কী ভেবে?কেমন মানুষকে বসালেন?ভেবে দেখেছেন?


তাঁর ব্যাগ্রান্ডলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংলিশে মাস্টার্স শেষে ইউনিভার্সিটি অব কলরাডো থেকে ডিগ্রী নিয়ে এসে দশ বছর যাবৎ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।আরো চমৎকার বিষয় হলো তিনি সংস্কৃতি প্রেমী,ছেলেদের সাথে গান বাজনা,খেলাধুলাসহ ভালো বেস গিটার বাজান।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে নিয়ে এসে যুবলীগের চেয়ারম্যান করা,চট্টিখানি কথা নয়।

শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা
শিক্ষিত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা

উপর্যুক্ত সব ঘটনাবলি আর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাছাই থেকে এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নেতৃত্বে আসার সিস্টেমটা পাল্টে যাচ্ছে আর যোগ্যতাও ভিন্নরূপ নিচ্ছে।যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও সবার মুখে এখন ক্লিন ইমেজ,সৎ নেতৃত্ব আসবে ভাবছেন,যা আগে কখনো মানুষের মুখেও আসতো না।
আর শেখ হাসিনা যেসব মানুষকে বসাচ্ছেন নেতৃত্বে এবং যে পদ্ধতি ফলো করছেন,তা একটাই সুর তুলেছে•••
টার্গেট 2041,  আর তার খুঁটি শিক্ষিত কর্মবীর মানুষগুলো।
সুতরাং পড়ালেখা ছাইড়া খুন খারাবি কইরা বেশি দূর আগান যাইবো না বাছা•••
এনআরসি ও বাংলাদেশ

এনআরসি ও বাংলাদেশ

ANALYSING THE WORLD
গত 11 তারিখ বুধবার ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে আইন হিসেবে।কিন্তু এই আইন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক জনরোষ ও বিতর্ক।

এনআরসি ও বাংলাদেশ


■ প্রথমত কিসের ভিত্তিতে এনআরসির জন্য তিন দেশ তথা বাংলাদেশ,আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে বাছাই করা হয়েছে?

■দ্বিতীয়ত এর মাধ্যমে ছয়টি ধর্মের নাগরিক যদি জাতীয়তা পায়,তাহলে হাজারো রোহিঙ্গা কেন বাদ পড়বে?

■সর্বশেষ প্রশ্ন হলো যদি জাতীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে চায়,মানুষ ছাটাই করতে চায়,তাহলে এখানে কেন ধর্মীয় বিদ্বেষকে গুরুত্ব দেয়া হল?

অবৈধ নাগরিকের তালিকায় 19 লক্ষের মধ্যে 14 লক্ষই হিন্দু,5 লক্ষ মুসলিম।এই পাঁচ লক্ষ কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে?


এই বিল পাশের পর থেকেই ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। সরকারি দলের চোখ রাঙ্গানি, কারফিউ, সেনা মোতায়েন; সবকিছুকে উপেক্ষা করে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, শিলং, গোয়াহাটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনগণের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি বাস, ট্রেনসহ দোকান-পাটে আগুন জ্বলছে ধাউ ধাউ করে। রেল, সড়ক, অফিস বন্ধ। সরকার মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে, যা গতকাল চালু করেছে। বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত 7 জন নিহত হয়েছে পুরো দেশে।


প্রশ্ন হলো পুরো দেশ এতই অসন্তুষ্ট হলে সংসদে কিভাবে 311 এবং মাত্র 80 ভোটের বিশাল ব্যবধানে এই আইন পাশ হলো??
তারমানে এই যে,সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জনপ্রিয়তা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়,যার ফলাফল ভারত জুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে••• জানিনা এর শেষ কোথায়•••


গত কয়েকদিন আগে থেকে দিল্লিসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যেখানে জামেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশের পেটানো এবং দুইজন ছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ দশ জন আহত হওয়ার ঘটনাটি উপাচার্য আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছেন এবং রাষ্ট্রপতি থেকে এর কৈফিয়ত নেবেন বলেছেন।


পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশসহ ছয়টি অঙ্গরাজ্য এই আইন মানবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে সরকার যেভাবে দমন-পিড়নের চেষ্টা করছে তা দেখে বোঝাই যায়, সরকার জম্মু-কাশ্মিরের পথেই হাঁটছে।

এখন আসি কেন ভারতের ব্যাপার নিয়ে এত কথা বলছি•••
বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে,তা শুধু বাংলাদেশ নয়,পুরো উপমহাদেশের জন্যে ভয়ানক পরিণতি আনতে পারে। আমাদের মন্ত্রী এবং ভারত যতই চিৎকার করে বলুক "এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার,বাংলাদেশে কোন প্রভাব পড়বে না"। এটা হলো শিশুকে ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসির গান।


ইতোমধ্যেই গত কয়েকদিন বাংলাদেশে ভারত থেকে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। ধরা পড়েছে 50 জনের মত,আর এর তিন চারগুণ বেশি ঢুকেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। যারা ধরা পড়েছে, তারা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছে তাদেরকে পুলিশ ধরে নির্যাতন করছে,এবং বলছে তোমরা বাংলাদেশি তোমরা সেখানে চলে যাও•••(ঠিক রোহিঙ্গাদের মতো)

এনআরসি ও বাংলাদেশ
এনআরসি ও বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে ধর্মীয় বিভাজন কখনো সংঘাত ছাড়া ভাল কিছু বয়ে আনেনা,আর সংঘাত কখনো সীমাবদ্ধ থাকে না।এই এনআরসি পুরো উপমহাদেশে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।
ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই,সিলেটের কুশিয়ারা নদীর একপাশে বাংলাদেশের করিমগঞ্জ,অপরপাশে ভারতের জকিরগঞ্জ। ভারত বিভাগের সময় দুই ভাগে ভাগ হয়, দুই গ্রামে রয়েছে সকলের আত্মীয়। কিন্তু এনআরসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। তারা বলছে একই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের তিন জনের নাম তালিকায় আছে,দুই জনের নেই, এখন তারা কি করবে?


আর যতই আপন হোক, নতুন সদস্য পরিবারে এলে তাদের থাকার জায়গা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবকিছু মিলে একটি অস্থিরতা বয়ে আনবে। আমার প্রশ্ন হলো, এখন কি আমরা শেখ হাসিনাকে নির্দয় আখ্যা দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্যে প্রথমে যেভাবে আন্দোলন করেছিলাম, সেটা শুরু করবো? তারপর আবার কিছুদিন পর তাদের হঠানোর জন্য আন্দোলন করব?


আর যদি নতুনদের আশ্রয় দেই,মানুষের সাথে সংঘাতটাও আমরা টেনে আনব,তাহলে আমরা কী করব এখন???

বাংলাদেশ কী করবে?